চীনে করোনা আক্রান্তের এক তৃতীয়াংশের কোনো লক্ষণ ছিল না!

১২:২২ পূর্বাহ্ণ | সোমবার, মার্চ ২৩, ২০২০ ফিচার
chaina

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ চীনে করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের বড় অংশই ছিল নীরব বাহক। তাদের শরীরে করোনায় আক্রান্তের লক্ষণ ছিল না কিংবা অনেক দেরিতে প্রকাশ পেয়েছিল। চীনা সরকারের একটি গোপন নথিকে উদ্ধৃত করে সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট এ তথ্য জানিয়েছে।

গত ফেব্রুয়ারির শেষে চীনে ৪৩ হাজারেরও বেশি মানুষ করোনা টেস্টে পজিটিভ হন। কিন্তু তাদের শরীরে কোনো আক্রান্তের লক্ষণ পাওয়া যায়নি। এটিকে অ্যাসিম্পটোমেটিক বলা হচ্ছে এ নথিতে। তাদের কোয়ারেন্টানে রাখা হয়েছিল এবং তাদেরকে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছিল। কিন্তু নিশ্চিত আক্রান্ত নন বলে তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়নি। ওই সময়ে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৮০ হাজার।

এই অ্যাসিম্পটোমেটিক অবস্থা করোনাভাইরাস ছড়াতে কি ভূমিকা রাখে সে বিষয়ে এখনো একমত হতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। তবে একজন রোগী সাধারণত পাঁচ দিনের মধ্যে লক্ষণগুলো প্রকাশ করে থাকে। যদিও কিছু ক্ষেত্রে তিন সপ্তাহ পরও আক্রান্ত ব্যক্তি লক্ষণ প্রকাশ করতে পারে।

করোনার লক্ষণ প্রকাশ পাক বা না পাক, পরীক্ষায় যারা পজিটিভি আসে তাদের করোনা রোগী হিসেবে তালিকাভুক্ত করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। দক্ষিণ কোরিয়াও তাই করে। তবে চীন গত ৭ ফেব্রুয়ারি তাদের নীতিমালায় পরিবর্তন আনে। যাদের শরীরে করোনার লক্ষণ প্রকাশ পায় তাদেরকেই করোনা রোগী হিসেবে শনাক্ত করে তারা। যুক্তরাষ্ট্র, ইংল্যান্ড এবং ইতালি লক্ষণ ছাড়া করোনা টেস্ট করে না।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিবেদন অনুসারে, ইতালিতে লক্ষণ প্রকাশ পায়নি এমন রোগীর সংখ্যা মোট আক্রান্তের ৪৪ শতাংশ।

অস্টিনে ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাসের গবেষণা বলছে যাদের শরীরে কখনো কোনো লক্ষণই দেখা যায়নি, তারা চীনের ৯৩টি শহরের ৪৫০ কেসের ১০ শতাংশের জন্য দায়ী। ইমার্জিং ইনফেকশাস ডিজিজেস নামে জার্নালে এই গবেষণা প্রতিবেদনটি ছাপা হওয়ার অপেক্ষায় আছে।

‘লক্ষণ নেই, এমন রোগীদের মধ্যে বড়দের চেয়ে শিশুদের সংখ্যাই বেশি’, গবেষক নিশিউরা লিখেছেন ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব ইনফেকশাস ডিজিজ প্রকাশনায়।