• আজ ১২ই ফাল্গুন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

১ হাজার কোটি টাকা মেগা প্রকল্প গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ড

৫:০০ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, জানুয়ারি ২৮, ২০২০ দেশের খবর, রাজশাহী

ওবায়দুল ইসলাম রবি, রাজশাহী প্রতিনিধি- বাৎসরিক ১০০ মেট্রিক টন রেশম সুতা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা মেগা প্রকল্প গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ড। রেশম শিল্পের উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে সেই সাথে রাজশাহী রেশম কারখানায় ২৩টি লুম চালুর উদ্যোগ নিয়েছে রেশম কর্তৃপক্ষ।

রাজশাহী মহানগরীর শিরোইল এলাকায় ১৯৬১ সালে সাড়ে ১৫ বিঘা জমির ওপর স্থাপিত হয় এই রেশম কারখানা। রেশমের উন্নয়নে রাজশাহীতেই স্থাপন করা হয় বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ড এবং বাংলাদেশ রেশম গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের প্রধান কার্যালয়। প্রায় ৩৮ কোটি টাকা ঋণের বোঝা মাথায় রেখে ২০০২ সালে তৎকালীন বিএনপি সরকার কারখানাটি বন্ধ করে দেয়। দীর্ঘদিন পর ২০১৮ সালের ২৭ জুলাই পরীক্ষামূলকভাবে কারখানার ৫টি লুম চালুর মধ্য দিয়ে বন্ধ কারখানার চাকা আবারো চালু হয়।

বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, ২০০২ সালে বন্ধ হওয়ার ১৬ বছর পর রাজশাহী রেশম কারখানায় প্রথমে ছয়টি, পরে পাঁচটি এবং পর্যায়ক্রমে ১৯টি লুম চালু করা হয়েছে। আগামী জুলাই মাসে নতুন ২৩টি লুম চালুর পরিকল্পনা আছে। ২৩টি লুম সংযোগ হলে রাজশাহী রেশম কারখানায় লুমের সংখ্যা হবে ৪২টি। নতুন লুম চালু হওয়ার পর এ পর্যন্ত ৭ হাজার ৮৯১ গজ কাপড় তৈরি হয়েছে এই কারখানায়। যা প্রায় ৯ লাখ ৫০ হাজার টাকার কাপড় বিক্র করা হয়েছে এবং মজুদ আছে আরো কাপড়। রেশম কারখানায় গরদ শাড়ী, ছাপা শাড়ি, প্রয়োজনিয় নানা ধরনের থান কাপড়, টাই, টু-পিস, ওড়না, হিজাব ইত্যাদি উৎপাদন হচ্ছে।

বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ডেও মহা-পরিচালক মুহাম্মদ আবদুল হাকিম বলেন, জুলাই মাসের দিকে সর্বমোট ৪২টি লুম চালু করার পরিকল্পনা আছে। যার ব্যয় হবে প্রায় ১৫ কোটি টাকা। ইতোমধ্যে চাহিদা অনুযায়ী প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। সরকারি টাকায় ৪২টি লুম চালানো সম্ভব না। যন্ত্রাংশ মেরামত, কর্মীদের বিলসহ নানা খরচ আছে। বহুগুনে উৎপাদন বৃদ্ধি লক্ষ্য মাত্রা ঠিক রাখতে চুক্তিভিত্তিক বাক্তি মালিকানায় কারখানা পরিচালনা করার পরিকল্পনা রয়েছে। বাৎসরিক ১০০ মেট্রিক টন রেশম সুতা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে প্রায় ০১ হাজার কোটি টাকা মেগা প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। ১০ হাজার রেশম চাষিকে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর মাধ্যমে অর্থ সহায়তা প্রদানসহ চীন ও ভারত থেকে উন্নত রেশম কীট ও উন্নত তুঁত জাত আমদানির উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

Loading...