🕓 সংবাদ শিরোনাম
  • আজ বৃহস্পতিবার, ২১ শ্রাবণ, ১৪২৮ ৷ ৫ আগস্ট, ২০২১ ৷

বগুড়ায় নদী দখল করে মাছের ঘের, নিরব প্রশাসন


❏ সোমবার, মার্চ ১৬, ২০২০ দেশের খবর, রাজশাহী

সাখাওয়াত হোসেন জুম্মা, বগুড়া প্রতিনিধি: মাছের চাষ করতে নদীতে পেন কালচারের নামে ঘের দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এর প্রেক্ষিতে বগুড়ার শেরপুরে চককল্যানী এলাকায় বাঙালি নদীর কিছু অংশের উভয় পাশ্বের র্অবৈধভাবে ঘের তৈরি করে মাছ চাষ করছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা।

এতে বাঙালি নদীর ওই অংশে স্বাভাবিকভাবে মাছ শিকার করতে না পারায় সম্প্রতি উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে ভূক্তভোগী জনসাধারণ।

এদিকে এহেন অভিযোগের খবর পেয়ে ১৫ মার্চ রোববার সকালে নদীর ওই অংশে গ্যাস ট্যাবলেট প্রয়োগ করে প্রায় কয়েক লাখ টাকার বিভিন্ন জাতের মাছ নিধন করে বাজারে বিক্রি করার অভিযোগও উঠেছে ওই প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে। এরফলে ওই নদীর অংশে সহজে মাছ ধরতে না পারায় দুর্বিসহ জীবনযাপন করছে স্থানীয় জেলে পরিবার। তবে বাঙালি নদীর অংশে অবৈধভাবে ঘের তৈরী ও মাছ চাষের বিষয়ে সাধারণ ভুক্তভোগীদের অভিযোগে উপজেলা প্রশাসনের নিরব ভূমিকায় নানা প্রশ্নের উদয় হচ্ছে সচেতনমহলে।

অভিযোগে জানা যায়, উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা ও কতিপয় ব্যক্তিকে ম্যানেজ করে উপজেলার সুঘাট ইউনিয়নের চককল্যানী গ্রামের ময়ান, স্বপন, খালিলসহ বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী বাঙালি নদীতে পেন কালচারের মাধ্যমে মাছ চাষের উদ্যোগ নেয়। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে বাঙালি নদীতে উপজেলার চককল্যানী গ্রামের ময়ান উদ্দীনের বাড়ি থেকে আজহারের বাড়ি পর্যন্ত মরা বাঙ্গালী উল্লেখ করে অবৈধপন্থায় সরকারীভাবে লীজ নেয়। তৈরী করে নদীর ওই এলাকা জুড়ে অবৈধ মৎস্য ঘের। এরপর দখলকারীরা গাছের কাটা ডালপালা নামিয়ে ও বাঁশের বেড়া দিয়ে নদীর প্রায় পুরো অংশ ঘিরে ফেলে। এতে নদীর প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি সহ ঘেরে কচুরিপানা দিয়ে পুরো নদী দখল করে নেয়া হয়।

শুধু তাই নয় ওই মাছের ঘেরে সংশ্লিষ্ট সুঘাট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু সাঈদের আদেশক্রমে “এখানে মাছ ধরা নিষেধ” নামের একটি সাইনবোর্ডও লাগানো হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হয়ে স্থানীয় মৎস্যজীবি অভিযোগ করে বলেন, নদীতে মাছের ঘের তৈরির কারণে নদীতে তারা স্বাচ্ছন্দ্যে মাছ শিকার করতে পারছেন না। ঘেরের আশপাশের এলাকায়ও জাল ফেলতে বাধা দেয়া হচ্ছে। অনেক সময় নদী দখলকারীদের হাতে লাঞ্ছিতের শিকার হচ্ছেন মৎস্যজীবিরা। দখলদাররা প্রভাবশালী হওয়ায় লাঞ্ছিত হওয়ার পরেও মৎস্যজীবিরা কোনো প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছেনা। এমনকি নদীতে শখের বসে হুইল বর্শি দিয়ে মাছ শিকারীদের সাথে প্রায়ই ঘটছে প্রতিবন্ধকতা ও অশালীন আচরণ। বড় ধরনের সংঘাত এড়াতে সম্প্রতি হুইলবর্শি দিয়ে মাছ শিকারী মাহফুজার রহমান, মুঞ্জুর আলম, বাবু, আব্দুল মান্নান ও আতিকুর রহমান সহ প্রায় ২৫ জন সাধারণ মানুষ উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দেন।

এদিকে ওই অভিযোগের বিষয়ে গত শনিবার অবধি প্রশাসন কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় এবং বিষয়টি জানতে পেরে মাছের ঘেরসহ আশপাশের এলাকায় অবৈধ ভাবে গ্যাস ট্যাবলেট প্রয়োগ করে মাছ নিধন করে নিয়ে গেছে প্রভাবশালী মহল।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলা সিনিয়ন মৎস্য কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে মাছ শিকারে নেমেছেন দখলদাররা। সেই সাথে অভিযোগের কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় প্রশাসন এবং মৎস্য দপ্তরের এমন কর্মকান্ডে আস্থা হারাতে বসেছে সাধারণ মানুষ।

এ বিষয়ে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মাসুদ রানা বলেছেন, প্রচলিত নিয়মনীতি অনুসরণ করেই ওই নদীর অংশে লীজ প্রদান করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে সুঘাট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু সাঈদ জানান, বাঙালী নদীর ওই অংশে মাছের ঘের এলাকায় “আমার নাম ব্যবহার করে” সাইনবোর্ড লাগানো হয়েছে, এ বিষয়ে আমি কিছুই জানতামনা। কেউ যদি এহেন কর্মকান্ড করে থাকে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা মো. লিয়াকত আলী সেখ অভিযোগ প্রাপ্তির সত্যতা স্বীকার করে বলেন, নদী দখল করে গ্যাস প্রয়োগের মাধ্যমে মাছ নিধন করে প্রাকৃতিক পরিবশে নষ্ট করা আইনত অপরাধ। তবে যারা একাজের সাথে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন