• আজ বুধবার, ৫ মাঘ, ১৪২৮ ৷ ১৯ জানুয়ারি, ২০২২ ৷

বিরক্তিকর নাকডাকা বন্ধের সবচাইতে সহজ ৬ টি উপায়


❏ শনিবার, জানুয়ারী ১১, ২০২০ আপনার স্বাস্থ্য

স্বাস্থ্য ডেস্ক, সময়ের কণ্ঠস্বর- রাতের নীরবতা ভেঙে একটানা বা থেমে থেমে বিচিত্র স্বরে বিচিত্র লয়ে সে ডেকে যাচ্ছে। শব্দ কখনো বাড়ছে কখনো কমছে। কারও নাক ডাকছে। পাশের ঘরে হলে না হয় দরজা-জানালা বন্ধ করে, হালকা শব্দে গান ছেড়ে কোনো না-কোনোভাবে বাঁচলেন। কিন্তু নাক ডাকেন এমন কারও সঙ্গে একই বিছানায় ঘুমাতে হলে! হায় হায় রাতের ঘুমের একেবারে দফারফা! এ তো গেল যে শুনছে তাঁর অবস্থা। কিন্তু যিনি নাক ডাকেন, তাঁর কী হাল?

চিকিত্সকেরা বলছেন, নাক ডাকা অন্য অনেক স্বাস্থ্যসমস্যার পাশাপাশি উচ্চ রক্তচাপ এমনকি স্ট্রোকের ঝুঁকির আলামতও হতে পারে। তাই নিজের সুস্থতা এবং পাশের আপন মানুষটির কথা ভেবে হলেও নিজের নাক ডাকার বিরক্তিকর অভ্যাসটি দূর করা উচিত।

১) বিশেষজ্ঞরা বলেন যারা চিৎ হয়ে ঘুমান তারা বেশি নাক ডাকেন। তাই নাক ডাকা বন্ধ করতে যেকোনো এক দিকে কাত হয়ে ঘুমানোর অভ্যাস করুন।

২) নাক ডাকা সমস্যা সমাধানে পান করতে পারেন আপেল-গাজরের জুস এবং হলুদের তৈরি চা। এগুলো মিউকাস দূর করা এবং শ্বাসনালী চওড়া করতে সহায়তা করে। ফলে নাক ডাকা সমস্যা দূর হয়।

৩) অনেক সময় অ্যালার্জির কারণে মানুষ নাক ডাকতে পারেন। তাই একটু কষ্ট করে অ্যালার্জি টেস্ট করিয়ে নিন। যেসকল জিনিসে অ্যালার্জি রয়েছে তা এড়িয়ে চললেই নাক ডাকা বন্ধ করতে পারবেন।

৪) ধূমপানের ফলে মানুষজন নাক ডাকেন। সুতরাং পাশের মানুষটিকে কষ্ট দিতে না চাইলে ধূমপান বন্ধ করুন।

৫) একেক দিন একেক সময়ে ঘুমানো, কম ঘুম ইত্যাদির কারণেও মানুষ নাক ডাকেন। তাই একই সময়ে এবং পরিমিত ঘুমানোর চেষ্টা করুন।

৬) অনেক বেশি ওজনের মানুষজন নাক ডাকেন। কারণ গলার কাছের মেদ বাতাস চলাচলে বিঘ্ন ঘটায়। এতে করে নাক ডাকার সমস্যা শুরু হয়। তাই ওজনটা একটু নিয়ন্ত্রনে রাখার চেষ্টা করুন।

৭)  ঘরে বিছানায় বেশি ধুলাবালি থাকলে শ্বাস প্রশ্বাসে সমস্যা হয় অনেকের। নাকের নালিতে ধুলা সংক্রমিত হয়ে নাকের পেশি ফুলে উঠতে পারে। এ কারণে নাক ডাকার শব্দ হতে পারে। তাই বিছানা ও ঘর ভালো মত পরিষ্কার রাখা দরকার।

স্থায়ী সমাধান
যদি এই নাক ডাকার শব্দের কারণে খুব বেশি ঝামেলার দেখা দেয় বা মাত্রা ছাড়া হয় তাহলে আপনার উচিত এটার স্থায়ী সমাধানের পথে হাঁটা। একজন নাক-কান-গলারোগ বিশেষজ্ঞ সার্জনের কাছে যান। এখন অনেক আধুনিক চিকিৎসা দিয়ে এই সমস্যা দূর করা সম্ভব। লেজার রশ্মির মাধ্যমে নাকের ও জিহ্বার পেছনের শ্বাসনালির সংকুচিত অবস্থা দূর করা যায়। এই অপারেশন খুব বেশি সময়সাপেক্ষও নয়। তবে তা করতে অবশ্যই দক্ষ অস্ত্রোপচার বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হোন।