• আজ ১৮ই চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

টাঙ্গাইলে সরকারি কর্মচারীদের কর্মবিরতি, ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ

১০:২৯ অপরাহ্ণ | বুধবার, ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২০ ঢাকা
Tangail pic- (3)

মোল্লা তোফাজ্জল, টাঙ্গাইল প্রতিনিধিঃ সারা দেশে সরকারি তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীরা পদবী পরিবর্তনের দাবিতে পর্নদিবস কর্মবিরতি পালন শুরু করেছে। এ আন্দোলন চলবে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। গত সোমবার থেকে বাংলাদেশ কালেক্টরেট সহকারী সমিতির (বাকাসস) ডাকে টাঙ্গাইল জেলার সরকারি কর্মচারীরাও এ কর্মবিরতিতে অংশ নেন। এতে করে ভোগান্তিতে পড়েছে দুরদরান্ত থেকে সেবা নিতে আসা সেবা গ্রহীতারা। কষ্ট করে আসলেও কর্মবিরতির কারণে তারা কাঙ্খিত সেবা পাচ্ছে না। ফলে ভোগান্তীর স্বীকার হচ্ছে মানুষ।

আন্দোলনকারীরা জানান, ২০০১ সাল থেকে কালেক্টরেটে কর্মরত তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীদের পদবী পরিবর্তন এবং বেতন গ্রেড উন্নীতকরণের দাবি জানিয়ে আসছেন তারা। ২০১১ সালে প্রধানমন্ত্রী এ পদবী পরিবর্তন সংক্রান্ত সার সংক্ষেপ অনুমোদন দিলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। এর প্রেক্ষিতে সারা দেশের ন্যায় টাঙ্গাইলেও ২৫ তারিখ থেকে শুরু হওয়া ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আন্দোলনের এ কর্মসূচি দিয়েছেন তারা। এর আগেও ২০ ও ২১ জানুয়ারি সকাল ৯ থেকে ১১টা পর্যন্ত দুই ঘণ্টা, ২২ ও ২৩ জানুয়ারি সকাল ৯ থেকে ১২টা পর্যন্ত তিন ঘণ্টা, ২৭ ও ২৮ জানুয়ারি সকাল ৯ থেকে ১টা পর্যন্ত চার ঘণ্টা কর্মবিরতি পালন করেছেন তারা। এরপরও দাবি আদায় না হলে আন্দোলন অব্যাহত রেখে টানা পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালন করবেন বলে হুশিয়ারি দেন তারা। এতে করে ভোগান্তির স্বীকার হচ্ছে স্বাধারণ মানুষ।

শহরের আকুর টাকুর পাড়া এলাকার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, শহরের লৌহজং নদী উদ্ধারের কাজ চলছে। আমিও নদীর পাড়ের মানুষ। যে জায়গায় ভাংচুর করা হচ্ছে সেই জায়গায় আমার জমিও পড়েছে। সেই বিষয়ে নিয়ে জেলা প্রশাসক স্যারের সাথে কথা বলতে এসেছিলাম। কিন্তু কর্মচারীদের আন্দোলনের কারণে জেলা প্রশাসক স্যারের সাথে কথা বলতে পারছি না। আমার অনেক ক্ষতি হয়ে যাবে।

হালিমা বেগম বলেন, আমি খুব গরীব মানুষ। ডিসি স্যারের কাছে এসেছিলাম কথা বলতে। কিন্তু কয়েক ঘন্টা দাড়িয়ে থেকেও তার সাথে কোন কথা বলতে পারলাম না।

ঢাকা থেকে আসা এক সেবা গ্রহীতা রুমা আক্তার বলেন, জেলা প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক স্যারের সাথে কথা বলা আমার খুব প্রয়োজন। কিন্তু এখানে এসে দেখি আন্দোলন চলমান। আমি কি চলে যাবো না কি করবো আমি সঠিক বুঝতে পারছি না। তাদের আন্দোলনের কারণে আমাদের কেন ভোগান্তি পোহাতে হবে।

আফজাল হোসেন বলেন, আমি মাদক সেবীদের বিষয়ে অভিযোগ নিয়ে এসেছিলাম। কিন্তু জেলা প্রশাসন কার্যালয়ে আন্দোলন চলমান। কার কাছে অভিযোগ দিবো সঠিক বুঝতে পারছি না।

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলা থেকে আসা বিথী আক্তার বলেন, আমি নার্সিং শেষ করে বেকার অবস্থায় বাসায় বসে আছি। ইতিপূর্বে আমি জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে দরখাস্ত করেছি। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি আমার পরীক্ষা। তাই ডিসি স্যারের কাছে আমি সাক্ষাত করতে এসেছি। কর্মবিরতি চলায় স্যারের কাছে কোন সাক্ষাত করতে পারি নাই। আমার মতো অনেকেই ভোগান্তির স্বীকার হচ্ছে। অনেক টাকা গাড়ি ভাড়া দিয়ে এসেও কোন সুফল পেলাম না।

আন্দোলনকারী বাংলাদেশ কালেক্টরেট সহকারী সমিতির (বাকাসস) টাঙ্গাইল জেলা শাখার সভাপতি মজিবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদদক মোতালেব সিদ্দিকী ও সাংগঠনিক সম্পাদক কবির হোসেন বলেন, গত দেড় যুগে একাধিকবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সচিব কমিটির মাধ্যমে একাধিকবার আশ্বাস দিলেও এখনও তা বাস্তবায়ন হয়নি। সারা বাংলাদেশে ৫০টি ডিপার্টমেন্টের পদ পদবী পরিবর্তন করা হয়েছে। সেখানে কোন প্রকার কমিটি লাগেনি। আমাদের বেলা কেন এতো তালবাহানা। আমাদের আন্দোলনের জন্য সাধারণ জনগনের ভোগান্তি হচ্ছে। আমরা মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলার জন্য আসিনি। আমরা মানুষকে সেবা দিতে এসেছি।

বক্তারা আরও বলেন, আমাদের পদবী পরিবর্তনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন আন্দোলনকারীরা। আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে আমাদের দাবি মেনে নিতে হবে। অন্যথায় লাগাতার কর্মসূচির হুশিয়ারি দেন বক্তারা।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, আন্দোলনের কারণে আমরা অস্বস্তিকর অবস্থায় রয়েছি। অনেক দূর থেকে অনেক সেবা প্রার্থীরা এখানে এসে ফেরত যাচ্ছেন। কারন আমাদের কার্যালয়ের যারা ফাইল ওয়ার্ক করেন তারা স্টাইক করেছেন। এটা দীর্ঘদিনের তাদের আন্দোলন। এ দাবিটি তাদের যৌক্তিক দাবি বলে আমি মনে করি। দাবি যৌক্তিক বলেন, আমরা সকল জেলা প্রশাসক উর্দ্ধতম কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষন করেছি। দাবির বিষয়ে মন্ত্রী পরিষদ বিভাগে পত্রও লিখেছি। মন্ত্রী পরিষদ বিভাগ থেকে জন প্রশাসন মন্ত্রণালয়ে বাস্তবায়নের জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ইতি মধ্যে ব্যবস্থা নিয়েছে। আশা করি শিঘ্রই এ দাবিও বাস্তবায়িত হবে।

Loading...