• আজ বৃহস্পতিবার। গ্রীষ্মকাল, ৯ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ। ২২শে এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ। রাত ১০:৪৩মিঃ

রংপুরে বিদেশ ফেরত ২ হাজার ব্যক্তিকে শনাক্তে মাঠে নেমেছে সেনাবাহিনী

⏱ | শনিবার, মার্চ ২৮, ২০২০ 📁 দেশের খবর, রংপুর

সাইফুল ইসলাম মুকুল, রংপুর প্রতিনিধি- রংপুর বিভাগের ৮ জেলায় বিদেশ ফেরত ২ হাজার ৩০ জনের ঠিকানা ও অবস্থান চিহ্নিত করতে পারেনি প্রশাসন। তাদের চিহ্নিত করতে পুলিশ, র‌্যাব, সেনাবাহিনীসহ প্রশাসন মাঠে কাজ করছে। দ্রুত বিদেশ ফেরতদের অবস্থানসহ হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করার দাবী জানিয়েছেন সচেতনরা।

শুক্রবার সেনাবাহিনী বিদেশ ফেরতদের অবস্থান নিশ্চিত করতে নগরীর জুম্মাপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় বেশ কিছু বাড়িতে গিয়ে বিদেশ ফেরতদের অবস্থান নিশ্চিত করেন তারা।

রংপুর বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় থেকে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো তথ্য তালিকা থেকে জানা যায়, রংপুর বিভাগের ৮ জেলায় ২ হাজার ২৬ জন বিদেশ ফেরত ব্যক্তিদের ঠিকানা অবস্থান চিহ্নিত করা যায়নি। এর মধ্যে কুড়িগ্রাম জেলায় ৬০১ জনের মধ্যে ৩৩৪ জন, দিনাজপুরে ২ হাজার ২৬৪ জনের মধ্যে ২ হাজার ১২ জন, ঠাকুরগাঁয়ে ১ হাজার ৪০৩ জনের মধ্যে ২৩৫ জন, পঞ্চগড়ে ৯৭০ জনের মধ্যে ৮০৬ জন, লালমনিরহাটে ৩৬৬ জনের মধ্যে ১৮৭ জনের ঠিকানা অবস্থান চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে নীলফামারী ও গাইবান্ধা জেলায় বিদেশ ফেরত সকলের অবস্থান চিহ্নিত করা গেছে। এছাড়া রংপুর জেলার বিদেশ ফেরতদের পরিসংখ্যান নেই বিভাগীয় প্রশাসনের কাছে।

এদিকে করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় রংপুর বিভাগের ৮ জেলায় ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে। করোনা রোগীদের চিকিৎসার জন্য রংপুর বিভাগের কুড়িগ্রাম জেলায় ৪১টি বেড ও একটি অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রয়েছে।

দিনাজপুর জেলায় ১’শটি বেড, ২৭৫ জন চিকিৎসক, ৯৩০ জন নার্স, ১০০টি পিপিই মজুদ রয়েছে। এছাড়া ৫৩০টি পিপিই সংশ্লিস্টদের মাঝে বিতরন করা হয়েছে। করোনা রোগী পরিবহনে একটি অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত করা হয়েছে।

ঠাকুরগাঁও জেলায় করোনা রোগীর চিকিৎসায় ৪৩টি বেড, ৩৫ জন চিকিৎসক, ৬১ জন নার্স, ২৮৫টি পিপিই’র ও একটি অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পঞ্চগড় জেলায় ৪০টি বেড, ১০১ জন চিকিৎসক, ২৫৫ জন নার্স নিযুক্ত করা হয়েছে। ৬২০টি পিপিই মজুদ করাসহ একটি অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

গাইবন্ধায় ৩৫টি বেড, ১২৬ জন চিকিৎসক, ১৯০ জন নার্স, ৮৫৮টি পিপিই মজুদ ও ৮টি বিতরন করা হয়েছে। একটি অ্যাম্বুলেন্স করোনা রোগী পরিবহনে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। লালমনিরহাটে করোনা রোগীর চিকিৎসায় ৪৭টি বেড, ৩৩ জন চিকিৎসক, ৩৩ জন নার্স, ৬১৫টি পিপিই মজুদ এবং ৩০টি বিতরন করা হয়েছে। এছাড় একটি অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

নীলফামারীতে ১৩৮টি বেড, ২২৫ জন চিকিৎসক, ৪০১ জন নার্স, ৮৭টি পিপিই মজুদ ও ৬৩টি পিপিই বিতরন করা হয়েছে। এছাড়া ৬টি অ্যাম্বুলেন্স করোনা রোগীদের পরিবহনে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

এ ব্যাপারে রংপুর বিভাগীয় কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) জাকির হোসেন বলেন, চলতি বছরের ১ মার্চ হতে বিদেশ থেকে আগত ব্যক্তিদের তালিকা করা হয়েছে। এর মধ্যে বেশি ভাগেরই ঠিকানা ও অবস্থান চিহ্নিত করা হয়েছে। যাদের ঠিকানা ও অবস্থান চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি তাদের খোঁজে মাঠে নেমেছে পুলিশ, র‌্যাব, সেনাবাহিনীর সদস্যরা। আশাকরি দ্রুতই তাদের অবস্থান সনাক্ত করাসহ যারা স্বেচ্ছায় হোম কোয়ারেন্টাইনে যায়নি তাদের কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করবো।

এছাড়া করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় ৮ জেলার চিকিৎসা প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। যদি করোনা রোগী পাওয়া যায়, তাদের চিকিৎসায় কোন সমস্যা হবে না।