• আজ শনিবার, ১৮ অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ ৷ ৩ ডিসেম্বর, ২০২২ ৷

অনলাইন ব্যাংকিং জালিয়াতি করে অর্ধকোটি টাকা চুরি, ৩ প্রতারক গ্রেফতার


❏ রবিবার, মার্চ ২২, ২০২০ অপরাধ, আলোচিত

রবিউল ইসলাম, সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা- অনলাইন ব্যাংকিং জালিয়াতি করে শতাধিক গ্রাহকদের অর্ধকোটি টাকা চুরির ঘটনায় প্রতারক চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ক্রাইম বিভাগ।

গত ২০ ও ২১ মার্চ রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন- চক্রের প্রধান মামুন তালুকদার এবং তার দুই সহযোগী রাজু ফারাজী ও মোঃ মিঠু মৃধা।

ডিএমপির সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ক্রাইম বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) নাজমুল ইসলাম সময়ের কণ্ঠস্বরকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, গত শুক্রবার (২০ মার্চ) ভোরে চক্রের প্রধান মামুন তালুকদারকে কক্সবাজারের একটি হোটেল থেকে প্রথমে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যমতে সেদিন রাত ৮ টার দিকে রাজধানীর যাত্রাবাড়ি থেকে রাজু ফারাজী ও পরদিন শনিবার ভোরে মিঠু মৃধাকে ফরিদপুরের ভাঙা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

এ সময় তাদের কাছ থেকে ব্যাংকিং প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত একটি এক্সিও গাড়ি, ৭টি বিশেষ এপ্সযুক্ত মোবাইল ফোন, অসংখ্য ভুয়া রেজিস্ট্রেশনকৃত মোবাইল সিমকার্ড, একাধিক ব্যাংক, বিকাশ, নগদ ও স্ক্রিল একাউন্ট জব্দ করা হয়।

নাজমুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা তাদের অপরাধের কথা স্বীকার করেছেন। এ ঘটনায় ডিএমপির ধানমন্ডি থানায় নিয়মিত মামলা রুজু করে অভিযুক্তদের ১০ দিনের পুলিশ রিমান্ডের আবেদন করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, বেশ কিছু মাস যাবত প্রতারক চক্রটি অভিনব ও সুনিপুণ কায়দায় বিভিন্ন ডায়লার অ্যাপস দিয়ে কয়েকটি ব্যাংকের হেড অফিসের কার্ড ডিভিশনের মোবাইল নম্বর স্পুফ করে শাখা-ম্যানেজারদের কল দিয়ে আগের মাসের নতুন কার্ড ব্যবহারকারীদের নাম, কার্ড নম্বর এবং মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করত।

তারপর প্রতারকরা ব্যাংকের কাস্টমার কেয়ার এজেন্ট সেজে গ্রাহকদের কল করে বলত যে তারা ব্যাংক থেকে তার নতুন কার্ডটি একটিভ করা বা অন্য কিছু ফিক্স করার জন্য কল করেছে। এরপর চক্রটি কৌশলে স্পুফড মোবাইল কলের মাধ্যমেই গ্রাহকদের কার্ডের মেয়াদ, ৩/৪ ডিজিটের সিভিভি কোড এবং প্রয়োজন সাপেক্ষে মোবাইলের ওটিপি সংগ্রহ করে গ্রাহকদের কার্ড থেকে টাকা/ডলার প্রতারকদের লন্ডন ভিত্তিক ই কমার্স অ্যাপস স্ক্রিল একাউন্ট, বিকাশ বা নগদ এ ট্রান্সফার করে ও পরবর্তীতে এটিএম বুথ বা বিকাশ বা নগদ এজেন্ট থেকে ক্যাশ আউট করত।

এভাবে দেশের একাধিক শীর্ষ স্থানীয় ব্যাংকের শতাধিক গ্রাহকদের অর্ধ কোটি টাকা চুরি গেলে কয়েকটি ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ডিএমপি’র সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ক্রাইম বিভাগের আ ফ ম আল কিবরিয়ার কাছে অভিযোগ জানালে তিনি সঙ্গে সঙ্গেই বাংলাদেশ ব্যাংককে ঘটনাটি অবহিত করেন।

পরে তার প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ ও নির্দেশনায় সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ক্রাইম বিভাগের একটি টিম ঢাকা, ফরিদপুরের ভাঙ্গা এবং কক্সবাজারের প্রায় লক্ষাধিক মোবাইল নম্বর ও ডায়লার অ্যাপসের আইপি বিশ্লেষণসহ উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই প্রতারক চক্রকে সনাক্ত করা হয়।