• আজ ২০শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

স্কুল সভাপতির নির্দেশে শেরপুরে কোচিং বাণিজ্য জমজমাট

১০:০৭ অপরাহ্ণ | সোমবার, জানুয়ারি ২০, ২০২০ রাজশাহী
Bugora

সাখাওয়াত হোসেন জুম্মা, বগুড়া প্রতিনিধি: সরকারি বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট সভাপতির সহায়তায় চলছে জমজমাট কোচিং বাণিজ্য। বগুড়ার শেরপুরের বাগড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে এমনটাই অভিযোগ পাওয়া গেছে।

গত ১৫জানুয়ারি বুধবার বিকাল ৪টায় উপজেলার কুসুম্বি ইউনিয়নে “বাগড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়” এ গিয়ে দেখা গেছে এমন চিত্র। সেখানে দেখা যায়, স্কুলের সকল পাঠদান বন্ধ থাকার পরেও স্কুলের “জয়নুল আবেদিন” কক্ষে প্রায় ২৫/৩০ জন তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কোচিং করাচ্ছেন স্কুলেরই সহকারী শিক্ষক আব্দুর রশিদ।

কোচিংয়ের বিষয়ে সরকারি কোনো সম্মতি আছে কিনা এমন কথার জবাবে ওই শিক্ষক (আব্দুর রশিদ) বলেন, অত্র স্কুলের সভাপতি আব্দুল হালিম খোকনের নির্দেশনায় আমি অল্প কিছুদিন যাবৎ এখানে কোচিং করাই। যদিও সাংবাদ কর্মীর উপস্থিতি দেখে তাড়াহুড়া করে ছুটি দেওয়া হয় সকল শিক্ষর্থীদের। তারপরেও শ্রেণিকক্ষে থাকা শিক্ষার্থীদের মধ্যে কথা বলার সুযোগ হয় ৪র্থ শ্রেণির কিছু শিক্ষার্থীদের সাথে। তারা হলো- মরিয়ম পিতা: হাফিজুর, কাওছার পিতা: নজরুল, তমালিকা পিতা: এমদাদুল। তারা জানায়, ওই একই শিক্ষকের বাসায় সকালে স্কুল শুরুর আগে কোচিং ক্লাস করানো হয় এবং দুইবেলা কোচিং করাতে মাসে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা শিক্ষার্থী বুঝে গ্রহণ করেন ওই শিক্ষক। শিক্ষর্থীরা আরও জানায়, কোচিং না করলে নাকি নাম্বার পাওয়া যায় না এমন ধারনাই তাদের মাঝে প্রচলিত হয়েছে।  এতে শিক্ষার্থীরা দিনে দিনে পরাধীন হয়ে উঠছে এবং নিজেরা স্বনির্ভর না হয়ে পরনির্ভর হয়ে বেড়ে উঠছে। এতে করে কোচিং ও স্কুলের ক্লাসরুমের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকে বাহ্যিক জ্ঞান আহরনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা।

বাগড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রওশনারা পারভীন জানান, বর্তমানে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মোট ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা প্রায় ৬০০ জন। মাসে ৬০০/৭০০ টাকার বিনিময়ে কোচিং করানো হচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে এই প্রধান শিক্ষিকা বলেন, এখানে স্কুল সভাপতির (আব্দুল হালিম খোকন) নির্দেশে স্কুল ছুটির পরে কিছু দূর্বল ছাত্র-ছাত্রীদের অতিরিক্ত পাঠদান করানো হয়। তবে পরবর্তীতে আমরা স্কুল ভবনে কোচিং ক্লাস করানো বন্ধ রাখব।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে বাগড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি আব্দুল হালিম খোকন বলেন, শেরপুরে প্রায় সকল স্কুলেই এভাবে কোচিং করানো হয়, তবে আমি আমার স্কুলের শিক্ষার্থীদের উন্নয়নের লক্ষে এমন নির্দেশনা দিয়েছি। উনি আরও বলেন, এখানে এতটাকা কোচিং ফি নিয়ে কোচিং করানো হয় বলে আমার জানা নেই।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মিনা পারভিন বলেছেন, উপযুক্ত প্রমান পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. লিয়াকত আলী সেখ বলেন, তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়া অন্য কোন প্রতিষ্ঠানে এমন ঘটনা ঘটে থাকলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Skip to toolbar