🕓 সংবাদ শিরোনাম
  • আজ বৃহস্পতিবার, ২১ শ্রাবণ, ১৪২৮ ৷ ৫ আগস্ট, ২০২১ ৷

এক সাংবাদিক ধরতে ৪০ জনের বাহিনী, এটা তো বিশাল ব্যাপার: হাইকোর্ট


❏ রবিবার, মার্চ ১৫, ২০২০ আলোচিত বাংলাদেশ

সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা- কুড়িগ্রামে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাংবাদিক আরিফুল ইসলামকে দণ্ড দেয়ার ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট। আদালত বলেন, ‘একজন সাংবাদিককে ধরতে মধ্যরাতে তার বাসায় ৪০ জনের বিশাল বাহিনী গেলো, এ তো বিশাল ব্যাপার!’

এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে রবিবার (১৫ মার্চ) বিচারপতি মো. আশরাফুল কামাল ও বিচারপতি সরদার মো. রাশেদ জাহাঙ্গীরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ বিষয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন।

আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ইশরাত হাসান ও ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল দেবাশীষ ভট্টাচার্য্য।

এ সময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীকে আগামীকাল সোমবারের (১৬ মার্চ) মধ্যে রায়ের কপি ও মধ্যরাতে অভিযান পরিচালনার কারণসহ রাষ্ট্রপক্ষের কাছে পাঁচটি বিষয়ে তথ্য জানতে চাওয়া হয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষের কাছে যে বিষয়গুলো হাইকোর্ট চেয়েছেন তা হলো, সাংবাদিক আরিফুল ইসলামকে দেওয়া সাজা ও দণ্ডের আদেশের অনুলিপি, অভিযান কারা পরিচালনা করেছে মোবাইল কোর্ট নাকি টাস্কফোর্স, রাতে অভিযান পরিচালনার বিষয়ে আইন অনুসারে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কিনা, অভিযান পরিচালনার কারণ এবং আইন অনুসারে ঘটনা কার সম্মুখে কখন সংঘটিত হলো তা জানাতে হবে।

এ বিষয়গুলো নিয়ে কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসকের সঙ্গে যোগাযোগ করে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল দেবাশীষ ভট্টাচার্য্য সোমবার আদালতকে জানাবেন।

এর আগে রোববার সকালে বাংলা ট্রিবিউনের নির্বাহী সম্পাদক হারুন উর রশীদ জনস্বার্থে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ রিট আবেদন করেন।

আবেদনে টাস্কফোর্সের নামে আরিফুল ইসলামকে অবৈধ সাজা ও আটক করা কেন সংবিধান পরিপন্থি হবে না, আরিফুল ইসলামকে ৫০ লাখ টাকা কেন ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না এ মর্মে রুল জারির আর্জি জানানো হয়েছে।

এ ছাড়া কুড়িগ্রামের ডিসি, সিনিয়র সহকারী কমিশনার, সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে তাদের ভূমিকার ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য তলবের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আরিফের বিরুদ্ধে করা ভ্রাম্যমাণ আদালতের মামলার নথি এবং টাস্কফোর্স পরিচালনার নথি তলব করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, শুক্রবার (১৩ মার্চ) দিবাগত মধ্যরাতে কুড়িগ্রামের বাংলা ট্রিবিউনের জেলা প্রতিনিধি আরিফুল ইসলামকে মাদকবিরোধী অভিযানে আটক এবং পরে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানের সময় মাদকসহ আরিফুল ইসলাম রিগানকে আটক করা হয় বলে দাবি করা হয়।

তবে আরিফুল ইসলামের স্ত্রী মোস্তারিমা সরদার বলেন, ‘মধ্যরাতে বাড়ির দরজা ভেঙে ঢুকে আরিফকে পিটিয়ে জোর করে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। কোনো মাদক পাওয়া যায়নি।’

এদিকে সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম রিগ্যানকে ২৫ হাজার টাকায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সুজাউদ্দৌলা রোববার তাকে জামিন দেন। তবে সাংবাদিকের পরিবারের পক্ষ থেকে কেউ ওই জামিন আবেদন করেননি বলে জানা গেছে।

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন