মহামারীর রূপ নিল করোনাভাইরাস, ৭ দিনে হাসপাতাল নির্মাণ করছে চীন

১২:১০ অপরাহ্ণ | রবিবার, জানুয়ারি ২৬, ২০২০ আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক- চীনে করোনা ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা অর্ধশতাধিক ছাড়িয়েছে। একইসঙ্গে ভয়াবহ এই ভাইরাসে ২ হাজার মানুষ আক্রান্ত হয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে কমপক্ষে ৩৭ মিলিয়ন মানুষ এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ায় সম্ভাবনা রয়েছে।

শনিবার পর্যন্ত চীনে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় এক হাজার তিনশ জনে পৌঁছেছে। চীনের এই ভাইরাস ইতোমধ্যে বিশ্বের ১৩টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। দেশটির বেশ কিছু শহরে ভ্রমণে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।

এই ভাইরাসের উৎসস্থল হিসেবে পরিচিত উহানে রোববার থেকে প্রাইভেট যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে। করোনাভাইরাসের বিস্তারের আশঙ্কায় এই শহরের বাসিন্দাদের অন্য কোথাও চলে যাওয়া কিংবা শহরে কাউকে আসতে দেয়াও হচ্ছে না।

চীনের সরকারি টেলিভিশনের খবরে বলা হয়েছে, জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তাদের বৈঠকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বলেছেন, ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে চীন।

এদিকে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগিদের সেবায় মাত্র সাত দিনে এক হাজার শয্যার একটি হাসপাতাল নির্মাণ করছে চীন। দেশটির হুয়ান শহরের কেন্দ্রস্থলে ২৫ হাজার বর্গমিটার এলাকাজুড়ে এটি নির্মাণ করা হচ্ছে।

গতকাল শুক্রবার চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জিনহুয়ার এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানানা হয়। এতে বলা হয়, করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাব প্রতিরোধে হুয়ান শহরের কেন্দ্রস্থলে মাত্র ৭ দিনে একটি হাসপাতাল নির্মাণ করা হচ্ছে। ২৫ হাজার বর্গমিটার এলাকায় এক হাজার শয্যার হাসপাতালটি নির্মাণ করা হবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, শহরের বিভিন্ন হাসপাতালগুলোতে মানুষের উপচে পড়া ভিড় ও ওষুধের সংকট দেখা দেওয়ায় জরুরিভিত্তিক হাসপাতালটি নির্মাণ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে এর কাজ শুরু হয়েছে।

প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়, হাসপাতালটিতে সেনাবাহিনীর ৪০ জন চিকিত্সক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) কাজ করবেন।

দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সিসিটিভিও বিষয়টি নিয়ে এক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এতে একটি ভিডিওচিত্র প্রকাশিত হয়, যেখানে এক ডজনেরও বেশি এক্সেভেটর ট্রাকের মাধ্যমে মাটি খনন করতে দেখা গেছে।

চীন সাতদিনে কিভাবে হাসপাতাল বানাবে?

“চীনের সাধারণত খুব দ্রুত জিনিসপত্র তৈরির রেকর্ড রয়েছে এমনকি এ ধরণের বিশাল বিশাল প্রকল্পের ক্ষেত্রেও,” বলেন পররাষ্ট্র সম্পর্ক বিষয়ক কাউন্সিলের গ্লোবাল হেলথ এর জ্যেষ্ঠ ফেলো ইয়াংঝং হুয়াং।

তিনি বলেন যে, ২০০৩ সালে বেইজিংয়ের হাসপাতালটি সাত দিনে তৈরি করা হয়েছিল। তাই এবার মনে হচ্ছে নির্মাণকারী দলটি সেই রেকর্ড ভেঙ্গে ফেলতে চাইছে। বেইজিংয়ের হাসপাতালের মতোই, উহান সেন্টারটিও আগে থেকেই নির্মিত ভবনে তৈরি করা হবে।

“এই কর্তৃত্ববাদী দেশটি শীর্ষ থেকে নিচে বা টপ-ডাউন মোবিলাইজেশন পদ্ধতি অনুসরণ করে থাকে। যার কারণে তারা আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এড়িয়ে এবং আর্থিক সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে তাদের সব পুঁজি নির্দিষ্ট দিকে নিয়োগ করতে পারে।”

হুয়াং বলেন, ঠিক সময়ে কাজ শেষ করতে সারা দেশ থেকে প্রকৌশলীদের এখানে নিয়ে আসা হতে পারে।

“প্রকৌশলই হচ্ছে সেই কাজ যাতে চীন খুবই ভাল। দ্রুত গতিতে আকাশচুম্বী ভবন তৈরির রেকর্ড রয়েছে তাদের। এটা পশ্চিমাদের জন্য চিন্তা করাটাই কঠিন। এটা সম্ভব,” তিনি বলেন।

আর চিকিৎসা সরঞ্জামাদির কথা বলতে গেলে, উহান সেগুলো অন্য হাসপাতাল থেকে আনতে পারে কিংবা সরাসরি কারখানা থেকেও অর্ডার করতে পারে।

শুক্রবার, গ্লোবাল টাইমস জানায়, পিপলস লিবারেশন আর্মি থেকে ১৫০ জন চিকিৎসাকর্মী উহানে পৌঁছেছে। তবে নতুন হাসপাতাল তৈরির পর তারা সেখানে কাজ করবে কিনা সে বিষয়ে কিছু নিশ্চিত করা হয়নি।

Loading...