ঠাকুরগাঁওয়ে এনজিও ঋণে বাস্তুহারা নার্গিস!

১০:০৫ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২০ রংপুর
bas

কামরুল হাসান,ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: সরলতার সুযোগ নিয়ে ঠাকুরগাঁওয়ে একটি বে-সরকারি উন্নয়ন সংস্থার বিরুদ্ধে নার্গিস নামে এক ঋনগ্রহীতাকে বাস্তুচ্যুত করার অভিযোগ উঠেছে। বসতবাড়ী হারিয়ে স্বামী সন্তানদের নিয়ে মানবেতর দিন কাটাচ্ছে ওই পরিবারটি।

অভিযোগে জানা যায় শান্তিনগর মহল্লার বাসিন্দা নার্গিস বেগম। স্বামী জয়নুল হক ক্ষুদ্র ফল ব্যবসায়ী। তার দুই মেয়ে। বড় মেয়ে মিমি আক্তার (২১), ছোট মেয়ে মুক্তা আক্তার আর কে ষ্টেস্ট উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণীর ছাত্রী।

তিনি আরডিআরএস বাংলাদেশ নামে একটি ঋণদানকারি সংস্থার কাছে সংসারের উন্নতির আশায় মুসলিম নগর শাখা হতে ১ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা গ্রহণ করে। প্রতি মাসে ১৩ হাজার টাকা হারে ৬ কিস্তির ৭৮ হাজার টাকা পরিশোধ করেন। তার সংসার ভালই চলছিল। কিন্তু ঋণ গ্রহণের কিছু দিন পর ব্যবসায় মন্দা দেখা দেয়। পরবর্তীতে সে আর কিস্তি দিতে পারে নাই। এরপর থেকে আরডিআরএস কর্তপক্ষ নার্গিস ও জয়নুলকে টাকা পরিশোধের জন্য চাপ প্রয়োগ করতে থাকে এবং তার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের ভয় ভীতি দেখায়।

অবশেষে ওই দম্পত্তি ঋণের টাকা পরিশোধ করতে নিজের ভিটেমাটির আড়াই শতক জায়গা বিক্রি করেন। হারানোর ভয়ে ১ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা আরডিআরএস মাঠকর্মী হাবিবুর রহমানের কাছে আমানত হিসেবে রাখতে দেন। কিন্তু ওই কর্মী আমানতের টাকা ফেরৎ না দিয়ে উল্টো আরডিআরএস উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় তাদের স্বাক্ষর ছাড়াই পাওনার চেয়ে অতিরিক্ত টাকা কেটে নেন। ঋণের পাশ বই চাইতে গেলে সেটিও ফেরত দেয়নি তারা।

নার্গিসের স্বামী জয়নুল হক কেঁদে কেঁদে বলেন আমরা গরিব অসহায় মানুষ। বিশ্বাস করে তাদের কাছে টাকা রাখতে দিয়েছিলাম। কিন্তু তারা টাকা ফেরত না দিয়ে ওল্টো কেটে নিয়েছে। তাদের কাছে আমাদের ডিপিএস ৯ হাজার ও সঞ্চয় ২২ হাজার টাকা আমানত হিসেবে ছিল। তাদের কারণে আজ আমরা বাস্তুহারা। আমি এর জন্য প্রয়োজনে ইউএনও ও ডিসির কাছে লিখিত অভিযোগ দেব।

শান্তিনগরের বাসিন্দা সুধীর চন্দ্র বলেন, আরডিআরএস এটা অমানবিক কাজ করছে। শহরের সালন্দর মাদ্রাসা পাড়া মহল্লার উম্মে নাজনিন অভিযোগ করে বলেন এরা মানুষের কাছে ছলচাতুরি করে টাকা নেয়। তাদের কারণে আমার মতো আরও অনেকে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।

আরডিআরএস মাঠকর্মী হাবিবুর রহমানের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা শিকার করে বলেন ওই ঋণ গ্রহীতা স্ব-ইচ্ছায় ঋণ পরিশোধ করেছেন।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুন এ প্রসঙ্গে বলেন, ওই সংস্থার বিরুদ্ধে প্রয়োজনিয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Loading...