বাংলাদেশ নিয়ে বিভ্রান্তিকর পোস্ট: ক্ষমা চাইল অ্যামনেস্টি

১২:১৩ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, জানুয়ারি ১৫, ২০২০ আন্তর্জাতিক
ammesty-as

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ফেসবুক পোস্টে যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ার ছবি দিয়ে বাংলাদেশের নাম উল্লেখ করার বিষয়ে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবাধিকর সংস্থা ‘অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল’।

মঙ্গলবার সামাজিকমাধ্যমে ফেসবুকে এক পোস্টের মাধ্যমে সংস্থাটি তাদের ভুলের জন্য বাংলাদেশের কাছে ক্ষমা চায়। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ বিষয়ে তারা সচেতন থাকবে বলে উল্লেখ করে।

পোস্টে বলা হয়, “সংঘাত ও যুদ্ধময় দেশ, যেখানে মানুষ আক্রমণ, সংঘাত ও মৃত্যুর মুখোমুখি হচ্ছে- ফেইসবুক বিজ্ঞাপনে বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্ত করায় ক্ষমা চাচ্ছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।

“আমরা এই ভুলের জন্য বাংলাদেশের জনগণের এবং যারা এর মাধ্যমে মর্মাহত হয়েছেন, তাদের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাচ্ছি।”

বাংলাদেশ যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ নয় উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আমরা স্বীকার করছি যে, বাংলাদেশ যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের অন্তর্ভুক্ত নয়। বরং, মিয়ানমারে মানবতাবিরোধী অপরাধের শিকার হয়ে প্রায় ১০ লাখ মানুষ বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।

অ্যামনেস্টি তাদের ওই বিজ্ঞাপনটি সংশোধন করে নিয়েছে বলেও বিবৃতিতে জানানো হয়।

এর আগে যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ার একটি ছবি দিয়ে বাংলাদেশের নাম ব্যবহার করে ফেসবুকে বিভ্রান্তিকর পোস্ট দিয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি। নিজেদের ভেরিফাইড পেজে তারা ছবিটি পোস্ট করার পর বিতর্ক সৃষ্টি হয়। পরে অফিসিয়াল পেজ থেকে সেটি হাইড করা হয়।

অ্যামনেস্টির এই পোস্টের কমেন্ট বক্সে অনেকে তাদের এমন বক্তব্যকে ’বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যা’ অভিহিত করে মতামত দেন ফেইসবুক ব্যবহারকারীরা।

ওই পোস্টের নিচে অমিত হাসান নামে একজন লেখেন, “এই ছবি বাংলাদেশের জন্য চরম অবমাননাকর। অ্যামনেস্টি সিরিয়া, ইরাক, ইয়েমেন কিংবা সিরিয়ার জন্য কিছু করতে পারে না, বরং আমেরিকা ও অন্যদের স্বার্থ উদ্ধার করতে পারে। কী হাস্যকর!”

মনজুরুল ওয়াহিদ অনু নামে একজন লেখেন, “বর্তমানে বাংলাদেশ অত্যন্ত স্থিতিশীল রাষ্ট্র। বর্তমানে আমাদের দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রয়েছে। এমন শিরোনাম আপনারা কোথায় পেয়েছেন? কোথায় পেয়েছেন নিরপরাধ মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে? যে ছবি দেওয়া হচ্ছে তার স্থান কোথায়?

“আপনারা ছেলেখেলা করছেন নাকি পাগল হয়ে গেছেন? এই ছবি অন্য কোনো দেশের। এই ষড়যন্ত্রের জন্য কারা টাকা দিয়েছে?”

একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের দণ্ডের বিরোধিতার কারণে বাংলাদেশে সমালোচনায় পড়তে হয়েছিল অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালকে।