সৈয়দপুরে করোনার লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালে যুবক, বাঁশবাড়ি মহল্লার ১১ বাড়ি লকডাউন!

৯:১৫ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, মার্চ ২৪, ২০২০ আলোচিত, রংপুর

সময়ের কণ্ঠস্বর, নীলফামারী :: নীলফামারীর সৈয়দপুরে এক যুবকের মাঝে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের লক্ষণ পরিলক্ষিত হওয়ার প্রেক্ষিতে ১১টি বাড়ি ও কিছু দোকান এবং একটি হোটেল লকডাউন করেছে উপজেলা প্রশাসন।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) বিকাল ৫টায় উপজেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট শহরের বাঁশবাড়ি মহল্লায় এ লকডাউনের সিদ্ধান্ত ঘোষণা দেন। এসময় সৈয়দপুর পৌরসভার প্যানেল মেয়র জিয়াউল হক জিয়া, স্থানীয় ১৪ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবিদ হোসেন লাড্ডান, মহিলা কাউন্সিলর জোসনা বেগম, সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) আতাউর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এই লকডাউনের আওতায় ওই যুবকের বাড়ির আশেপাশে থাকা মুদি দোকান, একটি হোটেলসহ ১০টি বাড়ি রয়েছে। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

জানা যায়, শহরের বাঁশবাড়ি মসজিদ বায়তুস সালাম (টালি মসজিদ) সংলগ্ন পাকিস্তানী উর্দুভাষী ক্যাম্পবাসীদের সংগঠন এসপিজিআরসির অফিসের সামনের বাড়িতে ৬-৭ দিন আগে ঢাকা থেকে আসেন ইমরান হোসেন (৩৫)। তিনি স্থানীয় উর্দূভাষীদের নেতা আশরাফুল হক বাবুর ভাগিনা। নারায়ণগঞ্জের একটি চাইনিজ কোম্পানিতে চাকরি করতেন ইমরান। সৈয়দপুরে আসার পর থেকেই তিনি সর্দি-কাশি ও জ্বরে ভুগছিলেন। সাথে শ্বাসকষ্টও হচ্ছিল তার।

কিন্তু তিনি ও তার পরিবারের লোকজন অসুস্থতার বিষয়টি গোপন রেখে বাসায় অবস্থান করছিলেন। মঙ্গলবার বিকাল ৪ টার দিকে তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্সে বিশেষ ব্যবস্থায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায় তার পরিবারের লোকজন। বিষয়টি দেখে স্থানীয়দের মনে সন্দেহ হলে তার করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের খবরটি মুহুর্তেই পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এতে এলাকায় ভীতিকর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

এক পর্যায়ে স্থানীয়রা বিষয়টি সৈয়দপুর প্রশাসনকে অবহিত করলে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) পরিমল কুমার সরকার বিকাল ৫ টায় ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন এবং ঘটনার বিবরণ শুনে আশপাশের মুদি দোকান ও একটি হোটেল সহ প্রতিবেশী ১০ জনের বাড়ি লকডাউন ঘোষণা করেন।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) পরিমল কুমার সরকার বলেন, ইমরান হোসেনের বাড়িসহ তার পাশে থাকা মুদি দোকানগুলো ও একটি হোটেল সহ ১০ টি বাড়ির লোকজন বাড়ির বাইরে বের হতে পারবেন না এবং তাদের বাড়িতেও বাইরে থেকে কেউ যেতে পারবেন না।

তাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসসহ খাদ্যের যোগান কিভাবে হবে এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, বাড়ির বাসিন্দাদের প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী নিকট আত্মীয়-স্বজনদের মাধ্যমে সংগ্রহ করতে হবে। সেক্ষেত্রে আত্মীয়রা পন্য-সামগ্রী সেই বাড়ি সংলগ্ন একটি মোড়ের নির্দিষ্ট স্থানে রেখে যাবেন এবং তারা পরে এসে সেখান থেকে সেগুলো নিয়ে যাবেন।

এদিকে এ ব্যাপারে হাসপাতালে ভর্তির পর রংপুর জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সদস্য সচিব সিভিল সার্জন হিরম্ব কুমার রায় বলেন, জ্বর-সর্দি-কাশি নিয়ে ওই যুবককে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। তাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তার শরীরের নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। সংগৃহীত নমুনা ঢাকায় রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে (আইইডিসিআর) পাঠানো হবে।

Loading...