সংবাদ শিরোনাম
করোনায় ঢাকার সাবেক এমপি মকবুলের মৃত্যু | বরিশালে ঘূর্ণিঝড়ে বিধ্বস্তদের ঘর মেরামত করে দিলেন সেনাবাহিনী | এবার প্রবাসীদের বাড়িতে ঈদ উপহার পাঠালেন মাশরাফি | ইতালিতে ঈদুল ফিতর উদযাপন করলেন ২৫ লাখ মুসল্লি | করোনাকালে “এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট” হিসেবে দায়িত্ব পালনের গল্প | ঠাকুরগাঁওয়ে কর্মহীনদের ঈদ উপহার দিল সেনাবাহিনী | করোনা চিকিৎসায় ১৩টি হাসপাতালে রেমডেসিভির সরবরাহ শুরু | কৃষকদের ধান কেটে দেওয়ায় ছাত্রলীগকে প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন | জীবিকার স্বার্থে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড চালু করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী | “পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সরকারি সহায়তা অব্যাহত থাকবে” |
  • আজ ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

ঝালকাঠিতে বিদেশ ফেরত ৮৭৮ জনকে খুঁজছেন গোয়েন্দারা

১১:৫৭ অপরাহ্ণ | রবিবার, মার্চ ২২, ২০২০ বরিশাল
goyenda

মোঃনজরুল ইসলাম, ঝালকাঠি প্রতিনিধি: ঝালকাঠিতে বিদেশফেরত সবাইকেই হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে বলে স্বাস্থ্য বিভাগ দাবি করলেও সরকারি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো খুঁজে বেড়াচ্ছেন ৮৭৮ জনকে। কারণ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের থেকে গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিদের কাছে মার্চ মাসে বিদেশ থেকে ঝালকাঠিতে ১০২৩ জন ফিরে আসার তালিকা পাঠানো হয়েছে।

অথচ জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে এখন পর্যন্ত তাদের কাছে ১৪৫ জনের তালিকা রয়েছে, সবাই হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় প্রবাস ফেরত ২৫ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয় বলেও জানান সিভিল সার্জন ডা. শ্যামল কৃষ্ণ হাওলাদার। জানা যায়, মার্চের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন দেশ থেকে ঝালকাঠি জেলার ১০২৩ জন ফিরেছেন। তাদের মধ্যে মাত্র ১৪৫ জনের সন্ধান পেয়ে স্বাস্থ্য বিভাগ ১৪ দিনের হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখে।

এছাড়াও ১৮ জনের হোম কোয়ারেন্টাইনের সময় শেষ হলে, তাদের ছাড়পত্র দেওয়া হয়। এদিকে জেলার বিভিন্ন এলাকায় বিদেশফেরত ব্যক্তিরা বাইরে ঘোরাফেরা করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। এদের মধ্য থেকে ছয়জনকে জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। অন্যদের সন্ধান এখনো পায়নি কোন সংস্থা। তবে এসব ব্যক্তির তালিকা অনুযায়ী খুঁজে বেড়াচ্ছেন সরকারের গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিরা। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক একটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধি জানান, স্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে তাদের কাছে স্বরষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাঠানো তালিকার কোন মিল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিরা কোথাও বিদেশফেরত ব্যক্তিরা ঘুরে বেড়ানোর খবর দিলে, স্বাস্থ্য বিভাগ হোম কোয়ারেন্টাইনে পাঠায়। জেলা প্রশাসনকে জানালে, তারা জরিমানা করেন। কিন্তু এখনো যারা আত্মগোপনে রয়েছেন, অথবা গ্রামাঞ্চলে ঘুরে বেড়াচ্ছেন; তাদের খুঁজে পাচ্ছেন না কেউই। সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র জানায়, বাংলাদেশ ইমিগ্রেশন থেকে ঝালকাঠি স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে বিদেশফেরত ৯৬০ জনের তালিকা পাঠানো হয়। এদের মধ্যে অনেককে খুঁজে পায়নি তারা। অনুসন্ধানের পরে অতিসম্প্রতি যাদের খুঁজে পাওয়া গেছে, তাদের মধ্যে ১৪৫ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে। এদের মধ্যে কেউ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়নি বলে স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে।

এর পরেও যদি কোথাও বিদেশফেরত ব্যক্তিদের সন্ধান পাওয়া যায়, তাদের তথ্য দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে সিভিল সার্জন ডা. শ্যামল কৃষ্ণ হাওলাদার। যারা আইন লঙ্ঘন করে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকবেন না, তাহলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

ঝালকাঠির সিভিল সার্জন ডা. শ্যামল কৃষ্ণ হাওলাদার বলেন, ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে চারটি আইসোলেশন কক্ষ তৈরি করা হয়েছে। প্রতিটি কক্ষে চারটি করে বিছানা রাখা আছে। এছাড়াও তিনটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একটি করে আইসোলেশন কক্ষ তৈরি করা হয়েছে। আইসোলেশন কক্ষে এখনো কেউ ভর্তি হয়নি। স্বাভাবিক জ্বর, সর্দি ও কাশি নিয়ে প্রতিদিন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসছে অনেকেই। তবে এদের মধ্যে কারোরই করোনা ভাইরাসের লক্ষণ দেখা যায়নি। আমাদের কাছে এখন পর্যন্ত ১৪৫ জনের তালিকা রয়েছে, তারা সবাই হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন।

ঝালকাঠির জেলা প্রশাসক মো. জোহর আলী বলেন, বিদেশ থেকে আসা কেউই আপাতত ঘর থেকে বের হতে পারবে না। তাদের ১৪ দিনের হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে। ইতোমধ্যে যারা ঘর ছেড়ে বাইরে গিয়েছিলেন, তাদের জরিমানা করে পুনরায় নিজের ঘরে পাঠানো হয়েছে। কেউ আইন অমান্য করলে জেল-জরিমানাসহ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।