• আজ ৮ই ফাল্গুন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

হবিগঞ্জের পইল গ্রামে শুরু হয়েছে দুইদিন ব্যাপী ঐতিহ্যবাহী মাছের মেলা

৪:১২ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ১৬, ২০২০ দেশের খবর, সিলেট

মঈনুল হাসান রতন, হবিগঞ্জ প্রতিনিধি- হবিগঞ্জের পইলে শুরু হয়েছে দুইদিন ব্যাপী ঐতিহ্যবাহী মাছের মেলা। বুধবার (১৫ জানুয়ারি) বিকেল থেকে জমতে শুরু করে মাছের মেলা। মেলায় কয়েক হাজার মানুষের সমাগম ঘটেছে।

পৌষ সংক্রান্তি উপলক্ষে প্রতি বছরই এ মেলার আয়োজন করেন সদর উপজেলার পইল গ্রামবাসী। মেলায় প্রায় ৩৫ কেজি ওজনের বাঘাইড় মাছটি নিয়ে এসেছেন আহম্মদ আলী নামে এক মাছ ব্যবসায়ী।

দুইশ’ বছরের অধিক সময় ধরে চলে আসা এই মেলায় মাছ ছাড়াও বিভিন্ন ধরণের পণ্যের সমাগম ঘটে। ব্যবসায়িরা মিশুদের কেলনা ছাড়াও বিভিন্ন দেশীয় ঐতিহ্যবাহি পণ্য আর বাহারি সব খাবারের ফসরা সাজিয়ে বসেন। পইলসহ আশপাশের গ্রামগুলোর মানুষ এ মেলাটিকে তাদের পূর্ব পুরুষের ঐতিহ্য বলে ধারণ করেন।

মেলা দেখতে বুধবার দুপুরের পর থেকেই বিভিন্ন জায়গা থেকে মানুষ আসতে শুরু করেন। বিকেল হওয়ার আগেই মেলায় হাজার হাজার মানুষের ঢল নামে। শুধু হবিগঞ্জ জেলাই নয়, সিলেট, মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জ, ব্রাক্ষণবাড়িয়াসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মেলা দেখতে আসেন নারী-পুরুষরা।

বোয়াল, বাগাই, বড় আকৃতির আইড়, চিতল, গজার, রুই, কাতলসহ নানা প্রজাতির আকর্ষণীয় মাছ নিয়ে দূর-দূরান্ত থেকে আসেন বিক্রেতারাও। মেলায় সবচেয়ে বড় মাছটি নিয়ে এসেছেন আহম্মদ আলী নামে এক ব্যবসায়ী। প্রায় ৩৫ কেজি ওজনের বাঘাইড় মাছটির দাম হাঁকা হয়েছে ৬০ হাজার টাকা। শুধু বড় বড় মাছই নয়, পাশাপাশি দেশীয় নানা প্রজাতির ছোট মাছও পাওয়া যায় মেলায়।

প্রত্যেকটি দোকানের সামনেই মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। বেচাকেনাও চলে ব্যাপক। অনেকে মাছের দাম হাঁকাচ্ছেন, কিনছেন, আবার কেউ কেউ সেলফি তুলতেও ব্যস্ত ছিলেন।

মাছ বিক্রেতা আহম্মদ আলী বলেন, ‘মেলায় আমরাই সবচেয়ে বড় মাছ তুলেছি। ৩৫ কেজি ওজনের বাগাইড় মাছটি ৬০ হাজার টাকা দাম চেয়েছি। তবে সর্বনিম্ন ৪০ হাজার হলে বিক্রি করব।’

অন্য মাছ বিক্রেতা আব্দুল জলিল বলেন- ‘বিভিন্ন নদী ও হাওর থেকে মাছ আসে এখানে। আমি প্রতিবছরই এ মেলায় বিভিন্ন ধরণের ছোট-বড় মাছ নিয়ে আসি। এখানে প্রচুর মানুষের সমাগম ঘটায় খুব ভালো বেচা-কেনা হয়।

মেলা ঘুরতে আসা রহমত আলী বলেন- ‘প্রতি বছরই আমি মাছের মেলায় আসি। নিজের সাদ্য ও পছন্দ মতো মাছ কিনে নিয়ে যায়। রাজন মিয়া বলেন- ‘ঐতিহ্যবাহি এই মেলাটি এখন সীমিত হয়ে গেছে। কয়েক বছর আগে মেলার যে অবস্থা ছিল এখন আর নেই। মেলা বিভিন্ন ধরণের বড় বড় মাছ উঠত। কিন্তু এখন আর আগের মতো বড় মাছ উঠে না।

পইল ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ মঈনুল হক আরিফ বলেন, ‘মাছের মেলা আমাদের এলাকার ঐতিহ্য। এ মেলায় দূর-দূরান্ত থেকে দর্শনার্থীরা আসেন। মেলার সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মেলা কর্তৃপক্ষ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। আশা করি প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও সুন্দরভাবেই মেলা সম্পন্ন হবে।

হবিগঞ্জ পৌর মেয়র মিজানুর রহমান মিজান বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই এই মেলায় আসি। এখন ব্যস্ততার কারণে কোথাও যাওয়া হয় না, কিন্তু এরপরও এই মাছের মেলায় আসতে ভুল করি না।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, ‘মেলায় এসে ছোটবেলার কথা মনে পরে গেল। বাবার হাত ধরে মেলায় ঘুরার স্মৃতিগুলো যেন চোখের সামনে ভাসছে।

তিনি বলেন, ‘এই মাছের মেলাটি অত্যন্ত আকর্ষণীয়। কারণ এখানে বিভিন্ন নদ-নদী থেকে ধরা বড় বড় মাছ উঠেছে। আমি আশা করব সুন্দরভাবে মেলা শেষ হবে। কোন ধরণের অপ্রিতিকর ঘটনা ঘটবে না।’

Loading...