ঝালকাঠির ধানসিড়ি ইকোপার্ক প্রকল্পটি ১৮ বছরেও বাস্তবায়িত হয়নি


❏ মঙ্গলবার, মার্চ ১০, ২০২০ দেশের খবর, বরিশাল

মো:নজরুল ইসলাম, ঝালকাঠি প্রতিনিধি: ঝালকাঠি শহরের অদূরে গাবখান ব্রীজ সংলগ্ন ৫টি নদীর মোহনায় জেগে ওঠা চরে বালু ও মাটি ভরাট করা হলেও ধানসিড়ি ন্যাশনাল ইকোপার্ক প্রকল্পটি ১৮ বছরেও বাস্তবায়িত হয়নি।

জমি সংক্রান্ত জটিলতায় স্থানীয় একটি মহলের মামলায় থেমে আছে কাজ। নানা জটিলতায় প্রকল্পটি আলোর মুখ না দেখায় হতাশ বিভিন্ন স্থান থেকে আগত পর্যটক ও জেলাবাসী।

২০০২ সালে ঝালকাঠির গাবখান, ধানসিড়ি, সুগন্ধা, বিষখালী ও বাসন্ডা এ পাঁচ নদীর মোহনায় জেগে ওঠা চরের ৫৫ একর খাস জমিতে ইকোপার্ক স্থাপনের প্রন্তাব করা হয়। যা বাস্তবায়ন করার কথা ছিল বন বিভাগের। প্রাকৃকিত সৌন্দর্যের অপূর্ব লীলভুমি এই স্থানে পার্কটি বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের জন্য বিভিন্ন সুবিধা সম্বলিত একটি আধুনিক পর্যটন ও বিনোদনকেন্দ্র হতো।

২০০৭-০৮ অর্থবছরে প্রকল্পের জন্য বরাদ্দও করা হয়েছিল ৪ কোটি টাকা। ওই সময় বালু দিয়ে ভরাট করা হয় প্রকল্প এলাকা। কিন্তু দীর্ঘ ১৮ বছরে একটি সাইনবোর্ডও স্থাপন করা সম্ভব হয়নি। প্রকল্পভুক্ত স্থানটির ৩৫ একর জমির মালিকানা দাবি করে স্থানীয় একটি স্বার্থান্বেষি মহল আদালতে কয়েকটি মামলা দায়ের করলে আটকে যায় প্রকল্পের কাজ।

প্রস্তাবিত এ পার্কে রেস্ট হাউজ, প্যাডেল বোট, গাড়ি পার্কিংয়ের স্থান, তথ্যকেন্দ্র, বিভিন্ন পশুপাখির ভাস্কর্য, বাগান, নদীর গাইড ওয়াল, বাঁধানো ঘাট, বিভিন্ন দুর্লভ প্রজাতির গাছ ও অভ্যন্তরিন ছোট ছোট সড়ক থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে বিশাল মাঠ ও কয়েকটি গাছের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ধানসিড়ি ন্যাশনাল ইকোপার্কটি।

নেই টিওবওয়েল, বাথরুম, নদীতে নামার সিড়ি ও শিশুদের চিত্ত বিনোদনের কোন উপকরন। নিরাপত্তহীনতা ও নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে দূরদুরান্ত থেকে আসা পর্যটক ও জেলাবাসীকে। এখানে প্রস্তাবিত ইকোপার্ক বাস্তবায়ন করা সম্ভব হলে জীব বৈচিত্র্যসংরক্ষণসহ বিলুপ্ত প্রায় উদ্ভিদ সংরক্ষণেও পার্কটি জাতীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ন অবদান রাখবে।

এ বিষয়ে মামলা জটিলতার কথা স্বীকার করে ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, এগুলো নিষ্পত্তির জোর প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। প্রকল্পের সব জমি সরকারের দখলে রয়েছে। দ্রুতই প্রয়োজনীয় স্থাপনা নির্মাণ করা হবে।

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন