ইরানের ৫২টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলার হুমকি ট্রাম্পের

trump
❏ রবিবার, জানুয়ারী ৫, ২০২০ আলোচিত

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ কোনো আমেরিকান কিংবা মার্কিন সম্পদে ইরান হামলা চালালে দেশটির ৫২টি স্থাপনায় পাল্টা আঘাত হানার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ইরানের রেভ্যুলুশনারি গার্ড কোরের জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তীব্র বিরোধিতা করেছে ডেমোক্রেট শিবির। কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইরান সোলাইমানি হত্যার প্রতিশোধ নেবে, ডেমোক্র্যাটদের এমন আশঙ্কার পর ট্রাম্প শনিবার একের পর এক টুইট বার্তায় এমন হুঁশিয়ারি দেন।

ইরানকে হুমকি দিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র তার নতুন নতুন সমরাস্ত্র অর্জন করতে দুই ট্রিলিয়ন ডলার খরচ করেছে। ইরান যদি মার্কিন কোনো ঘাঁটিতে আক্রমণ করে, তবে এ সমরাস্ত্র কোনো প্রকার দ্বিধা না করেই আমেরিকা ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবহার করবে।

আরেকটি টুইট বার্তায় ট্রাম্প লিখেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র মাত্র তার সামরিক সরঞ্জামের জন্য দু্ই ট্রিলিয়ন ডলার খরচ করেছে। বিশ্বে আমরা বৃহৎ এবং শ্রেষ্ঠতম! যদি ইরান কোনো আমেরিকান ঘাঁটিতে অথবা কোনো আমেরিকানকে হামলা করে, তবে নতুন সুন্দরতম এ অস্ত্রগুলো তাদের লক্ষ্য করে পাঠানো হবে…. কোনো দ্বিধা ছাড়াই!’

এর আগে অপর এক টুইটবার্তায় ইরানকে হুমকি দিয়ে ট্রাম্প লিখেন, ‘….ইরানি ৫২টি স্থানকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে (বহু বছর আগে ইরানের ৫২ আমেরিকান জিম্মির প্রতীকি) এগুলোর কিছু ইরান ও ইরানি সংস্কৃতির জন্য উচ্চতর গুরুত্বপূর্ণ এবং এ লক্ষ্যবস্তু ও ইরানে দ্রুততর ও কঠোরতর আঘাত হানা হবে। যুক্তরাষ্ট্র আর কোনো হুমকি দেখতে চায় না!’

এর আগে বৃহস্পতিবার দিনগত রাতে ইরাকের বাগদাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে মার্কিন বাহিনীর ড্রোন হামলায় মেজর জেনারেল কাসেম সোলেমানি ও ইরাকি শিয়া সশস্ত্র সংগঠন হাশাদ আশ-শাবির উপ-অধিনায়ক আবু মাহদি আল-মুহানদিসসহ ছয়জন নিহত হন।

মার্কিন এ হামলার পরিপ্রেক্ষিতে অঞ্চলটিতে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ওই ঘটনায় আয়াতোল্লাহ আলি খামেনি, পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফ, প্রতিরক্ষা মন্ত্রী আমির হাতামি, ইরানি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর সাবেক কমান্ডার মোহসেন রেজায়িসহ ইরানের উর্ধ্বতন পর্যায়ের বিভিন্ন নেতা সোলেমানি হত্যার ঘটনায় আমেরিকাকে চড়া মূল্য দিতে হবে বলে হুঁশিয়ারি জানিয়েছেন।

ইরানের সর্ব্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনি বলেছেন, সোলেমানির শহীদ হলেও তার কাজ বন্ধ থাকবে না। কিন্তু, যারা নিজেদের হাতে সোলেমানি ও অন্য শহীদদের রক্ত লাগিয়েছে তারা যেন তীব্র প্রতিশোধের অপেক্ষায় থাকে।