• আজ মঙ্গলবার, ১২ শ্রাবণ, ১৪২৮ ৷ ২৭ জুলাই, ২০২১ ৷

ফরিদপুরে বনবিভাগের ৩০টি গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ


❏ রবিবার, মার্চ ১৫, ২০২০ ঢাকা, দেশের খবর

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর প্রতিনিধি- ফরিদপুরে মহা সড়কের দুই পাশ থেকে বনবিভাগের মালিকানাধীন আনুমানিক ৩০টি গাছ কেটে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ সড়ক বিভাগের কার্য সহকারীর নেতৃত্বে কেটে ফেলা ওই গাছগুলি বিক্রি করে দেয়া হয়েছে স্থানীয় ডাঙ্গী ইউনিয়ন পরিষদের কাছে।

এ ঘটনা ঘটেছে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলাধীন ডাঙ্গী ইউনিয়নের বাসাগাড়ি নামকস্থানে।

ফরিদপুর বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এনামুল হক বলেন, মহা সড়কের দুই পাশ থেকে গাছ কেটে ফেলার জন্য সড়ক বিভাগকে কোন অনুমতি দেওয়া হয়নি।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ফরিদপুর সড়ক বিভাগ এ উদ্যোগে ডাঙ্গি ইউনিয়নের বাসাগাড়ি হতে কাজী বাড়ির মধ্যবর্তী এক হাজার ২৯০ মিটার অংশে ক্ষতিগ্রস্থ মহাসড়কের সংস্কারের কাজ চলছে। সড়কের ওই জায়গা থেকেই ওই ৩০টি গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। গত ১৫ জানুয়ারি থেকে ৩০ জানুয়ারির মধ্যে এ গাছগুলি কেটে ফেলা হয়।

গত বুধবার দুপুর ২টার দিকে সরেজমিনে পরিদর্শন করে দেখা গেছে, ওই স্থানে মহাসড়কের উভয় পাশে ছোট বড় মিলিয়ে প্রায় ৩০টির মতো গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। গাছগুলি হলো মেহগনি, রেনট্রি ও শিশু গাছ। এ গাছগুলির আনুমানিক বয়স ৮/১০ থেকে ২০/২২ বছরের। কেটে ফেলা এসব গাছের অনেকগুলো বেকু মেশিন দিয়ে মাটির গভীর হতে শেকড় সমেত উপড়ে ফেলা হয়েছে। পাশাপাশি কেটে ফেলা কিছু গাছ গুড়ি এখনও দৃশ্যমান রয়েছে।

গাছ কাটার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ডাঙ্গি ইউনিয়নের সাত নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য কাজী সেকেন্দার আলী বলেন, সড়ক বিভাগের লোকজন মহাসড়কের দুই পাশ থেকে কিছু গাছ কেটে ফেলে। গাছ কাটার পর কিছু গাছ ইউনিয়ন পরিষদকেও তারা দেয়।

তিনি বলেন, বাসাগাড়ি এলাকা থেকে কেটে ফেলা ওই গাছ তিন কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ভবুকদিয়া এলাকাস্থ ডাঙ্গী ইউপি অস্থায়ী ভবনে আনতে সাত হাজার টাকা খরচ হয়েছে। তিনি বলেন, ওই গাছ দিয়ে বঙ্গবন্ধুর শতবার্ষিকীর ব্যানার ও ফেস্টুন বানানো হবে।

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বেকু চালানোর সুবিধার্থে ডাল কাটার অজুহাতে সড়ক বিভাগের কার্য সহকারী (ওয়ার্ক অ্যাসিস্ট্যান্ট) জিন্নাত আলীর নেতৃত্বে রাতের আধারে এসব গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। ওই স্থানটি নিরিবিলি হওয়ায় স্থানীয়রাও বিষয়টি তেমনভাবে জানতে পারেননি।

তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে সড়ক বিভাগের কার্য সহকারী জিন্নাত আলী বলেন, মহা সড়কের দুই পাশ থেকে কোন গাছ কাটা হয়নি। তিনি বলেন, বেকু মেশিন চালানোর সুবিধার জন্য নির্মাণ শ্রমিকরা কিছু গাছের ডাল কেটে ফেলতে পারে। তবে এ ব্যাপারে সড়ক বিভাগ জড়িত নয়।

ওই কাজের তদারকিতে নিয়োজিত রয়েছেন ফরিদপুর সড়ক বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আরিফুর রহমান। তিনি বলেন, মহা সড়কের সংস্কার কাজ চলাকালে বেকু মেশিন চালনার সুবিধার্থে মহাসড়কের মধ্যে চলে আসা উভয় পাশের কিছু গাছের ডালপালা কেটে ফেলা হয়েছে। তিনি দাবি করে বলেন, কিন্তু কোন গাছ গোড়া থেকে কাটা হয়নি। তিনি বলেন, গাছের ডাল কাটার জন্য বনবিভাগকে লিখিতভাবে অনুরোধও জানানো হয়েছে।

ফরিদপুর বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এনামুল হক বলেন, সড়ক বিভাগের কাছ থেকে তাদেরকে একটি চিঠি দেওয়া হয়েছে। ওই চিঠির ব্যাপারে বন বিভাগ কোন সিদ্ধান্ত দেয়নি। এ অবস্থায় যদি গাছগুলি কেটে ফেলা হয় তবে সেটা আইন বহির্ভূত কাজ হয়েছে। তিনি বলেন, এ বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন