• আজ ১২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

পর পুরুষের সাথে থাকতে বাধ্যকরা স্বামীকে খুনের দায়ে স্ত্রী গ্রেফতার

১০:১৫ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২০ ঢাকা
Gazipur

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট,সময়ের কণ্ঠস্বর: শুরুটাই হয়েছিল প্রতারণার মধ্যে দিয়ে।বিভিন্ন ভাবে বিবাহের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে ঘুমের ওষধ খাইয়ে অচেতন অবস্থায় ধর্ষণ! আবার সেই দৃশ্য মোবাইলে ধারণ করে বার বার ধর্ষণ করে বাধ্য করা হয় বিয়ে করতে।  বিয়ের পর আবার বাধ্য করা হয় অন্য পুরুষের সাথে বিছানায় যেতে। আর তাই প্রতিশোধ নিতেই ঘুমন্ত স্বামীকে দা দিয়ে জবাই করে ভাড়া বাসা থেকে পালিয়ে যান স্ত্রী। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। র‌্যাবের অভিযানে লাশ উদ্ধারের ৬দিনেই গ্রেফতার হয়েছেন সেই অভিযুক্ত স্ত্রী সামিরা আক্তার(২৬)।গ্রেফতার হওয়া সামিরা আক্তার গাজীপুরের শ্রীপুর থানাধীন চকপাড়া গ্রামের আলী হোসেনের মেয়ে।

জানাযায়, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০ তারিখ রাত অনুমান ৩টা৩০মিনিটে গাজীপুর জেলার শ্রীপুর পৌরসভা কেওয়া পশ্চিম খন্ড (প্রশিকা মোড়) এলাকায় ৩য় তলা ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে পুলিশ, ক্রাইমসিন ইউনিট এবং সিআইডির উপস্থিতিতে এক ব্যক্তির ঝলসানো গলাকাঁটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করা হয় আঃ রহমান। এসময় উক্ত ভবনের মালিক চান মিয়ার ছেলে মজনু বলেন, ঘটনার এক মাস আগে উক্ত ভবনটির ২য় তলায় সামিরা-আঃ রহমান দম্পতি ভাড়া নিয়ে বসবাস করে আসছিল। লাশ উদ্ধারের ০৪/০৫ দিন আগে থেকে তাদের রুমের দরজা তালাবদ্ধ ছিল। রুমের দরজায় তালাবদ্ধ ও দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ায় ভবনটির মালিক শ্রীপুর থানা পুলিশ ও গাজীপুর র‌্যাবকে অবহিত করেন। ঘটনার পর থেকেই আসামী ধরতে মাঠে নামে র‌্যাব-১।

সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাজধানীর দক্ষিণখান এলাকায় অভিযান চালিয়ে সামিরা ও তার বাবাকে গ্রেফতার করে র‌্যাব-১ পোড়াবাড়ি ক্যাম্পের একটি দল।

র‌্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারে আসামী ভিকটিমের ৪র্থ স্ত্রী মোসাঃ সামিরা আক্তার রাজধানীর দক্ষিণ খান এলাকায় সু-কৌশলে আত্মগোপন করে আছেন। উক্ত সংবাদের ভিত্তিতে অত্র কোম্পানীর কোম্পানী কমান্ডার লেঃ কমান্ডার আব্দুল্লাহ আল মামুন, (জি), বিএন এর নেতৃত্বে সঙ্গীয় অফিসার,ফোর্সসহ রাজধানীর দক্ষিণ খান এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ভিকটিম আঃ রহমান(৫২) এর ৪র্থ স্ত্রী আসামী সামিরা আক্তার এবং তাকে পলায়নে সহায়তাকারী সামিরার বাবা মোঃ আলী হোসেন(৫৫),কে গ্রেফতার করেন তারা।

আসামী সামিরার ভাষ্যমতে, সে ভিকটিমের ৪র্থ স্ত্রী। তার স্বামী পেশায় একজন জমির ব্যবসায়ী ছিলেন। গত ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২০ তারিখে তার স্বামী রতন নামের তার এক ব্যবসায়িক পাটনারের সাথে তাকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্ব যৌন কাজে লিপ্ত করে। এ ঘটনার পরদিন ১১ ফেব্রুয়ারি পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ভোর অনুমান ৩ টার দিকে বাসায় থাকা ধারালো দা দ্বারা তার স্বামীকে ঘুমন্ত অবস্থায় জবাই করেন এবং মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর লাশ তোশকে মুড়িয়ে রাখে। লাশ যেন চেনা না যায় তার জন্য লাশের মুখ এসিড দিয়ে ঝলসে দেয় সামীরা।  পরবর্তী ৩ দিন ঐ বাসাতেই অবস্থান করেন সে। অবশেষে লাশ সরিয়ে ফেলতে ব্যর্থ হয়ে বাবা-মার সহায়তায় উক্ত বাসা থেকে পালিয়ে যান। পালিয়ে প্রথমে গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর থানার ফুলবাড়ী এলাকায় তার এক বান্ধবীর বাসায় ২ দিন আত্মগোপন করে থাকেন এবং সেখান থেকে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি  পালিয়ে তার মামার বাসা নওগাঁ যায়, সেখানে কিছুদিন অবস্থান করে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি রাজধানীতে এসে রাজধানীর দক্ষিণ খান এলাকায় তার চাচার বাসায় আত্মগোপন করেন সামিরা।

র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে আসামী সামিরা আরো জানায়, খুন হওয়া রহমানের বাড়ী গাজীপুর শ্রীপুর এলাকায় হওয়ায় সেই সুবাদে দুজনের মধ্যে পূর্ব পরিচিত ছিল।  ২০১৬ সালে ভিকটিম আঃ রহমার তার ২য় স্ত্রীকে নিয়ে গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গীতে বসবাস করত। সামিরা টঙ্গী সরকারী কলেজে ডিগ্রি পরীক্ষার্থী ছিল বিধায় তাদের দুজনের মধ্যে পূর্ব পরিচিতি থাকার কারণে সামিরা ভিকটিমের টঙ্গী বাসায় থেকে তার ডিগ্রি পরীক্ষা দিত, সেই সুবাদে ভিকটিম আঃ রহমান সামিরাকে বিভিন্ন ভাবে বিবাহের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ করার চেষ্টা করে ব্যথ হয়। অবশেষে ভিকটিম আঃ রহমান সামিরাকে কৌশলে খাবারের সাথে ঘুমের ঔষধ পান করিয়ে অজ্ঞান করে তার টঙ্গীস্থ বাসায় তাকে একাধিক বার ধর্ষণ করে এবং ধর্ষনের ভিডিও ধারণ করে। পরবর্তীতে উক্ত ধর্ষনের ভিডিও এবং হত্যার ভয় দেখিয়ে ভিকটিম আঃ রহমান আসামী সামিরাকে বিভিন্ন সময় দিনের পর দিন ধর্ষণ করে আসে। একসময় ধর্ষণের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ পাওয়ার পর সামিরার প্রথম স্বামী তাকে ডিভোর্স দেয়। তারপর থেকে সামিরা শ্রীপুর নয়নপুর এলাকায় একটি ঔষধের দোকান পরিচালনা করে জীবিকা নিবাহ করে আসছিল। গত ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে রহমান সামিরাকে ইসলামী শরীয়ত মোতাবেক কোর্টের মাধ্যমে বিবাহ করে এবং তাকে নিয়ে শ্রীপুর এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে সংসার শুরু করেন।

সামিরার ভাষ্যমতে, ২০১৮ সালের পর থেকে ঘটনার দিন অথ্যাৎ ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২০ তারিখ রাত পর্যন্ত তার স্বামী আঃ রহমান ব্যবসায়িক স্বার্থে আবার কখনো বিপুল টাকার বিনিময়ে তার পাটনারদের সাথে সামিরাকে যৌন কাজে লিপ্ত হতে বাধ্য করতো। এইসব নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে সে রহমানের কাছ ডিভোর্স চাইলে তার মা-ভাইকে খুন করার হুমকি দেয়। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই সে রহমানের উপর প্রতিশোধ বশতঃ খুন করেন।

গ্রেফতারকৃত আসামীকে গাজীপুর শ্রীপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানান র‌্যাব।