🕓 সংবাদ শিরোনাম
  • আজ মঙ্গলবার, ৪ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ ৷ ১৮ মে, ২০২১ ৷

রাতের আঁধারে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা, ছেলের হাত থেকে বাঁচতে থানায় বৃদ্ধা মা


❏ সোমবার, জানুয়ারী ৬, ২০২০ চট্টগ্রাম, দেশের খবর

আবদুল্লাহ রিয়েল, ফেনী প্রতিনিধি- ফেনীর সোনাগাজীতে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে বেলায়েত হোসেন সেলিম (৫০) নামের এক পাষন্ড ছেলে তার সত্তরোর্ধ্ব বৃদ্ধা মা নেহেনেকা (৭০) বেগমকে পুড়িয়ে হত্যা চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

শনিবার (০৪ জানুয়ারি) গভীর রাতে উপজলোর চরছান্দিয়া গ্রামের মোস্তাফা লন্ডনী বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। পরদিন সকালে বৃদ্ধা মা বাদি হয়ে ছেলে সেলিমসহ অজ্ঞতনামা ১০/১২ জনের বিরুদ্ধে সোনাগাজী মডেল থানায় বিচার চেয়ে ও নিজের নিরাপত্তা চেয়ে একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।

জানা যায়, সেলিম ও তার দুই ছোট ভাই একসাথে সৌদি আরব ছিলেন। তিন ভাইয়ের আয় করা টাকায় সেলিম সোনাগাজী পৌর শহরে একটি ছয় তলা ভবন তৈরী করেন, কিন্তু ভবনের জায়গা ও ভবন তার নিজের নামে করে এককভাবে ভোগ দখল করছে। এ নিয়ে ভাইদের মধ্যে দীর্ঘদিন বিরোধ চলে আসছে।

সেলিম পরিবার নিয়ে সোনাগাজী তার নতুন ভবনে বাস করলেও বৃদ্ধ মা ভাইদের সাথে গ্রামের বাড়িতে বসবাস করেন। মায়ের খোঁজ খবর রাখেন না সেলিম। মা ছোট ছেলেদের সম্পত্তি বুঝিয়ে দিতে বলায় বিভিন্ন সময় বাড়িতে এসে মাকে গালমন্দ করেন এবং মারধরও করেন।

এ নিয়ে মা বাদি হয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের নিকট বিচার দাবি করেন। পরে সিনিয়র ম্যাজিস্টেট আদালতেও একটি মামলা করেন। এতে আরো ক্ষিপ্ত হয় সেলিম বাড়ির উঠানে জোর পূর্বক একটি ঘর নির্মাণের চেষ্টা করেন। মা বাঁধা দিলে ঘটনার রাতে সেলিম দেশীয় অস্ত্র সস্ত্রসহ ১০/১২ জন সন্ত্রাসী নিয়ে গভীর রাতে নাম ধরে ডাকা ডাকি করে মর্হুমুহু ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায় এবং ঘরের চার পাশে পেট্রোল ঢেলে অগ্নিপাতের চেষ্টা করে।

এসময় ঘরের ভিতরের লোকজনের শোর চিৎকার ও ককটেলের শব্দে এলাকাবাসী ছুটে আসলে সেলিম তার সাঙ্গ পাঙ্গসহ ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। পরে এলাকাবাসী ঘরের সামনে দুই লিটার পেট্রাল ও একটি চুরি ককটেল দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থল হতে সেগুলো উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

বৃদ্ধা মেহেনেকা জানান, রাতের বেলায় সন্ত্রাসী নিয়ে এসে আমার গর্ভের সন্তান আমাকে গালাগাল করে ঘরের সামনে বিকট শব্দে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ও পেট্রোল দিয়ে আগুন লাগিয়ে আমাকে নুসরাতের মত পুড়িয়ে হত্যা চেষ্টা করে।

এ বিচার আল্লাহর কাছে দিলাম, আপনাদের কাছে দিলাম। আমি থানায়ও অভিযোগ দিছি, বিচার চাই।

সোনাগাজী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মইন উদ্দিন অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, এ ব্যাপারে তদন্ত করে শীগগিরই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।