ইরানের ব্যাংক লেনদেনের সমস্ত পথ আটকে দিয়েছে আমেরিকা

◷ ৭:৩০ অপরাহ্ন ৷ বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারী ৬, ২০২০ আন্তর্জাতিক
iran

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইরানের ব্যাংকিং লেনদেনের সব পথ বন্ধ করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র- এমন অভিযোগ করেছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আব্বাস মুসাভি।

খাদ্য ও ওষুধের ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই বলে মার্কিন কর্মকর্তারা যে দাবি করছেন সে ব্যাপারে এক টুইটবার্তায় আব্বাস মুসাভি বলেছেন, বাস্তবে তারা নিষেধাজ্ঞা দিয়ে রেখেছে এবং আমেরিকার এ পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক বিচারিক আদালতের নির্দেশের লঙ্ঘন।

ইরানের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক বিচারিক আদালত ২০১৮ সালের ৩রা অক্টোবর এক নির্দেশে ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকার ওষুধ, খাদ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার আহ্বান জানিয়েছিল। আদালতের নির্দেশ সত্বেও আমেরিকা ইরানে খাদ্য, ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম আমদানিতে বাধা সৃষ্টি করছে।

মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ক্যান্সারসহ বিভিন্ন দুরারোগ্য ব্যাধির চিকিৎসায় ব্যাপক সংকট তৈরি হয়েছে। এমনকি আমেরিকা ইরানের জনগণের প্রাথমিক অধিকারকেও উপেক্ষা করছে যা কিনা মানবাধিকার আইন এবং আন্তর্জাতিক বিচারিক আদালতের নির্দেশের খেলাপ।

মার্কিন নিষেধাজ্ঞাকে অমানবিক ও আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি। তিনি বলেছেন, ইরানের জনগণের বিরুদ্ধে আমেরিকা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, সুইস মানবাধিকার চ্যানেলের মাধ্যমে ইরানে ওষুধ পাঠানোর যে কথাবার্তা শোনা যাচ্ছে তা আসলে প্রচারণা মাত্র। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ২০১৮ সালের ৮মে পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর ইরানের বিরুদ্ধে ওষুধ খাদ্যসহ সর্বাত্মক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।

এরপর ট্রাম্প ইরানের জনগণের প্রতি সমর্থন দেয়ার দাবি করে ইরানের জনগণকে না খেয়ে মারা হুমকি দেন। এমনকি তিনি ঐতিহ্যবাহী ও সংস্কৃতিবান ইরানি জাতিতে সন্ত্রাসী বলেও আখ্যায়িত করেন। না খেতে দিয়ে মারার মতো এ সব অবমাননাকর বক্তব্য ও হুমকির মধ্য দিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের জনগণের সাথে তার শত্রুতামূলক আচরণের বিষয়টি সারা বিশ্বের কাছে তুলে ধরলেন।

উল্লেখ্য মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সত্বেও এবং দেশীয় মেধা ও প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে ইরান ওষুধ ও অন্যান্য চিকিৎসা সরঞ্জাম তৈরিতে এখন অনেকটাই স্বয়ংসম্পূর্ণ। ইরান নিজেই এখন প্রয়োজনের ৯৭ শতাংশ ওষুধ তৈরি করছে।