• আজ ৪ঠা কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শিশু তোফাজ্জল হত্যা মামলায় চাচা-ফুফুসহ ৭ জন রিমান্ডে

৬:৪৬ অপরাহ্ণ | সোমবার, জানুয়ারি ১৩, ২০২০ দেশের খবর, সিলেট

জাহাঙ্গীর আলম ভূঁইয়া, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি- সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে নৃশংসভাবে ৭ বছরের শিশু তোফাজ্জল হোসেন হত্যা মামলায় সেজাউল ও কালা মিয়া ৫ দিন ও শিউলি বেগম, রাসেল, হবি মিয়া, সোলেমান মিয়া ও লোকমান মিয়ার ৩ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

সোমবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরে আমল গ্রহণকারী জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শুভদীপ পালের আদালতে আসামিদের হাজির করলে আদালত এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এদিকে, সোমবার দুপুরে পুলিশ সুপার মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস দল শ্রীপুর (উত্তর) ইউনিয়নের বাঁশতলা গ্রামে অভিযান চালিয়ে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া হবি মিয়ার ছেলে রাসেল মিয়ার বসতঘরের কাঠের বাক্স থেকে একটি রক্তমাখা লুঙ্গি ও দু’টি ভেজা বালিশের কভার উদ্ধার করেছে।

সুনামগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, শিশুটির এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদের সনাক্ত ও এর রহস্য উদঘাটনের জন্য পুলিশ ৭ আসামিকে আদালতের মাধ্যমে রিমান্ডে নিয়েছে।

সোমবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে হবি মিয়ার ছেলে রাসেল মিয়ার বসতঘরের কাঠের বাক্স থেকে থেকে ভেজা একটি রক্তমাখা লুঙ্গি ও দু’টি বালিশের কভার জব্দ করা হয়। শিশু তোফাজ্জল হোসেন হত্যাকাণ্ড ও দ্রুততম সময়ে অধিক তদন্তের মাধ্যমে চার্জশিট গঠন করা হবে। খুনিদের কেউ রেহাই পাবে না।

জানাযায়, ৮ই জানুয়ারি নিখোঁজের পর ১১ জানুয়ারি ভোরে চোখ উপড়ানো ও পা ভাঙা তোফাজ্জলের লাশ বস্তায় ভরে প্রতিবেশীর বাড়ির পেছনে ফেলে রেখে যায় ঘাতকেরা। তোফাজ্জল তাহিরপুর উপজেলার সীমান্ত গ্রাম বাঁশতলার জোবায়ের হোসেনের ছেলে। এ ঘটনায় জোবায়ের হোসেন অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেছেন। পুলিশ শনিবার দু’দফায় চাচা ফুফুসহ ৭ জনকে আটক করেছিল।

গত রোববার দুপুরে তাহিরপুর থানা পুলিশ আদালতের মাদ্যমে কারাগারে যাদের পাঠানো হয়েছে তারা হলো- শিশু তোফাজ্জল হোসেনের চাচা সালমান হোসেন (২৫), লোকমান হোসেন (২১), ফুফু শিউলি আক্তার (১৯), শিউলি আক্তারের স্বামী সেজাউল করিম ও তার বাবা কালা মিয়া (৫৫), প্রতিবেশী হবিবুর রহমান (৫৫) তার ছেলে সারোয়ার হোসেন (২৩)।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ৮ জানুয়ারি বুধবার বিকেলে বাড়ির সামনে থেকে নিখোঁজ হয় শিশু তোফাজ্জল হোসেন। বাড়ি না ফেরায় স্বজনরা অনেক খোঁজ করেও তার সন্ধান পাননি। এ ঘটনায় তোফাজ্জলের দাদা ৯ জানুয়ারি থানায় জিডি করেন। জিডির দিন রাতেই কে বা কারা শিশু তোফাজ্জলের জুতাসহ ৮০ হাজার টাকা মুক্তিপণের একটি চিরকুট বাড়ির বারান্দায় রেখে যায়। এ বিষয়টি পরদিন পুলিশকে জানান পরিবারের লোকজন। শনিবার ভোরেই চোখ উপড়ানো লাশ বস্তায় ভরে প্রতিবেশীর বাড়ির পেছনে ফেলে যায় ঘাতকরা।

জানা গেছে, প্রায় ১ বছর আগে তোফাজ্জলের ফুফু শিউলি বেগমকে একই গ্রামের কালা মিয়ার ছেলে সেজাউল কবিরের কাছে বিয়ে দেওয়া হয়। বিয়ের পর থেকেই তোফাজ্জলের পরিবারের ঝগড়া চলছে। এ নিয়ে সেজাউলের বিরুদ্ধে মামলাও চলছে। দুই পরিবারের আত্মীয়দের মধ্যে এই কোন্দলের জের ধরেই শিশু তোফাজ্জলকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে পুলিশের ধারণা।

শিশু তোফাজ্জলের বাবা জুবায়ের হোসেন বলেন, সেজাউল কবির ও কালা মিয়া আমার ছেলেকে অপহরণ করে খুন করেছে। আমি তাদের শাস্তি চাই। এ ঘটনায় আমার পরিবারের কেউ জড়িত হলেও তাদেরও শাস্তি চাই। এদিকে সন্তানকে হারিয়ে মা রিয়া বেগম নির্বাক হয়ে গেছেন। তিনিও ছেলের ঘাতকদের ফাঁসি চান।