• আজ শুক্রবার, ১৫ শ্রাবণ, ১৪২৮ ৷ ৩০ জুলাই, ২০২১ ৷

নির্মাণের আগেই ভেঙে পড়লো দুর্যোগ সহনশীল ঘর

lalmoni
❏ শনিবার, মার্চ ২১, ২০২০ রংপুর

মোঃ ইউনুস আলী, লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় দুর্যোগ সহনীয় ঘর নির্মাণে ব্যপক অনিয়ম ও দুর্নীতির ফলে ঘর নির্মাণের আগেই দেয়াল ধসে পড়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে ভুক্তভোগীরা।

জানা গেছে, জমি আছে ঘর নেই- এমন দুঃস্থ ও হতদরিদ্রদের মাঝে দুর্যোগ সহনীয় বসতঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সরকারের ত্রাণ মন্ত্রণালয়। দুই কক্ষ, রান্না ও বাথরুমসহ করিডোর বিশিষ্ট প্রতিটি বাড়ির বিপরীতে দুই লাখ ৯৯ হাজার টাকা বরাদ্ধ দেয়া হয়। এ ক্ষেত্রে হতদরিদ্র এবং যারা ১০ শতাংশের নিচে জমির মালিক এবং থাকার ঘর নেই এমন জনগোষ্ঠিকে বাড়ি নির্মাণের লক্ষে সারাদেশের ন্যায় আদিতমারী উপজেলায় প্রকল্প গ্রহণ করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, এসব প্রকল্পের সুবিধাভোগী তথা তালিকা নির্বাচন করছে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ। এতেও রয়েছে নানান ধরনের অনিয়ম, ঘুষ ও স্বজনপ্রীতি।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার পলাশী ইউনিয়নের নামুড়ি ঈদগাহ মাঠ এলাকার মৃত শহিদার রহমানের স্ত্রী রোজেয়া বেওয়াকে দুর্যোগ সহনীয় বসতঘর নির্মাণ করতে একটি প্রকল্প দেয়া হয়। যার নাম চূড়ান্ত করতে সুবিধাভোগীকে গুনতে হয়েছে ৬০ হাজার।

ঘরের নির্মাণ শুরু হলে শ্রমিকদের খাওয়ানো, বালু ও রড ক্রয় করতে হয়েছে সুবিধাভোগীকে। যদিও সরকারিভাবে সকল খরচ বহন করতে বরাদ্ধ নিয়েছেন প্রকল্প চেয়ারম্যান শওকত আলী। এত কিছুর পরেও কাজ হচ্ছে দায়সারা রকমের। ফলে নির্মাণ শেষ না হতে ভেঙে পড়ছে ঘরের দেয়াল।

নিলটন পর্যন্ত ইটের কাজ শেষ করে নিলটন তৈরির আগেই বৃহস্পতিবার বিকেলে এ বাড়ির দেয়াল হঠাৎ ভেঙে পড়ে। তবে এতে কেউ হতাহত হয়নি বলে দাবি করেছেন বাড়ির মালিক রোজেয়া বেওয়া।

তিনি বলেন, টাকা ছাড়া ঘরের তালিকায় নাম দেন না চেয়ারম্যান শওকত আলী। নাম চূড়ান্ত করতে উপজেলা অফিসের কথা বলে ৬০ হাজার টাকা নিয়েছেন ইউপি চেয়ারম্যান। এরপরও শ্রমিকদের প্রতিদিন খাওয়াতে হয়, বালু ও রড কিনে দিতে হয়েছে। পিলার দেয়া হয়েছে দেয়ালের চার ভাগের একভাগ অংশে। সামান্য সিমেন্টে বালু মেশানো হয়। ফলে নিলটন না দিতেই দেয়াল ভেঙে মাটিতে পড়েছে।

তিনি বলেন, নিম্নমানের কাজটি বন্ধ করতে বলেও কোন কাজ হয়নি। এ ঘরে বসবাস করলে ইট পড়ে মরতে হবে। নিম্নমানের কাজের ঘর ভেঙে নতুন করে নির্মাণ করতে ঊর্দ্ধতন মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক একজন জনপ্রতিনিধি বলেন, অনিয়ম ও দুর্নীতির রাজা পলাশী ইউপি চেয়ারম্যান শওকত আলীর বিরুদ্ধে ইউপি সদস্যরাও কয়েক দফায় অভিযোগ দিয়েছেন বিভিন্ন দফতরে। এ চেয়ারম্যান টাকার বিনিময়ে দুর্যোগের ঘরগুলো দিচ্ছেন। এরপরেও কাজ করছেন নিম্নমানের। ফলে দুর্যোগ সহনীয় ঘরই দুর্যোগের ঝুঁকিতে পড়েছে। এমনভাবে নির্মিত এসব ঘরে বসবাস করা অত্যান্ত ঝুঁকিপুর্ন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এ বসতবাড়ি নির্মান প্রকল্পের সভাপতি পলাশী ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান শওকত আলী ঘুষ গ্রহনের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, দেয়াল ভেঙ্গে পড়লেও কাজ নিম্নমানের হয়নি। ভাঙ্গা অংশ মেরামত করে দেয়া হবে। সরকার যেভাবে করতে বলেছেন, সেভাবেই করা হয়েছে। নাম তালিকাভুক্ত করতে কোন টাকা নেয়া হয়নি। এলাকায় মন্ত্রীর কিছু লোক আছেন। যারা মন্ত্রীর সাথে আমার দুরুত্ব তৈরী করতে এমন অভিযোগ করাচ্ছেন।

আদিতমারী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মফিজুল ইসলাম বলেন, নির্মাণ কাজ শেষ না হতেই দেয়াল ভেঙ্গে পড়ার বিষয়টি জানা নেই। খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন