সংবাদ শিরোনাম
  • আজ ১৭ই চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

ব্যস্ততার কারণে মাতৃভাষা দিবসে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নিলেন বশেমুরকৃবির তিন শিক্ষক

১১:৪৬ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২০ শিক্ষাঙ্গন
bms

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্কঃ ব্যস্ততার কারণে নির্দিষ্ট সময়ে পরীক্ষা নিতে না পেরে একুশে ফেব্রুয়ারির অনুষ্ঠান রেখে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার হলে বসালেন শিক্ষক। শহীদ দিবস ও মহান আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে পরীক্ষা নেয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের খোদ শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাই ক্ষুব্ধ।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২১ ফেব্রুয়ারি দুপুর ২.৩০ থেকে বিকেল ৪.১৫ পর্যন্ত এগ্রিকালচার এক্সটেনশন অ্যান্ড রোয়াল ডেভোলপমেন্ট (৪৬১) কৃষি সম্প্রসারণ বিষয়ের (এফভিএমএস) এর চতুর্থ বর্ষের ‘বি’ গ্রুপের ১৮ জন ছাত্র-ছাত্রীর ব্যবহারিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় ওই পরীক্ষা গ্রহণ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রফেসর ড. মো. এনামুল হক, প্রফেসর শেখ শামীম হোসেন ও বেগম ফারহানা ইয়াসমিন এ পরীক্ষা গ্রহণ করেন। তারা বিএনপি-জামায়াতপন্থী শিক্ষক বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক প্রফেসর শেখ শামীম হোসেন, ‘আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে মহান আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের সকল অনুষ্ঠান দুপুরের মধ্যে শেষ হয়ে যায়। সে কথা চিন্তা করে আমারা দুপুরের পর পরীক্ষার সময় নির্ধারণ করেছি। তাছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে মাতৃভাষা দিবসের সকল কার্যক্রমে আমারা উপস্থিত ছিলাম। সেই সঙ্গে বাদ জুমা মহান শহীদদের জন্য দোয়ার অনুষ্ঠানেও আমরা উপস্থিত ছিলাম।’

তিনি আরো বলেন, ‘বর্তমান সময়টা আমাদের পরীক্ষা সময়। এই সময়ে প্রত্যেকদিন আমাদের সিডিউল রয়েছে। সে অনুযায়ী আজ সকালে আমাদের পরীক্ষার ছিলো কিন্তু আমারা সেই সূচী পরিবর্তন করে বিকেলে পরীক্ষা নিয়েছি। এছাড়া এছাড়া আগামী সোমবার ওই ১৮ জন শিক্ষার্থী ৫ দিনের ট্যুরে যাবে। সেজন্য শিক্ষার্থীদের কথা মাথায় রেখেই আমরা পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ এছাড়া এই কাজের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন এই তিনি।

জাতির পিতার নামে প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাষা সৈনিকদের অসম্মান করে পরীক্ষা নেয়ায় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ভাষা সৈনিকদের আত্মত্যাগের কথা বুকে ধারণ না করে জামাতপন্থী কয়েকজন শিক্ষক বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহযোগিতায় ভাষা শহীদদের প্রতি অবমাননা ও রাষ্ট্রবিরোধী এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তারা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে এর সুষ্ঠু বিচারের দাবি তুলেন।

Loading...