অবশেষে ক্ষমা চাইলেন যশোরের সেই এসিল্যান্ড

৬:২২ অপরাহ্ণ | শনিবার, মার্চ ২৮, ২০২০ আলোচিত বাংলাদেশ

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক- মাস্ক না পড়ার কারণে বৃদ্ধদের কান ধরে ওঠবস করিয়ে আলোচনায় এসেছেন যশোরের মণিরামপুরের সহকারী কমিশনার, ভূমি (এসিল্যান্ড) সাইয়েমা হাসান। সমালোচনার মুখে আজ শনিবার তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

গতকাল শুক্রবারের সেই ঘটনার জন্য অবশেষে ক্ষমা চেয়েছেন প্রত্যাহার হওয়া এসি ল্যান্ড সাইয়েমা হাসান। তিনি বলেন, ‘আমি স্বীকার করছি আমার কাজটা করা ঠিক হয়নি। আমি মন থেকে এর জন্য অনুতপ্ত। আমি অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করছি।’

ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে সাইয়েমা হাসান বলেন, ‘শুক্রবার বিকেলে বাজার মনিটরিং ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতকরণের জন্য অভিযানে বের হই। এ সময় চেষ্টা করি বাজারে মানুষজনের জমায়েত দূর করার এবং তাদের বিশেষ কাজ ছাড়া বাজারে ভিড় করতে নিষেধ করি। যারা মাস্ক পরেনি তাদের জিজ্ঞেস করছিলাম, মাস্ক কেন পড়েনি? এই সময়ে উক্ত ছবির আলোচিত ব্যক্তিরাও ওখানে ছিল।’

সাইয়েমা বলেন, ‘সে মাস্ক কেন পরেনি জিজ্ঞাসা করতেই তারা নিজেরাই ভয়ে কান ধরেছে, কাল থেকে মাস্ক ছাড়া বের হবে না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এই সময় আমি ছবি তুলতে তুলতে বললাম যে, আমি গতকালও এখানে এসে অনেককে বলেছি, কিন্তু আজও এরকম দেখছি। এই যে আপনাদের আজ ছবি তুলে রাখছি, আবার দেখলে কিন্তু শাস্তি দেব।’

সাইয়েমা হাসান আরও বলেন, ‘এই ছবিগুলো ফেসবুকে যেভাবে এসেছে, এই ধরনের কোনো ইচ্ছা আমার ছিল না। ওই মুহূর্তে আমি ঠিক এর তীব্রতা বুঝতে না পারলেও পরবর্তীতে আমার ভুল বুঝতে পারি। আমি স্বীকার করছি আমার কাজটা করা ঠিক হয়নি, আমি মন থেকে এর জন্য অনুতপ্ত। আমি অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করছি।’

এদিকে শনিবার (২৮ মার্চ) দুপুরে তিনি উপজেলার চিনাটোলা এলাকায় সেই তিন বৃদ্ধের বাড়ি গিয়ে ক্ষমা চেয়েছেন মনিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আহসান উল্লাহ শরিফী।

ইউএনও আহসান উল্লাহ শরিফী শুক্রবার (২৭ মার্চ) বিকেলের ঘটনার জন্য ক্ষমা চেয়ে তিন পরিবারকে ১০ কেজি করে চাল দেন। তাদের নিরাপদে বাড়িতে থাকার জন্য বলেন। এরপর যদি খাবার ফুরিয়ে যায় তাহলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধির সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য বলেন। তাদের বাড়িতে খাবার পৌঁছে দেয়ারও প্রতিশ্রুতি দেন ইউএনও।

এর আগে জনপ্রশাসন সচিব শেখ ইউসুফ হারুন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমরা ওই কর্মকর্তাকে (সাইয়েমা হাসান) প্রত্যাহার করে বিভাগীয় কমিশনারের অফিসে সংযুক্ত করার জন্য বলেছি। সেটা করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘যে তিনজন সিনিয়র সিটিজেন সঙ্গে খারাপ আচরণ করা হয়েছে মণিরামপুরের ইউএনও (উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা) মিডিয়াকে নিয়ে তাদের বাড়ি যাচ্ছেন, এবং তাদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করবেন। তাদের যদি খাদ্য সহায়তা প্রয়োজন হয় সেটা দেবেন। এসিল্যান্ডকে সেখানে নেয়া হবে না, যেহেতু আমরা তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছি। তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা গিয়ে স্যরি বলবেন।’

‘আপাতত তাকে (এসিল্যান্ড) প্রত্যাহার করে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। এরপর তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হবে।’