• আজ ১৪ই ফাল্গুন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

ধর্ষণ মামলায় কারাগারে: এখনো স্বপদে বহাল টাঙ্গাইলের সেই ছাত্রলীগ নেতা

৮:০৫ অপরাহ্ণ | শনিবার, জানুয়ারি ১৮, ২০২০ ঢাকা, দেশের খবর

মোল্লা তোফাজ্জল, টাঙ্গাইল প্রতিনিধি- কলেজ ছাত্রীকে ধর্ষণের মামলায় পুলিশ গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠালেও স্বপদেই বহাল আছেন টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরের ছাত্রলীগ নেতা আসিফুজ্জামান হৃদয় মন্ডল (২৫)।

গ্রেফতারের অর্ধমাস পেরিয়ে গেলেও ইবরাহীম খাঁ সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের এই সভাপতির বিরুদ্ধে নেওয়া হয়নি কোনো সাংগঠনিক ব্যবস্থা।

এদিকে ধর্ষণের মামলায় গ্রেফতার হওয়ার পরও হৃদয় মন্ডল ছাত্রলীগের সভাপতি পদে বহাল থাকায় কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। কিন্তু তার অনুসারীদের ভয়ে কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলতে রাজি নন।

অন্যদিকে ধর্ষণ মামলায় হৃদয় মণ্ডল পুলিশের হাতে গ্রেফতারের খবর গণমাধ্যমে প্রচার হলে নড়েচড়ে বসে জেলা ছাত্রলীগ। ঘটনার দুইদিন পর তার স্থায়ী বহিস্কার চেয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি/সাধারণ সম্পাদক বরাবর চিঠি দেওয়া হয়। কিন্তু ১৩ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো সেই চিঠির কোনো উত্তর পায়নি জেলা ছাত্রলীগ।

চিঠিতে জানানো হয়, ভূঞাপুর ইবরাহীম খা সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি আসিফুজ্জামান হৃদয় মন্ডলের উপর ওই কলেজের একজন ছাত্রী কর্তৃক আনীত ধর্ষণের অভিযোগের ভিক্তিতে গ্রেফতার হওয়ায় এবং পূর্বের অপহরণ এবং নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের একাধিক মামলা ও বিভিন্ন অসামাজিক কাজে লিপ্ত থাকায় তাকে স্থায়ী বহিস্কারের জন্য সুপারিশ করছি।

জেলা ছাত্রলীগের প্যাডে ওই চিঠিতে সাক্ষর করেন টাঙ্গাইল জেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান সোহেল, যুগ্ন আহ্বায়ক ভানভীরুল ইসলাম হিমেল, রনি আহমেদ, শাফিউল আলম মুকুল ও রাশেদুল হাসান জমি।

জানা গেছে, গ্রেফতার ছাত্রলীগ নেতা আসিফুজ্জামান হৃদয় মন্ডল ভূঞাপুর পৌরসভার ছাব্বিশা গ্রামের বাসিন্দা। তার বিরুদ্ধে চলতি মাসে ধর্ষণের মামলা ছাড়াও ২০১৭ সালে অপহরণ এবং নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা দায়ের হয়েছিল। ওই মামলা দুটিতে গ্রেফতার হলেও বর্তমানে তিনি জামিনে রয়েছেন।

সূত্র জানায়, স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতার ছত্রছায়ায় হৃদয় মণ্ডল বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। কলেজ শাখা ছাত্রলীগের শীর্ষ পদে থাকায় কাউকেই তোয়াক্কা করতেন না তিনি। দীর্ঘদিন ধরে সে কলেজের ছাত্রীদের উত্ত্যক্তসহ নিয়মিত বিভিন্ন অপকর্ম করে আসছিল। এমনকি বিভিন্ন সময় কলেজের শিক্ষকসহ দলের সিনিয়র নেতা-কর্মীদেরকেও প্রকাশ্যে লাঞ্চিত করতেন তিনি। কিন্তু ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠনের নেতা হওয়ায় প্রতিবাদ করার সাহস পেত না কেউ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়ুয়া বিবাহিত এক ছাত্রীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে হৃদয় মন্ডল নিয়মিত ধর্ষণ করত। মেয়েটি হৃদয়ের হাত থেকে বাঁচার জন্য একপর্যায়ে আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নেয়। দুই পুষ্ঠার চিরকুটও লেখে।

এ ঘটনা জানাজানির পর মামলা দায়ের করলে পুলিশ হৃদয় মন্ডলকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠায়। যা টপ অফ দ্যা টাউনে পরিণত হয়। কিন্তু দুঃখের বিষয় ঘটনার ১৫ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবে স্বপদে বহাল আছেন হৃদয় মন্ডল, যা আমাদের জন্য লজ্জাজনক।

এদিকে বিষয়টি নিয়ে ভূঞাপুর উপজেলা শাখা ছাত্রলীগ নেতাদের মধ্যে ক্ষোভ থাকলেও বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে এ নিয়ে গণমাধ্যমের সামনে মুখ খুলতে রাজি হননি কেউ। অন্যদিকে বিষয়টি মীমাংসার জন্য ছাত্রলীগ নেতার পক্ষ থেকে বিভিন্নভাবে চাপ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী কলেজছাত্রীর স্বামী।

জানতে চাইলে টাঙ্গাইল জেলা ছাত্রলীগের আহবায়ক মোস্তাফিজুর রহমান সোহেল সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, হৃদয় মন্ডলের স্থায়ী বহিস্কার চেয়ে আমরা কেন্দ্রে একটি চিঠি দিয়েছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত কেন্দ্রীয় কমিটি আমাদের কাছে উত্তর পাঠাইনি। তবে চিঠির পেলে অবশ্যই হৃদয় মন্ডলের বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, ধর্ষণ মামলায় চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি রাতে ভূঞাপুর উপজেলার মাটিকাটা এলাকা থেকে ছাত্রলীগ নেতা আসিফুজ্জামান হৃদয় মন্ডলকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরদিন ৪ জানুয়ারি দুপুরে পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে তাকে আদালতে পাঠালে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন বিচারক। তারপর থেকে কারাগারেই বন্দি রয়েছেন তিনি।

Loading...