• আজ মঙ্গলবার, ১২ শ্রাবণ, ১৪২৮ ৷ ২৭ জুলাই, ২০২১ ৷

ভৈরবে বড়শিতে ধরা পড়লো ৭ মণ ওজনের শাপলা পাতা মাছ


❏ বুধবার, জানুয়ারী ২২, ২০২০ ঢাকা, দেশের খবর

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক- তিন সহযোগী নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) দুপুরে গণি মিয়া মেঘনায় নৌকা ভাসান। তাঁর বাড়ি কিশোরগঞ্জের ভৈরবের জগন্নাথপুর এলাকায়। উদ্দেশ্য, বড়শি দিয়ে বোয়াল মাছ ধরা। কিশোরগঞ্জের ভৈরব ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে মেঘনা মোহনার সোনরামপুর এলাকায় বড়শিতে পুঁটি মাছ দিয়ে টোপ পাতেন।

একপর্যায়ে বড়শিতে হ্যাঁচকা টান পড়ল। টোপ গিলেছে বড় কিছু—এমন ধারণা সবার। ধীরে ধীরে বড়শি ওপরে আনার পর ভেসে উঠল বিশাল আকারের একটি শাপলা পাতা মাছ।

এবার সবার চোখ ছানাবড়া। কোনোভাবে মাছটিকে বড়শিতে আটকে রাখা যাচ্ছে না। তাদের সহযোগিতা করার জন্য এগিয়ে আসেন আরও কয়েকজন জেলে। শেষে ফলা দিয়ে আঘাত করে মাছটিকে দুর্বল করা হয়। ৩০ মিনিটের চেষ্টায় মাছটিকে তীরে ওঠানো হয়। মেপে দেখা গেল এর ওজন প্রায় সাত মণ।

মাছটি সন্ধ্যায় ভৈরবের নৈশকালীন মৎস্য আড়তে বিক্রির জন্য নিয়ে আসলে উৎসুক জনতা ভিড় জমায়। স্থানীয় জেলেরা জানান, ওই দিন সন্ধ্যায় মাছটি বিক্রির জন্য প্রথমে নেওয়া হয় আশুগঞ্জ আড়তে। সেখানে বিক্রি করা যায়নি। এরপর রাত ৮টার দিকে নেওয়া হয় ভৈরব নৈশ মৎস্য আড়তে। নদীয়া মৎস্য আড়তের মালিক মাছটি ৪৫ হাজার টাকায় কিনে নেন। পরে তিনি মাছটি কেটে টুকরা করে বিক্রি করেন।

বৃত্তাকার বিশাল আকৃতির মাছটির রয়েছে লম্বা ও শক্ত লেজ। গায়ের রং কালচে। বিকেলে মাছটি স্থানীয় বাজারে তোলা হলে দেখতে শত শত লোক ভিড় করে। স্থানীয়রা একে ‘হাউস’ মাছ বলে জানালেও এটি আসলে ‘শাপলা পাতা’ মাছ বলছেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা রওনক জাহান।

তিনি বলেন, এসব মাছ বিরল প্রজাতির। এরা সাধারণত নদী ও সাগরের মিলনস্থলে থাকে। বড় বড় নদীতেও কয়েক প্রজাতির এমন মাছ রয়েছে, তবে তা খুবই কম।

ভৈরব শহরের জগন্নাথপুর দক্ষিণপাড়ার জেলে গনি মিয়া পেশায় একজন মৎস্যজীবী। ভৈরবের মেঘনা ও ব্রহ্মপুত্র নদে মাছ শিকার করেই তার সংসার চলে। এর আগে গত বছরের ১৫ নভেম্বর একই এলাকায় সাত মণ ওজনের আরও একটি শাপলা পাতা মাছ ধরা পড়েছিল।

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন