ইরানি বিক্ষোভকারীদের পাশে আছি: ট্রাম্প

১:০৪ অপরাহ্ণ | রবিবার, জানুয়ারি ১২, ২০২০ আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক- ইরানের রাজধানী তেহরানে কয়েকশ বিক্ষোভকারী রাস্তায় নেমে ক্ষোভ প্রকাশ করছে। ইউক্রেনের একটি যাত্রীবাহী বিমান, ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে ভূপাতিত করার বিষয়টি শুরুতে অস্বীকার করার কারণে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মিথ্যাবাদী বলে অভিহিত করেছে তারা।

অন্তত দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে এই বিক্ষোভ হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই বিক্ষোভের প্রতি তার সমর্থন জানিয়েছেন।

রোববার (১২ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এ তথ্য জানায়। খবরে বলা হয়, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইউক্রেনের প্লেন বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় শনিবার (১১ জানুয়ারি) ইরানের রাজধানী তেহরানে বিক্ষোভ করেন কয়েকশ’ মানুষ।

বিক্ষোভকারীদের ‘অনুপ্রেরণাদায়ী’ বলে মন্তব্য করে ইংরেজি ও ফারসি উভয় ভাষায় লেখা টুইটে ট্রাম্প বলেন, সাহসী ও নিপীড়িত ইরানিদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, প্রেসিডেন্সির শুরু থেকেই আমি ইরানিদের সঙ্গে রয়েছি। আমার সরকার ভবিষ্যতেও আপনাদের পাশে থাকবে। আপনাদের বিক্ষোভ আমরা নিবিড়ভাবে লক্ষ করছি। আপনাদের সাহস অনুপ্রেরণাদায়ী।

তিনি বলেন, চলমান এ বিক্ষোভ পর্যবেক্ষণ করতে মানবাধিকার সংগঠনগুলোকে সুযোগ দিতে হবে ইরান সরকারকে। আরেকটি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে ‘হত্যাযজ্ঞ’ মেনে নেওয়া হবে না। ইন্টারনেট বন্ধ করা চলবে না।

গত ৮ জানুয়ারি ইরানের তেহরান বিমানবন্দর থেকে ইউক্রেনের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া একটি বিমান বিধ্বস্ত হয়। এ ঘটনায় বিমানটিতে আরোহী ১৭৬ জনের সবাই নিহত হন। শুরুতে বিমানটি বিধ্বস্তের কারণ হিসেবে ইরান কর্তৃপক্ষ ‘কারিগরি ত্রুটি’কে চিহ্নিত করে।

তবে শুক্রবার কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো জানান, কারিগরি ত্রুটির কারণে নয়, বরং ইরানের ভূমি থেকে ছুঁড়া একটি মিসাইলের আঘাতে ভূপাতিত হয় যাত্রীবাহী বিমানটি। এরপর জাস্টিন ট্রুডোর বক্তব্যের সমর্থনে ভিডিও ফুটেজও প্রকাশ করা হয়। উল্লেখ্য, বিধ্বস্ত হওয়া বিমানটিতে ৬৩ জন কানাডার নাগরিক ছিলেন।

ঘটনার তিনদিন পর শনিবার প্রাথমিক বক্তব্য থেকে সরে আসে ইরান কর্তৃপক্ষ। এদিন ইরান কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে বলা হয়, তেহরানে বিধ্বস্ত হওয়া ইউক্রেনের যাত্রীবাহী বিমানটিকে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র ভেবে ‘ভুল করে’ ইরানের রেভ্যুলশনারি গার্ডস এর সেনারা মিসাইল হামলা চালিয়েছে। ইরানের সামরিক বাহিনীর তরফ থেকে জানানো হয়, যাত্রীবাহী বিমানে মিসাইল ছোড়ার বিষয়টি ইচ্ছাকৃত নয়। এটি মানবিক ভুল। যারা এজন্য দায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।