🕓 সংবাদ শিরোনাম

শরীয়তপু‌রে কৃষিঋণ পেতে হয়রানি, ব্যাংকে দালাল চ‌ক্রের দৌরাত্ম্য চর‌মে!স্কটল্যান্ডের সংস‌দে প্রথম বাংলা‌দেশি এমপি নবীগঞ্জের ফয়ছল চৌধুরীসিলেটে চাহিদামতো ইফতারি না দেয়ায় অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে হত্যা!করোনাকালে কিন্ডারগার্টেন ও নন-এমপিও শিক্ষকদের করুণ দশা!ওয়ালটন স্মার্টফোনে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ‘ঈদ সালামি’চাচীর পরকীয়ার কথা জেনে যাওয়ায় ভাতিজাকে নৃসংশ ভাবে খুনকেরাণীগঞ্জে দুই কিশোরীকে গণধর্ষণ, গ্রেপ্তার-৪চুয়াডাঙ্গায় পুলিশের উপর মাদক কারবারিদের হামলা: এস আইসহ আহত-৫রোজার মহিমায় মুগ্ধ হয়ে ভারতীয় তরুণীর ইসলাম গ্রহণপর্তুগালে সবচেয়ে বড় ঈদ জামাতের অনুমতি

  • আজ রবিবার,২৬ বৈশাখ, ১৪২৮ ৷ ৯ মে, ২০২১, সকাল ১০:১৪

ফেনীতে মুহুরী ও সিলোনীয়া নদীর বালু তোলা হচ্ছে ফ্রি স্টাইলে

❏ শুক্রবার, জানুয়ারী ১০, ২০২০ চট্টগ্রাম
Feni

আবদুল্লাহ রিয়েল, ফেনী প্রতিনিধি : ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার মুহুরী ও সিলোনীয়া নদীর বিভিন্ন স্থান থেকে অবৈধভাবে বালু তুলে বিক্রি করছে একটি চক্র। উপজেলার কোথাও সরকার নির্ধারিত কোন বালু মহাল না থাকলেও ওই চক্রের লোকজন ক্ষমতাসীন দলের ছত্রছায়ায় থাকায় বছরের পর বছর ধরে বালুর কারবার করছে। এতে করে বড় অংকের রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। অন্যদিকে পরিবেশও হুমকির মুখে পড়েছে।

গত বুধবার সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, বেলা ১২টার দিকে সদর ইউনিয়নের উত্তর বরইয়া এয়ার আহমদ ডিলার বাড়ি সংলগ্ন স্থানে একটি মিনিট্রাক (পিকআপ) ও একটি পাওয়ার ট্রলিতে বালু ভর্তি করে বিক্রি করা হয়েছে। বিক্রি করা ওই বালু ছাগলনাইয়ার করৈয়া এলাকায় যাচ্ছিল। বালু বিক্রির দায়িত্বে নিয়োজিত উপজেলা ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক শামীম মজুমদারের ভাই টিপু জানান, প্রতিদিন অর্ধশত পিকআপ ও পাওয়ার ট্রলিতে বিভিন্ন স্থানে বিক্রির জন্য পাঠানো হয়। প্রতি ঘনফুট ১০ টাকা হারে পিকআপ ভর্তি বিক্রি করা হয় ২ হাজার টাকায়। স্থানীয়রা জানায়, তৎসংলগ্ন মুহুরী নদী থেকে অবৈধভাবে উত্তোলন করা বালু ওই জমিতে স্তুপ করা হয়।

উল্টো চিত্র একই ইউনিয়নের দেড়পাড়া গ্রামে। সেখানে নদীর পাশে গাছ-গাছালি ঘেরা একটি জমিতে রাখা হয়েছে বালুর স্তুপ। সেখানে প্রবেশপথে একটি বাঁশ ফেলে রাখা হয়েছে। বাহির থেকে ভিতরের বালুর কারবার বোঝার সুযোগ নেই। উত্তর শ্রীপুর নাপিতকোনা এলাকায় নৌকা দিয়ে বালু উত্তোলন করা হয়। সেখানে কিছু বালু রাখা হয়েছে। অর্ডার পেলেই বালু তোলেন বলে জানিয়েছেন বিক্রির দায়িত্বে নিয়োজিত চাঁন মিয়া। তিনি জানান, এখানে প্রতি ফুট বালু ১৩টাকায় বিক্রি করা হয়।

এছাড়া মুন্সিরহাট ইউনিয়নের কমুয়া ও বদরপুরেও নৌকা দিয়ে বালু উত্তোলন করা হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, উপজেলা ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সামছুল হক ভূঞা রাশেদ ও সাধারণ সম্পাদক শামীম মজুমদার এসব বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছেন।

সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নুর ইসলাম জানান, বালু বিক্রি হচ্ছে আমি জানি, সবাই জানে। প্রশাসন মাঝেমধ্যে ব্যবস্থা নিলে তারা পিছু হটে। এরপর আবার পুরোদমে বালুর কারবার শুরু হয়।

উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) মোছা: সাবিনা ইয়াছমিন জানান, উপজেলার কোথাও কোন বালু মহাল নেই। তবুও বালু উত্তোলনের খবর পেয়ে অভিযান পরিচালনা করা হয়। মঙ্গলবারও তিনি অভিযানে বের হয়েছেন। তবে কাউকে পাননি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, বিভিন্ন সময় অভিযান চালিয়ে বালু উত্তোলন বন্ধ করেছি। বর্তমানে বালু উত্তোলন কিংবা বিক্রির বিষয়টি আমার জানা নেই। খবর পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান।

জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক ও জেলা বালু মহাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মো: ওয়াহিদুজজামান বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই। খোঁজখবর নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।