সংবাদ শিরোনাম
  • আজ মঙ্গলবার। গ্রীষ্মকাল, ৭ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ। ২০শে এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ। বিকাল ৩:৩৫মিঃ

করোনা প্রতিরোধে লকডাউন, ইউরোপে বাড়ছে গৃহদ্বন্দ্ব ও সহিংসতা

১০:৩৬ অপরাহ্ন | শনিবার, মার্চ ২৮, ২০২০ ফিচার
husband-wife-conflict

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। পরিসংখ্যান বিষয়ক ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের ১৯৯টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে প্রাণঘাতী এ ভাইরাসটি। আক্রান্তের সংখ্যা ৬ লাখেরও বেশি।

এশিয়ার দেশ চীন থেকে করোনা শুরু হলেও এর আঘাতে এখন বিপর্যন্ত ইউরোপসহ গোটা বিশ্ব। ইউরোপের একাধিক উন্নত দেশে প্রতিদিনই মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। ইতালি, ফ্রান্স, স্পেন এখন অসহায় হয়ে পড়েছে। এই ভাইরাসকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সবাইকে ঘরবন্দী থাকার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। এজন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও অঞ্চল লকডাউন করা হয়েছে।

এমন অবস্থায় ইউরোপের দেশগুলোতে গৃহদ্বন্দ্ব ও সহিংসতার ঘটনা বাড়ছে। করোনাভাইরাস ঠেকাতে লকডাউনের মধ্যে ঘরবন্দি হয়ে পড়ায় নারী-পুরুষ বিশেষ করে স্বামী-স্ত্রীদের মধ্যে মনোমালিন্য সৃষ্টি হচ্ছে।

এর থেকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে। এমনকি কখনও কখনও খুনোখুনি পর্যন্ত গড়াচ্ছে। নির্যাতনের হাত থেকে মুক্তি পাচ্ছে না শিশু-কিশোররাও। এ ধরনের পারিবারিক সহিংসতা ফ্রান্সে ইতোমধ্যে বৃদ্ধি পেয়েছে ৩০ শতাংশ।

জার্মান ফেডারেল অ্যাসোসিয়েশন অব উইমেনস কাউন্সেলিং সেন্টার্স অ্যান্ড হেলপলাইনস (বিএফএফ) বলেছে, ‘এই মুহূর্তে বহু মানুষের জন্য তাদের বাড়িই আর নিরাপদ নয়।

এএফপি বলেছে, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে গিয়ে মনের ওপর চাপ পড়ছে। দুশ্চিন্তা বাড়ছে। নারী ও শিশুদের ওপর পারিবারিক ও যৌন সহিংসতার ঝুঁকিও এতে করে বাড়ছে।

মানবিক সহায়তা সংস্থাগুলো বলছে, এই ঝুঁকি শুধু বাড়িতে সীমাবদ্ধ নেই। স্বেচ্ছায় বন্দী থাকার এই কষ্টের পাশাপাশি সামনের দিনে চাকরির নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সমস্যা বাড়বে। এসব সমস্যা ঘরে চাপ বাড়াচ্ছে।

চীনের নারী অধিকার প্রতিষ্ঠান উয়েইপিং জানিয়েছে, করোনার মধ্যে নারীদের ওপর সহিংসতার হার তিন গুণ পর্যন্ত বেড়েছে। জার্মান ফেডারেশন বলছে, শিশু-কিশোর ও নারীরা যারা এখন মানসিক ও শারীরিকভাবে পারিবারিক সহিংসতার শিকার হচ্ছে, তাদের আসলে নির্যাতকেরা হাতের কাছে পাচ্ছে।

ফ্রান্সের প্যারিসের লা ভোয়া ডি লোফোঁর প্রধান মার্টিন বোরসাঁ বলেন, ‘নির্যাতিত শিশু-কিশোরদের এখন দেখার কেউ নেই।

অধিকারকর্মীরাও এখন উভয়সংকটে। তাদের বড় অংশই বাসা থেকে কাজ করছেন। তারা নির্যাতনের শিকার মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারছেন না। সহিংসতার শিকার কাউকে আশ্রয় দেয়ার জন্য পর্যাপ্ত আশ্রয়কেন্দ্র নেই।