লক্ষ লক্ষ টাকা ক্ষতির সম্মুখীন টাঙ্গাইলের কুইচ্চা ব্যবসায়ীরা

৭:০৯ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২০ ঢাকা, দেশের খবর, ফিচার

অন্তু দাস হৃদয়, স্টাফ রিপোটার- চীনে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলায় কুইচ্চা রফতানি বাণিজ্যে এখন ধংসের পথে। প্রায় দেড় মাস ধরে রপ্তানির কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কুইচ্চা ব্যবসায়ীরা পথে বসার উপক্রম হয়েছে।

কুইচ্চা খামারে দেখা দিয়েছে মড়ক। ফলে লক্ষ-লক্ষ টাকার ব্যবসায়ীক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে সখীপুর উপজেলার কুইচ্চা ব্যবসায়ী ও সংগ্রহকারীরা। প্রায় দুই শতাধিক পরিবার ব্যাংক ঋণ ও দাদন পরিশোধ নিয়ে পড়েছেন বিপাকে।

এ ব্যাপারে টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার কুইচ্চা ব্যবসায়ী শ্রী সন্তুস কোচ ও সুভল চন্দ্র কোচ সময়ের কন্ঠস্বর’কে জানান, সখীপুর উপজেলার কীর্ত্তন খোলা, কালিয়ান পাড়া, কালিদাশ, নলুয়া, মহানন্দপুর, পাথার, ইছাদিঘীসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিমাসে লাখ-লাখ টাকার কুইচ্চা রপ্তানি হতো ঢাকা হয়ে চীনে। চীনে দৈনন্দিক খাদ্য তালিকায় কুইচ্চা থাকায় শুধু চীনেই রপ্তানি হতো ৯০ শতাংশ কুইচ্চা। বাকী ১০ শতাংশ রপ্তানি করা হতো হংকং, তাইওয়ানসহ বিশ্বের কয়েকটি দেশে।

ফলে, এই ব্যবসার সাথে জড়িতরা ভাগ্য বদল করেছিল অনেক পরিবারই। কিন্তু দেশটিতে করোনা ভাইরাস মারাত্মক আকারে বিস্তার করায় গত (২০ জানুয়ারি) থেকে চীনের সাথে কুইচ্চা রপ্তানি সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।

আরো জানান, তারা এ ব্যবসা শুরুর আগে বিভিন্ন বাজারে বাজারে মাছের ব্যবসা করতেন। এক পর্যায়ে ঢাকার টঙ্গীর কামারপাড়া ও নলভোগ এলাকার অর্কিড ট্রেডিং কর্পোরেশন, আঞ্জুম ইন্টারন্যাশনাল ও গাজী এন্টারপ্রাইজসহ অন্যান্য কুইচ্চা রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে তাদের সংগ্রহ করা কুইচ্চা বিদেশে রপ্তানি করে আসছিলেন তারা। রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো কুইচ্চা ব্যবসার সম্প্রসারনের জন্য স্থানীয় কুইচ্চা ব্যবসায়ীদের লাখ টাকা পর্যন্ত দাদনে (সুদে বা তাদের কাছে কুইচ্চা বিক্রির শর্তে) দিতেন। কুইচ্চা বিক্রির মাধ্যমে দাদনের টাকা পরিশোধ করতেন ব্যবসায়ীরা।

জানা গেছে, করোনা ভাইরাস মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়ায় চীনের সাথে অন্যান্য ব্যবসা বানিজ্যর মতো কুইচ্চা রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ হওয়ায় বিপাকে পড়েছে দাদন নেয়া কুইচ্চা সংগ্রহকরী ও ব্যবসায়ীরা। বেকার হয়ে পড়েছে কুইচ্চা ধরা শ্রমজীবী লোকজন। কিছু দিন আগেও রপ্তানিযোগ্য কুইচ্চা সংগ্রহ ও রপ্তানির জন্য যে আড়ৎগুলো ছিল কর্মচঞ্চল আজ সেখানে শুধু শুন্যতা। জনশুন্য হয়ে পড়েছে কুইচ্চা আড়ৎগুলো। কাজ না থাকায় অলস শ্রমিকদের বেতনের জন্য ব্যবসায়ীদের গুনতে হচ্ছে মাসিক বেতন। আগামী এক মাসের মধ্যে চীনে রপ্তানি কার্যক্রম পুনরায় শুরু না হলে ব্যবসায়ীদের মজুদ করা কুইচ্চা সম্পূর্ণ মারা যাওয়ার আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।

এ বিষয়ে সখিপুর উপজেলার কুইচ্চা সংগ্রহকারী কালিদাশ গ্রামের রতন চন্দ্র কোচ সময়ের কন্ঠস্বর’কে বলেন, আগে আড়ৎধারদের কাছ থেকে দাদন নিয়ে পুকুর, ডোবা-নালা, খাল-বিল থেকে কুইচ্চা ধরে ৫শ’ থেকে ৭শ’ টাকা পর্যন্ত আয় করতাম। বর্তমানে রপ্তানী বন্ধ হওয়ায় কোন আড়ৎদার কুইচ্চা কিনতে চাচ্ছে না। তাই তাদের সংসার চালানো এখন খুবই কঠিন হয়ে পড়েছে।

অন্যদিকে, কালিদাস গ্রামের শ্রী নিরঞ্জন বিশ্বাস বলেন, অনেক বেকার ছেলেরা কুইচ্চা সগ্রংহ করে আড়তে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিল। অন্যান্য ব্যবসা বানিজ্যর মতো কুইচ্চা রপ্তানি পুরো-পুরি বন্ধ হওয়ায় বিপাকে পড়েছে দাদন নেয়া কুইচ্চা সংগ্রহকরী ও ব্যবসায়ীরা। বেকার হয়ে পড়েছে কুইচ্চা ধরা শ্রমজীবী লোকজন।

এ প্রসঙ্গে সখিপুর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম সময়ের কন্ঠস্বর’কে জানান, করোনা সংক্রমণের জন্য চীনে কুইচ্চা আমদানী বন্ধ করে দিয়েছে। যে কারনে এলাকার কুইচ্চা ব্যবসায় ধ্বস নেমেছে। এই উপজেলার বহু মৎস চাষীরা মজা, পুকুর, ডোবা-নালা, খাল থেকে কুইচ্চা সংগ্রহ করে আড়তে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিল। তার পরেও কুইচ্চা সংগ্রহ, রক্ষণাবেক্ষণ ও বিক্রির সাথে জড়িত থেকে অসংখ্য মানুষ কর্মজীবনের মাধ্যমে আর্থিক সচ্ছলতায় দিনযাপন করতেন। এটি একটি সাময়িক সমস্যা।

তবে, মজুদকৃত কুইচ্চা দেশীয় বাজারে বিক্রি করলেও একটু হলেও লোকসানের হাত থেকে রক্ষা পাবে কুইচ্চা সংগ্রহকারী জেলে ও আড়ৎদাররা।

Loading...