‘আরেকটা ১৫ আগস্ট ঘটানোর ষড়যন্ত্র হচ্ছে’- শামীম ওসমান

১০:২০ অপরাহ্ণ | শনিবার, জানুয়ারি ১১, ২০২০ ঢাকা
oasman

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্কঃ নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ শামীম ওসমান বলেছেন, শেখ হাসিনাকে টার্গেট করে আরো একটা ১৫ আগস্ট করার জন্য মাথার উপরে শকুনরা ঘুরছে। সেটা হলে বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষমতায় থাকবে কি না? আমার যতেষ্ঠ সন্দেহ রয়েছে।

শনিবার দুপুরে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা কার্যালয়ে ‘বঙ্গবন্ধু উন্নয়ন দর্শন’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন।

শামীম ওসমান বলেন, সারাদেশে এখন বঙ্গবন্ধুর জয়জয়কার কিন্ত ১৯৭৫ সালের বঙ্গবন্ধুর হত্যাকান্ডের পর আমরা কোথায় ছিলাম? জেগে উঠতে পারিনি কেন? এর কারণ আমরা অপ্রস্তুত ছিলাম। পাকিস্তানী বাহিনী যেখানে দুইবার বঙ্গবন্ধুকে ফাঁসির মঞ্চে নিয়েও ফাঁসি দিতে পারেনি দুঃখজনক হলেও এইদেশেই আমরা লোকটিকে মেরে ফেললাম। তাকে মারতে মার্কিন সপ্তম বাহিনী, পাকিস্তানের বাহিনী কিংবা অন্য কেউ আসেনি।

শামীম ওসমান বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার ভাষণে ন্যায্যতার গণতন্ত্রের কথা বলেছিলেন। কিন্ত আমরা যারা রাজনীতি করি তারা ন্যায্য কথা খুব কম মানুষই বলি। আমাদের দেশে অনেক ধরণের মানুষ আছে। এরমধ্যে ৮০ শতাংশ মানুষ কোনো কথা বলেনা। মাত্র ২০ শতাংশ মানুষ কথা বলে। এর মধ্যেই রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক, প্রশাসন, ভালো বুদ্ধিজীবী এবং দুই নম্বর বুদ্ধিজীবীরা কথা বলে। এদের কেউ পাকিস্তানপন্থী, কেউ আমেরিকাপন্থী, কেউ ভারতপন্থী হয়ে কথা বলে। বঙ্গবন্ধুর সাথে সকলের পার্থক্যটা হলো বঙ্গবন্ধু কোনপন্থী হয়ে কথা বলেননি। তিনি শুধু জনগণপন্থী হয়ে জনগণের কথা বলেছেন।

মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আমার বাবা, দুই ভাই মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন, আমিও নিজের চোখে মুক্তিযুদ্ধ দেখেছি। নারায়ণগঞ্জে আমি এমন অনেক মুক্তিযোদ্ধাকে চিনি যাদের ঘরে ভাত নাই, প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের কাফনের কাপড় কেনার পয়সাও হয়না। সরকার অনুদান দেয়ায় তারা সম্মানিটা পাচ্ছেন। কিন্ত স্বাধীনতার পরে এটাও দেখেছি যে, অনেকেই মুক্তিযুদ্ধের নাম নিয়ে জমিদখল, ভূমিদস্যুতা করে মুক্তিযোদ্ধাদের নাম বেঁচে ওরা সম্পদের পাহাড় গড়েছে। আমাদের খুঁজে দেখা প্রয়োজন ৭১র আগে কার কি সম্পদ ছিলো এবং ৭১র পরে মুক্তিযুদ্ধের নাম ভাঙিয়ে কারা কত সম্পদ কামিয়েছে? বঙ্গবন্ধু হত্যা তাদের পিছনে তাদের অবদানও কিন্ত কমনা। শুধু রাজাকার আলসামসদের দায়ী করলে হবেনা। তাই আপনাদের সকলের কাছে অমি আহবান জানাই সত্যকে সত্য বলেন। যারা সমাজকে পুড়ে পুড়ে খাওয়ার চেষ্টা করেন, যারা বুদ্ধিজীবী হয়ে নিজেদের বুদ্ধি বিক্রি করার চেষ্টা করে।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদা বারিকের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দিন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবু হাসনাত শহীদ বাদলসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।