🕓 সংবাদ শিরোনাম

খেলার আগে মাঠে ফিলিস্তিনের পতাকা ওড়ালেন কুড়িগ্রামের ক্রিকেটারেরাপাঁচ ঘণ্টা আটকে রেখে থানায় নেওয়া হলো প্রথম আলোর রোজিনা ইসলামকেকর্মস্থলে ফিরতে গাদাগাদি করে রাজধানীমুখী লাখো মানুষশেরপুরে পৃথক ঘটনায় একদিনে ৭ জনের মৃত্যুএক বিয়ে করে দ্বিতীয় বিয়ের জন্যে বড়যাত্রীসহ খুলনা গেল যুবক!আমার মৃত্যুর জন্য রনি দায়ী! চিরকুট লিখে স্কুল ছাত্রীর আত্মহত্যাইসরাইলীয় আগ্রাসনের  বিরুদ্ধে ইসলামী বিশ্বের নিন্দার নেতৃত্বে সৌদি আরবত্রিশালে সড়ক দূর্ঘটনায় ৩ জনের মৃত্যুতে নিহতের বাড়ীতে চলছে শোকের মাতমকলাপাড়ায় এক সন্তানের জননীর মরদেহ উদ্ধারটাঙ্গাইলে কৃষক শুকুর মাহমুদ হত্যা মামলায় গ্রেফতার-১

  • আজ মঙ্গলবার, ৪ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ ৷ ১৮ মে, ২০২১ ৷

পাকিস্তানের কারাগার থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কারামুক্তি

ban
❏ বুধবার, জানুয়ারী ৮, ২০২০ ফিচার

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্কঃ আজ ঐতিহাসিক ৮ জানুয়ারি। দীর্ঘ ৯ মাস পাকিস্তানের বন্দি শিবিরে কারাযন্ত্রণা ভোগের পর ১৯৭২ সালের এই দিনে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মুক্তি লাভ করেন।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী স্বাধীনতাকামী বাঙালি জাতির ওপর আক্রমণ শুরু করার পরই ধানমন্ডির বাড়ি থেকে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করে। তিনি পাকিস্তানের মিয়ানওয়ালি কারাগারে বন্দি ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধে শোচনীয় পরাজয়ের পর পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী বাধ্য হয়ে বঙ্গবন্ধুকে মুক্তি দেয়।

২৫ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেফতারের ২ দিন পরে তাকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী বন্দি অবস্থায় পশ্চিম পাকিস্তানের লাহোরের মিলানওয়ালী কারাগারের একটি নির্জন কক্ষে আবদ্ধ করে রাখে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ২৬ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতার আলোকে দেশে রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের ৯ মাস মিলানওয়ারী কারাগারের নির্জন কক্ষেই বন্দি অবস্থায় রাখা হয় এবং তাকে কোনো পত্রপত্রিকা পড়াসহ বাইরের পৃথিবী থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে রাখে ইয়াহিয়া-টিক্কা খানের সামরিক জান্তা।

১৯৭১-এর ১৬ ডিসেম্বর ঢাকার তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানের সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) ৯৩ হাজার পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের মধ্যদিয়ে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের বিজয় অর্জিত হলেও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তখনো পাক বাহিনীর কারাগারে বন্দি থাকায় স্বাধীনতার পূর্ণ আস্বাদ থেকে বঞ্চিত ছিল বাঙালি। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের ব্যাপক কূটনৈতিক চাপে এবং বিশ্ব শীর্ষ নেতাদের তীব্র সমালোচনার মুখে অবশেষে ১৯৭২ সালের ৭/ ৮ জানুয়ারির মধ্যরাতে পাকিস্তানের সরকার বাঙালির স্বাধীনতা আন্দোলনের মহান নেতা ও সে সময়ে বিশ্ব রাজনীতির অন্যতম প্রবাদ পুরুষ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়।

জুলফিকার আলী ভুট্টো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে মুক্তি দিয়ে ১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি খুব ভোর বেলা লাহোর বিমানবন্দর থেকে পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ার লাইন্সের একটি বিশেষ বিমানে তুলে দেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পাকিস্তানি বন্দি শিবির থেকে বহুল প্রত্যাশিত মুক্তির খবর বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়লে ৮ জানুয়ারি ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। চারিদিকে সৃষ্টি হয় ব্যাপক সাসপেন্স-ঠিক এ সময় বিশ্বের বহুল আলোচিত আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স-এর ওপর প্রথম শিরোনামে জানায় বাঙালির মহান নেতা শেখ মুজিবুর রহমান লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরে পৌঁছেছেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরে অবতরণের খবর ছড়িয়ে পড়লে বিবিসি টেলিভিন নিয়মিত অনুষ্ঠান স্থগিত করে দিয়ে লন্ডনের হিথ্রো বিমান বন্দরে শেখ মুজিবুর রহমানের অবতরণের খবর লাইভ প্রচার ও বিশেষ বুলেটিন শুরু করে-তাতে দেখা যায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান গলা খোলা শাদা শার্ট গায়ে এবং ধূসর রঙের স্যুট পরে মুখে পাইপ দেয়া অবস্থায় হাসি মুখে বলছেন-‘আপনারা দেখতেই পাচ্ছেন আমি সম্পূর্ণ সুস্থ অবস্থায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বন্দি শিবির থেকে মুক্তি পেয়ে রীতিমতো বেঁচে আছি।’

পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বন্দি শিবির থেকে মুক্তি পাওয়ার পরে লন্ডনের হোটেলে প্রথম সংবাদ সম্মেলনের ভাষণে বাঙালির স্বাধীনতা আন্দোলনের মহান নেতা বঙ্গবন্ধু আবেগময় কণ্ঠে প্রথমেই বললেন’ জয় বাংলা’ বাংলার মুক্তি সংগ্রামে আজ আমি স্বাধীনতার অপররিসীম এবং অনাবিল আনন্দ অনুভব করছি। এই মুক্তি সংগ্রামের চূড়ান্ত লক্ষ্য ছিল স্বাধীন সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ। আমার জনগণ যখন আমাকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে ঘোষণা করেছে-তখন আমি ‘রাষ্ট্রদ্রোহী’-এর দায়ে মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত আসামি হিসেবে একটি নির্জন ও পরিত্যক্ত সেলে বন্দি জীবন কাটাচ্ছি। বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রামে সমর্থন করার জন্য ভারত, সোভিয়েত ইউনিয়ন পোলান্ড, ফ্রান্স, বৃটেনকে আমি ধন্যবাদ জানাই।

বাঙালির জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দৃঢ় কণ্ঠে ঘোষণা করলেন-‘স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ এখন একটি বাস্তব সত্য-এ দেশকে বিশ্বের স্বীকৃতি দিতে হবে। বাংলাদেশ অবিলম্বে জাতিসংঘের সদস্য পদের জন্য আবেদন জানাবে।’