‘মোদিকে কাফনের কাপড় পরে স্বাগত জানানো হবে’

৩:০৫ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২০ আলোচিত বাংলাদেশ
baya

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্কঃ নাগরিকত্ব আইন নিয়ে সহিংসতার আগুনে পুড়ছে ভারতের দিল্লি। গত কয়েকদিন ধরে চলা বিক্ষোভে উগ্রবাদীদের হামলায় প্রায় ৩৯ জনের নিহতের খবর জানিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো। মুসলমানদের ওপর চালানো ধর্মীয় সহিংসতার প্রতিবাদে রাজধানীর বায়তুল মোকাররমে বিক্ষোভ করছে সমমনা কয়েকটি ইসলামিক দল।

শুক্রবার জুমার নামজ পর বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে এ বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু হয়।

বিক্ষোভ কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, মুসলমানদের উপর নির্যাতনকারী মোদিকে বাংলাদেশের মাটিতে পা রাখতে দেয়া হবে না। যেকোন মূল্যে মোদিকে প্রতিহত করা হবে। মোদি যদি বাংলাদেশে আসে তাহলে তাকে স্বাগত জানাতে আমরা কাফনের কাপড় পড়ে বায়তুল মোকাররম থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত দাঁড়াব। মোদিকে স্বাগত জানাতে সরকারের প্রয়োজন নেই। আমরাই যথেষ্ট।

এ সময় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সহ সভাপতি ও ঢাকা মহানগরীর আমির আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী বলেন, ভারতের উগ্র হিন্দুত্ববাদি গোষ্ঠি সে দেশের সাম্প্রদায়িক সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় মুসলমানদের উপর জুলুম নির্যাতনের যে নীল নকশা তৈরি করেছে, তার বিরুদ্ধে শান্তিকামী জনতা ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কঠোর প্রতিরোধ গড়ে না তুললে বিশ্বশান্তির জন্য বিপর্যয় বয়ে আনবে।

বিক্ষোভ সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন খেলাফত মজলিসের সভাপতি আল্লামা আব্দুল কাদের, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী।

এ সময় উপস্থিত অন্যান্য সমমনা দলগুলো হচ্ছে- জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, ইসলামী ঐক্য আন্দোলন এবং বাংলাদেশ মুসলিম লীগ।

এর আগে গত রোববার নাগরিকত্ব আইনের পক্ষে-বিপক্ষে সংঘর্ষ থেকে এ দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। এরপর মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) ভারতে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সফরকালেই ওই সহিংসতার জেরে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় দিল্লি।

তিন দিনের দাঙ্গায় দিল্লিতে আহত হয়েছেন অন্তত ২০০। তাদের মধ্যে গুলিতে আহতের সংখ্যা ৪৬। বুধবার রাতেও উত্তর–পূর্ব দিল্লির ভজনপুরা–জোহরাপুরী এলাকা থেকে গোলমালের খবর পাওয়া যায়। তবে মারাত্মক কিছু ঘটেনি। তিন দিন নিষ্ক্রিয় থাকা পুলিশ বৃহস্পতিবার কিছুটা নড়েচড়ে বসেছে। এলাকায় এলাকায় শান্তি কমিটিও সক্রিয়।

এদিকে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ পুলিশ ও অন্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এ বৈঠকে মঙ্গলবারই স্পেশাল পুলিশ কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পাওয়া এসএন শ্রীবাস্তবও যোগ দেন। তবে সহিংসতার ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে এখন তীব্র সমালোচনাও হচ্ছে।

Loading...