‘কাজের নিরাপদ পরিবেশ ছাড়া ডাক্তাদের বাধ্য করা মানবাধিকারের লঙ্ঘন’

nur
❏ শনিবার, মার্চ ২১, ২০২০ আলোচিত বাংলাদেশ

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্কঃ চিকিৎসক ডা. আব্দুন নূর তুষার বলেছেন, রাষ্ট্র যদি চিকিৎসকদের তদারকি করতে পারে, তাহলে কাজের নিরাপদ পরিবেশ করাও তাদের দায়িত্ব। নিরাপত্তা কেন দিবে না? এর জবাব দিতে হবে। ডাক্তারদেরও পরিবার আছে। চিকিৎসকদের পিপিই দেয়া না হলে কোনো চিকিৎসক সেবা দিতে বাধ্য না। বাধ্য করতে পারেন না। এটা মানবাধিকারের লঙ্ঘণ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এফডিএসআরের একটি সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন সংগঠনের উপদেষ্টা ডা. আব্দুন নূর তুষার।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের ৯০ হাজার চিকিৎসক কমপক্ষে প্রত্যেকদিন রোগী দেখেন। তাদের জন্য প্রতিদিন একটি করে ইকুইপমেন্ট দরকার। আগামী তিন মাস যদি দরকার হয় তাহলে ৫১ লাখ পিপিই (পারসোনাল প্রটেকশন ইক্যুইপমেন্ট) দরকার।

‘কিন্তু এটার কোনো হিসাব আছে? কোনও হিসাব নেই। এগুলো যদি আমরা হিসাব না করি, তাহলে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের কাজ কি? আজকে আমাদের কাজ কি? আমরা লেখাপড়া করেছি কী কারণে?’

সম্প্রতি ঢাকা মেডেকেল কলেজ হাসপাতালে কানাডাফেরত এক তরুণীর মৃত্যুর ঘটনা উল্লেখ করে ডা. তুষার আরও বলেন, একজন রোগী কানাডা থেকে এসেছে সেজন্য তাকে দেখতে যায়নি একজন চিকিৎসক। এটা সেই চিকিৎসকের দোষ না, এটা যেকোনো মানুষের স্বাভাবিক প্রবৃত্তি। আমি (একজন চিকিৎসক হিসেবে) যদি নিরাপত্তায় না থাকি, আপনি বলেন তো লাঠি, বন্দুক, ঢাল বা কোনো তলোয়ার ছাড়া একজন নিরাপত্তারক্ষীকে তার বাড়ি পাহারা দিতে দিবে সে?’

এই চিকিৎসকের ভাষ্য, চোর ধরার ইকুইপমেন্ট ছাড়া যদি তাকে আপনি চোর ধরতে পাঠান, দেবে? একটা লাঠি হলেও দিতে হয় একজন দাড়োয়ানের হাতে।

তুষার বলেন, যদি প্রত্যেক ১৩ জন ১৪ জন রোগী ধরা পড়ার বিনিময়ে চারজন করে ডাক্তার কোয়ারেন্টিনে যেতে হয় তাহলে হিসাব করেন ৯০ হাজার চিকিৎসককে কোয়ারেন্টিন হতে কয় মাস লাগে।’

তিনি বলেন, আমরা তো অন্যায় কিছু চাই নাই, আমরা তো আমাদের জন্য জামা-জুতা গয়না কিনতে বলি নাই। আমরা চিকিৎসা করার ইকুইপমেন্ট চেয়েছি এবং এটা দিতে হবে, এটার দায়িত্ব কাউকে না কাউকে নিতে হবে। আর দায়িত্ব নিতে না পারলে সেটাও বলতে হবে উনারা নিতে পারবেন না।

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন