দিল্লিতে মুসলিমদের ওপর হামলার প্রতিবাদে বায়তুল মোকাররমে বিক্ষোভ

৩:১৪ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২০ ইসলাম
mosii

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্কঃ ভারতের দিল্লিতে মুসলমানদের ওপর হামলার প্রতিবাদে রাজধানী ঢাকায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ এলাকায় বিক্ষোভ করেছেন মুসল্লিরা। শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) জুমার নামাজের পর সমমনা ইসলামী দলগুলোর ব্যানারে মসজিদের গেটে এ বিক্ষোভ হয়। এসময় মুসল্লিরা বিভিন্ন স্লোগান দেন।

এর আগে শুক্রবার জুমার নামাজ পর বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু হয়। বিক্ষোভ কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, মুসলমানদের উপর নির্যাতনকারী মোদিকে বাংলাদেশের মাটিতে পা রাখতে দেয়া হবে না। যেকোন মূল্যে মোদিকে প্রতিহত করা হবে। মোদি যদি বাংলাদেশে আসে তাহলে তাকে স্বাগত জানাতে আমরা কাফনের কাপড় পড়ে বায়তুল মোকাররম থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত দাঁড়াব। মোদিকে স্বাগত জানাতে সরকারের প্রয়োজন নেই। আমরাই যথেষ্ট।

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সহ সভাপতি ও ঢাকা মহানগরীর আমির আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমীর নেতৃত্বে বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন খেলাফত মজলিসের সভাপতি আল্লামা আব্দুল কাদের, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী।

মাওলানা কাসেমী বলেন, ভারতের উগ্র হিন্দুত্ববাদি গোষ্ঠি সে দেশের সাম্প্রদায়িক সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় মুসলমানদের উপর জুলুম নির্যাতনের যে নীল নকশা তৈরি করেছে, তার বিরুদ্ধে শান্তিকামী জনতা ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কঠোর প্রতিরোধ গড়ে না তুললে বিশ্বশান্তির জন্য বিপর্যয় বয়ে আনবে।

এ সময় উপস্থিত অন্যান্য সমমনা দলগুলো হচ্ছে- জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, ইসলামী ঐক্য আন্দোলন এবং বাংলাদেশ মুসলিম লীগ।

সমাবেশের পর বিক্ষোভ মিছিলটি বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেট থেকে শুরু হয়ে পল্টনের বিভিন্ন সড়ক প্রদিক্ষণ করে।

উল্লেখ্য, বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী (সিএএ) আইনকে কেন্দ্র করে দাঙ্গা-সহিংসতায় ভারতের রাজধানী দিল্লিতে এখন পর্যন্ত ৩৯ জন প্রাণ হারিয়েছে। সহিংসতার ঘটনা তদন্তে দু’টি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়েছে।

গত রোববার নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের (সিএএ) সমর্থক-বিরোধীদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হলেও ধীরে ধীরে এটি সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় রূপ নেয়। এতে প্রতিদিনই বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। বৃহস্পতিবারও অন্তত সাতজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

তিন দিনের দাঙ্গায় আহত হয়েছেন অন্তত ২০০। তাদের মধ্যে গুলিতে আহতের সংখ্যা ৪৬। বুধবার রাতেও উত্তর–পূর্ব দিল্লির ভজনপুরা–জোহরাপুরী এলাকা থেকে গোলমালের খবর পাওয়া যায়। তবে মারাত্মক কিছু ঘটেনি। তিন দিন নিষ্ক্রিয় থাকা পুলিশ বৃহস্পতিবার কিছুটা নড়েচড়ে বসেছে। এলাকায় এলাকায় শান্তি কমিটিও সক্রিয়।

Loading...