🕓 সংবাদ শিরোনাম
  • আজ বৃহস্পতিবার, ২১ শ্রাবণ, ১৪২৮ ৷ ৫ আগস্ট, ২০২১ ৷

বগুড়ায় করোনা সন্দেহে ইতালি ফেরত যুবককে নিয়ে আতঙ্ক-উত্তেজনা


❏ বুধবার, মার্চ ১৮, ২০২০ দেশের খবর, রাজশাহী

সাখাওয়াত হোসেন জুম্মা, বগুড়া প্রতিনিধি: সাম্প্রতিক সময়ে বিদেশ ফেরত প্রবাসীদের কোনো তথ্যই নেই সরকারি গোয়েন্দা সংস্থা বা স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে। দেশে ফেরার পর রিপোর্ট না করে বাড়িতে অবস্থান করায় তাদের সম্পর্কে কারো কাছেই কোনো তথ্য থাকছে না।

এ প্রেক্ষিতে বগুড়ায় ইতালি ফেরত এক যুবককে নিয়ে আতঙ্ক-উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ১৭ মার্চ মঙ্গলবার বিকেলে শহরের উত্তর চেলোপাড়া এলাকাবাসীর মধ্যে করোনা সন্দেহে এ আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

সম্প্রতি খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিদেশ থেকে দেশে ফেরা জনগণের কোনো তথ্য প্রসাশন সংশ্লিষ্ট কারো কাছেই নেই। কোনো প্রবাসী দেশে ফেরার পর রিপোর্ট করলে বা তাদের সম্পর্কে কেউ অবগত করলেই তাদের সম্পর্কে জানা সম্ভব হচ্ছে। পরে স্বাস্থ্য বিভাগ তাদের নিয়ম মাফিক হোম কোয়ারেন্টাইন করেছে।

জানা গেছে, গত ১৪ মার্চ ইতালি থেকে ঢাকায় আসেন ওই প্রবাসী যুবক। পরদিন ১৫ মার্চ দিবাগত রাতে তিনি বগুড়ায় নিজ বাড়িতে ফেরেন। এরপর থেকে তিনি বাড়িতে অবস্থান করলে করোনা সন্দেহে এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে ১৬ মার্চ সোমবার রাতে ওই যুবকের বাড়িতে গিয়ে তার স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন বগুড়া পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পরিমল কুমার।

পরিমল কুমার সময়ের কন্ঠকে জানান, ছেলেটি নামাজের জন্য মসজিদে যেতে চাইলে আমি তাকে ১৪ দিন অতিক্রান্ত না হওয়া পর্যন্ত (হোম কোয়ারেন্টাইনে) বাড়িতেই নামাজ পড়ার জন্য অনুরোধ করেছি।

তিনি আরও বলেন, মঙ্গলবার সকালে হঠাৎ করেই এলাকাবাসীর মধ্যে ওই ছেলেকে নিয়ে করোনা ভাইরাস আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই কেন সে বাড়িতে অবস্থান করছে সে ব্যাপারে প্রশ্ন তুললে এলাকাবাসীর সঙ্গে ওই যুবকের পরিবারের সদস্যদের কিছু বাদানুবাদ হয়। বিষয়টি আমি জানার পরপরই পুলিশ এবং স্বাস্থ্য বিভাগে ফোনে যোগাযোগ করি।

বগুড়ার সিভিল সার্জন ডা. গওসুল আজিম চৌধুরী সময়ের কন্ঠকে জানান, বিদেশ ফেরত সবার প্রতি স্বাস্থ্য বিভাগ নজরদারি করতে পারছে না। কেবল যারা হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন তাদের ব্যাপারে নিযুক্ত স্বাস্থ্য কর্মকর্তা-কর্মীরা নজরদারি করছেন। তারপরও প্রয়োজনের তুলনায় লোকবল কম হওয়ায় তারা (প্রবাসী) কতটা নির্দেশ মনে চলছেন তাও জানা সম্ভব হচ্ছে না।

সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সামির হোসেন মিশু জানান, ওই যুবক শারীরিকভাবে সুস্থ আছেন। আমাদের স্বাস্থ্য কর্মীরা ওই যুবক এবং তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেছেন। যেহেত তিনি ইতালি থেকে ফিরেছেন তাই ১৪ দিন অতিক্রান্ত না হওয়া পর্যন্ত তাকে হোম কোয়ারেন্টাইন অর্থাৎ বাড়ীতে থাকার পদ্ধতি শিখিয়ে দেওয়া হয়েছে।

বগুড়ার ডিএসবির পুলিশ সুপার (পদোন্নতিপ্রাপ্ত) আবদুল জলিল জানান, প্রতিদিন কতজন প্রবাসী বাড়িতে ফিরছেন তাদের সম্পর্কে কোনো তথ্য নেই। ঢাকার এসবি থেকে এ সংক্রান্ত তথ্য দিলে তারা সেই প্রবাসীর ব্যাপারে খোঁজ-খবর নিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগকে অবহিত করছেন।

বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম বদিউজ্জামান জানান, তিনি ওই যুবকের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন।

বগুড়া সিভিল সার্জন অফিসের কন্ট্রোল রুম থেকে পরিসংখ্যানবিদ শাহারুল ইসলাম জানান, সোমবার বিকাল পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন স্থানে বিদেশ ফেরত ৬৭ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে শিবগঞ্জে ১৭ জন, আদমদীঘিতে ১৫ জন, নন্দীগ্রামে ১৩ জন, সোনাতলায় ৯ জন, গাবতলীতে ৬ জন, বগুড়া সদরে ৫ জন, ধুনটে ১ জন ও সারিয়াকান্দিতে ১ জন।

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন