🕓 সংবাদ শিরোনাম

ইসরাইলকে সমর্থন দিয়েছে বিশ্বের ২৫টির মতো দেশ!বাংলাদেশিদের ভালোবাসা দেখে বিস্মিত ফিলিস্তিন রাষ্ট্রদূতঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যাত্রী পরিবহনের প্রতিযোগিতায় ট্রাক ও পিকআপখেলার আগে মাঠে ফিলিস্তিনের পতাকা ওড়ালেন কুড়িগ্রামের ক্রিকেটারেরাপাঁচ ঘণ্টা আটকে রেখে থানায় নেওয়া হলো প্রথম আলোর রোজিনা ইসলামকেকর্মস্থলে ফিরতে গাদাগাদি করে রাজধানীমুখী লাখো মানুষশেরপুরে পৃথক ঘটনায় একদিনে ৭ জনের মৃত্যুএক বিয়ে করে দ্বিতীয় বিয়ের জন্যে বড়যাত্রীসহ খুলনা গেল যুবক!আমার মৃত্যুর জন্য রনি দায়ী! চিরকুট লিখে স্কুল ছাত্রীর আত্মহত্যাইসরাইলীয় আগ্রাসনের  বিরুদ্ধে ইসলামী বিশ্বের নিন্দার নেতৃত্বে সৌদি আরব

  • আজ মঙ্গলবার, ৪ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ ৷ ১৮ মে, ২০২১ ৷

স্বাধীন দেশে জনকের ফিরে আসার দিন

ban
❏ শুক্রবার, জানুয়ারী ১০, ২০২০ ফিচার

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্কঃ ১০ জানুয়ারি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস। পাকিস্তানের বন্দীদশা থেকে মুক্তি পেয়ে ১৯৭২ সালের এদিন বেলা ১টা ৪১ মিনিটে জাতির এই অবিসংবাদিত নেতা সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের মাটিতে প্রত্যাবর্তন করেন।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ নিজ বাসা ধানমন্ডি ৩২ নাম্বার থেকে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী। সেইরাতেই পাকিস্তানি সেনাবাহিনী পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সংগ্রামকে ধুলিস্যাৎ করে দিতে ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামক গণহত্যা চালায় নিরস্ত্র জনগণের ওপর।

তবে গ্রেফতারের আগমুহূর্তেও কোনোধরণের আতঙ্ক ছুঁতে পারেনি শেখ মুজিবর রহমানকে। দূরদর্শিতার সাথে তিনি তার বিশ্বাসভাজনদের সকল দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়ে যান। একইসাথে তার বিশ্বাস ছিল দেশের সাধারণ জনগণের ওপর। তিনি জানতেন, তাঁর দেশের সাধারণ জনগণ কেবল যুদ্ধে অংশই নেবেনা, বরং বিজয় সুনিশ্চিত করবে।

এমনকি তিনি যখন কারাগারে বন্দি ছিলেন, সেসময় তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়ার কথা জানানো হয়, তাতেও বিন্দুমাত্র ভয় পাননি এই অকুতোভয় এই নেতা। কারণ তিনি জানতেন তাঁর মৃত্যু বাঙালিদের স্বাধীনতা এনে দিতে আরো বেশি অনুপ্রাণিত করবে। তৎকালীন তৎকালীন স্বৈরশাসক জেনারেল ইয়াহিয়া খান শেখ মুজিবকে হত্যার জন্য একটা আদেশ জারি করেন। কিন্তু মুজিব যে কারাগারে বন্দি ছিলেন সেখানকার জেলার ওই আদেশ না মেনে মুজিবকে অন্যত্র সরানোর চেষ্টা করেন।

১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি মুক্তির পরপরই তিনি বাংলাদেশে ছুটে আসতে চান, ভারতের সাথে সমস্যা থাকায় তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জুলফিকার আলি ভুট্টোকে তেহরান বা অন্যকোনো এয়ারওয়েজ বেছে নিতে বললে তিনি ব্রিটিশ এয়ারওয়েজে আসার সিদ্ধান্ত নেন। লন্ডনে প্রবেশের পর বিবিসিতে তিনি বিশ্ববাসীর উদ্দেশ্যে একটি ভাষণ দেন। তিনি যখন ভরাট কণ্ঠে তাঁর সুস্থতার কথা জানান, ঠিক সেই মুহূর্তটিতে লাখ লাখ বাঙালি আনন্দে আত্মহারা হয়ে পড়েন।

এরপর দিল্লিতে পৌঁছান অবিস্মরণীয় এই নেতা। ভারতের রাষ্ট্রপতি ভিভি গিরি, প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী, সমগ্র দেশবাসী তাঁকে উষ্ণ সংবর্ধনা দেন। এসময় তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অনন্য ভূমিকার জন্য ভারতবাসী ও তৎকালীন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর কাছে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।

বঙ্গবন্ধু ঢাকা এসে পৌঁছেন ১০ জানুয়ারি। ১৬ ডিসেম্বর চূড়ান্ত বিজয়ের পর বাঙালি জাতি বঙ্গবন্ধুকে প্রাণঢালা সংবর্ধনা জানানোর জন্য আকুল হয়ে অপেক্ষায় ছিল। আনন্দে আত্মহারা লাখ লাখ মানুষ ঢাকা বিমান বন্দর থেকে রেসকোর্স ময়দান পর্যন্ত তাকে স্বতঃস্ফূর্ত সংবর্ধনা জানান। বিকাল পাঁচটায় রেসকোর্স ময়দানে প্রায় ১০ লাখ লোকের উপস্থিতিতে তিনি ভাষণ দেন।

জনগণ নন্দিত শেখ মুজিব সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দাঁড়িয়ে তার ঐতিহাসিক ধ্রুপদি বক্তৃতায় বলেন, ‘যে মাটিকে আমি এত ভালবাসি, যে মানুষকে আমি এত ভালবাসি, যে জাতিকে আমি এত ভালবাসি, আমি জানতাম না সে বাংলায় আমি যেতে পারবো কিনা। আজ আমি বাংলায় ফিরে এসেছি বাংলার ভাইয়েদের কাছে, মায়েদের কাছে, বোনদের কাছে। বাংলা আমার স্বাধীন, বাংলাদেশ আজ স্বাধীন।’ সশ্রদ্ধ চিত্তে তিনি সবার ত্যাগের কথা স্মরণ করেন, সবাইকে দেশ গড়ার কাজে উদ্বুদ্ধ করেন।

স্বাধীনতার এত বছর পরেও সেই আনন্দ এতটুকুও ম্লান হয়নি। আজও দিনটিকে স্মরণ করতে দেশজুড়ে রয়েছে বিভিন্ন কর্মসূচী।

সময়ের কণ্ঠস্বর/ রোহান ইসলাম