সংবাদ শিরোনাম
  • আজ ৮ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

‘যুক্তরাষ্ট্রের চারটি দূতাবাস টার্গেট করেছিল ইরান’

৩:৪৮ অপরাহ্ণ | শনিবার, জানুয়ারি ১১, ২০২০ আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক- যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের শীর্ষ জেনারেলকে যখন হত্যা করা হয় তখন চারটি মার্কিন দূতাবাসে হামলার পরিকল্পনা করছিল তেহরান।

যখন ট্রাম্পকে জিজ্ঞাসা করা হয় যে, কোন ধরণের হুমকি শুক্রবারের ড্রোন হামলার পেছনে কাজ করেছে তখন তিনি বলেন, “আমি এটুকু বলতে পারি যে, আমার বিশ্বাস এটা হয়তো চারটি দূতাবাস ছিল।”

বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসের বাইরে কয়েক দিন ধরে বিক্ষোভের পর জেনারেল কাসেম সোলেইমানি যাকে কিনা ইরানের জাতীয় নায়ক হিসেবে দেখা হতো, তাকে হত্যা করা হয়। কিন্তু ড্রোন হামলা সম্পর্কে ডেমোক্রেটরা যে গোয়েন্দা তথ্য দিয়েছে তাতে তারা বলেছে যে দূতাবাসে হামলার পরিকল্পনার কোন প্রমাণ পায়নি তারা।

বৃহস্পতিবার ট্রাম্প দূতাবাসে হামলার পরিকল্পনার অভিযোগ প্রথমে হোয়াইট হাউসে আনেন। পরে তিনি সেদিন রাতে ওহাইয়োতে একটি র‍্যালিতে গিয়ে আবারো একই অভিযোগ করেন। তার এই অভিযোগে সমর্থন দেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও।

“আমাদের কাছে আসন্ন হামলার হুমকির সুনির্দিষ্ট তথ্য ছিল এবং এই হুমকির মধ্যে মার্কিন দূতাবাসগুলোও ছিল,” ইরানের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার সময় তিনি এসব কথা বলেন।

৬২ বছর বয়সী সোলেইমানি মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সব কর্মসূচীর মূল হোতা ছিলেন। বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সিরীয় সরকারের লড়াই এবং ইরাকে ইরানপন্থী আধা সামরিক বাহিনীর উত্থানেরও কারিগর ছিলেন তিনি। ট্রাম্প এবং পম্পেও দাবি করেছেন, হাজার হাজার মৃত্যুর জন্য দায়ী ছিলেন তিনি।

শুক্রবার মার্কিন গণমাধ্যমে বলা হয়, গত ৩রা জানুয়ারি ইয়েমেনে বসবাসরত গুরুত্বপূর্ণ ইরানি কমান্ডার এবং অর্থায়নকারী আব্দুল রেজা শাহলাই-কেও টার্গেট করেছিল মার্কিন বাহিনী। তারা বেনামী এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলে, গোপন ওই মিশনে মারা যাননি ওই কমান্ডার। তবে ইয়েমেনে অভিযান চালানোর বিষয়ে এখনো সরাসরি কোন মন্তব্য করেনি ওয়াশিংটন।

ট্রাম্প কি বলেছেন?
গত বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে পরিবেশ বিষয়ক এক অনুষ্ঠানে এ বিষয়ে ট্রাম্প প্রথমবার মন্তব্য করেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, তিনি হামলার অনুমোদন দিয়েছেন কারণ ইরান “আমাদের দূতাবাসগুলো উড়িয়ে দিতে চাইছিল।”

তিনি আরও বলেন যে, এটা “নিশ্চিত” যে, “বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসে বিক্ষোভকারীরা যে হামলা চালিয়েছিল সোলেইমানির মৃত্যুর কয়েক দিন আগে ইরানই তার আয়োজন করেছিল।”

“আর আপনারা জানেন যে কে এটা আয়োজন করেছিল। সেই ব্যক্তি এখন আর কোথাও নেই। ঠিক আছে? আর তার পরিকল্পনায় আরো কয়েকটি নির্দিষ্ট দূতাবাসের কথা মাথায় ছিল।”

ওহাইয়োতে, এক ভরা সভায় মিস্টার ট্রাম্প বলেন যে, “সোলেইমানি সক্রিয়ভাবে নতুন হামলার পরিকল্পনা করছিলেন, আর শুধু বাগদাদের দূতাবাসই নয় বরং তিনি আমাদের অন্য দূতাবাসগুলোকেও গুরুত্বের দিচ্ছিলেন।”

এদিকে ডেমোক্রেটরা অভিযোগ করেছে যে, হোয়াইট হাউস এ বিষয়ে আগে থেকে আইনপ্রণেতাদের যথাযথ প্রজ্ঞাপন দেয়নি। এ অভিযোগে প্রেক্ষিতে ট্রাম্প তাদের উপহাস করে বলেন যে, তাহলে ডেমোক্রেটরা মার্কিন সামরিক পরিকল্পনা মিডিয়ার কাছে ফাঁস করে দিত।