‘জয় বাংলা’ নয়, এখন টিকে থাকার স্লোগান অপরিহার্য: রিজভী


❏ বুধবার, মার্চ ১১, ২০২০ জাতীয়

সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা- ‘জয় বাংলা’কে জাতীয় স্লোগান ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেয়া রায়ের সমালোচনা করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

গতকাল মঙ্গলবার দেয়া এ রায়ের প্রেক্ষিতে আজ বুধবার (১১ মার্চ) দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন রিজভী।

এসময় তিনি বলেন, ‘জয় বাংলা, মানে বাংলার জয়। যখন বাংলা পরাধীন ছিল তখন জয়ের প্রশ্ন আসছে। ১৯৭১ সালে মানুষ জয় বাংলা শ্লোগান দিয়েছে। এরপর তো স্বাধীন হয়ে গেছে দেশ। এখন হচ্ছে টিকে থাকার ব্যাপার। চারিদিকে যারা বাংলাদেশকে ছোট করে রাখতে চায় খাটো করে রাখতে চায় তাদের আধিপত্য বজায় রাখতে চায়, এই সমস্ত জায়গা থেকে এখন বাংলাদেশকে টিকে থাকা। এই টিকে থাকার জন্য স্লোগান অপরিহার্য।’

রিজভী বলেন, ‘পাকিস্তানিরা গণতান্ত্রিক অধিকার দেয়নি বলেই তো সেটা যুদ্ধের দিকে টার্ন নিলো। সুতরাং আমি কোন স্লোগান দেবো আদালত কেন পরামর্শ দিতে যাবে। যখন স্বায়ত্তশাসন বা স্বাধীনতা সংগ্রামের আন্দোলন চলছে তখন পাকিস্তানীরা যদি মনে করত যে না স্বাধীনতা সংগ্রাম ঠিক না তারা কি তখন আদালতের রায় দিয়ে স্বাধীনতা সংগ্রাম ঠেকাতে পারত? আদালতের রায় দিয়ে স্বাধীনতা যুদ্ধ ঠেকাতে পারত না।’

বিএনপির এ নেতা বলেন, ‘ইতিহাস নির্মাণ হয় জনগণের ইচ্ছা এবং পক্ষের নেতৃত্বের মাধ্যমে এখানে আদালতের রায়ের কোনো ভূমিকা নেই। কারণ মানুষ সচেতন হয়ে তার আশা-আকাঙ্ক্ষা অধিকার সম্পর্কে যখন সচেতন হয় তখন সংগ্রাম করে। আদালতের রায়ের ওপর কি ফরাসি বিপ্লব হয়েছে? কিন্তু মানুষ ফুঁসে উঠেছে কায়েমী স্বার্থবাদী যারা তখন দেশ শাসন করছেন তারা, তাদের পক্ষেই তো আদালত হয়। এর বাইরে তো যেতে পারে না।’

গত রোববার বিকালে বাংলাদেশে প্রথম নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঘটনা নিশ্চিত করেছে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান-আইইডিসিআর। আক্রান্ত তিনজনের মধ্যে দুজন ইতালির দুটি শহর থেকে সম্প্রতি দেশে ফিরেছেন। তাদের একজনের সংস্পর্শে আসায় পরিবারের এক সদস্য আক্রান্ত হন।

এ নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে আজ রিজভী বলেন, “করোনাভাইরাস নিয়ে দেশজুড়ে আতংকজনক পরিস্থিতি তৈরি হলেও সরকার এ নিয়ে রীতিমত চরম উদাসীনতা ও খামখেয়ালীপনা প্রদর্শন করছে। তাদের সমস্ত মনোযোগ ও ব্যস্ততা মুজিববর্ষ পালন নিয়ে।”

তিনি বলেন, করোনাভাইরাস নিয়ে কেউ দেশে প্রবেশ করলে শনাক্তের কোনো যথাযথ ব্যবস্থা নেই। বিমানবন্দরে টাকার বিনিময়ে করোনাভাইরাস মুক্তি সার্টিফিকেট বিক্রি করছে এক শ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা। এটা ইতিমধ্যে গণমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়েছে।

“যে কারণে বিমানবন্দরে ইতালি থেকে করোনাভাইরাস নিয়ে যারা দেশে এসেছেন তাদের রোগ শনাক্ত হয়নি। দেশে ফেরার চারদিন পর অবস্থার অবনতি হওয়ায় তারা নিজেরাই চিকিৎসকের কাছে গেলে সরকার তাদেরকে হাসপাতালে স্থানান্তর করে। ইতিমধ্যে তাদের একজনের স্ত্রীও করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।”

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন