ওসির সহযোগিতায় শরীয়তপুরে আইসোলেশনে মৃত যুবকের দাফন সম্পন্ন


❏ বুধবার, এপ্রিল ১, ২০২০ ঢাকা, দেশের খবর

নয়ন দাস, স্টাফ রিপোর্টার, শরীয়তপুর: শরীয়তপুরে ক‌রোনাভাইরাস স‌ন্দে‌হে আইসোলেশনে ভর্তি হওয়া যুব‌কের মর‌দেহ দাফ‌নে বাঁধার মু‌খে প‌রে স্থানীয়‌দের।  পরবর্তীতে ন‌ড়িয়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সহ‌যো‌গিতায় অব‌শে‌ষে দাফন সম্পন্ন করা হ‌য়েছে।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাতে ঠান্ডা, জ্বর ও কা‌শি নি‌য়ে হাসপাতা‌লে ভ‌র্তির তিন ঘণ্টা পর ওই যুব‌কের মৃত্যু হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নিয়ম মেনে বুধবার (১ এ‌প্রিল) ওই ব্যক্তির লাশ দাফনের কাজে বাধা দেন এলাকাবাসী।

ওই যুব‌কের নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে (আইইডিসিআর) পাঠানো হয়েছে। মৃতের বাড়ি ও আশপাশের পাঁচটি বাড়ি লকডাউন ক‌রে ২৩ জনকে হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে।

পু‌লিশ ও স্বজনরা জানান, ৩৫ বছর বয়সী ওই যুবক বালু উত্তোলন খননযন্ত্রের শ্রমিক। তার বাড়ি নড়িয়া উপজেলায়। গতকাল সন্ধ্যা ৬টার দিকে তাকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। তার জ্বর, কাশি ও গলা ব্যথা থাকায় তাকে আইসোলেশন ওয়ার্ডে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। রাত সা‌ড়ে নয়টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

আজ বুধবার বেলা ১১টার দিকে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্মীরা সুরক্ষা পোশাক পরে সদর হাসপাতাল থেকে ওই মরদেহ দাফনের জন্য নিয়ে যান। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ওই যুবকের লাশ নড়িয়ায় তাঁর গ্রামে নিয়ে গেলে দাফন কাজে বাধা দেন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজ উদ্দিন পুলিশ নিয়ে কবরস্থানে যান।

ওসি হাফিজ উদ্দিন বলেন, ওই যুবকের মৃত্যু করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে হয়েছে কিনা তা এখনো নিশ্চিত নয়। তারপরও লাশ দাফন করতে বাধা দেওয়া দুঃখজনক। সব বাধা উপেক্ষা করে এখানেই ওই যুবকের দাফন হবে বলে জানান তিনি।

শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল সূত্র জানায়, নড়িয়া উপজেলার ওই ব্যক্তি ১৯ মার্চ কাশি নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। পরীক্ষায় তার যক্ষ্মা ধরা পড়ে। তাকে যক্ষ্মার চিকিৎসা দেওয়া হয়। ২৩ মার্চ তিনি সদর হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে চলে যান। গতকাল দুপুর থেকে তিনি শ্বাসকষ্টে ভুগতে থাকেন। অবস্থার অবনতি হলে তাকে নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেন স্বজনেরা। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। চিকিৎসকেরা তখন ওই ব্যক্তিকে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে আইসোলেশনে ভর্তি রাখেন।

শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মুনির আহমেদ খান বলেন, ওই ব্যক্তি শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে আসেন। তার শারীরিক অবস্থা ভালো ছিল না। যেহেতু তার শ্বাসকষ্ট ছিল এবং তিনি প্রবাসী–অধ্যুষিত নড়িয়া উপজেলার বাসিন্দা তাই তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারেন সন্দেহে আইসোলেশনে রাখা হয়েছিল। তার মৃত্যুর পর আইইডিসিআরে যোগাযোগ করা হয়। তারা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিধি অনুযায়ী লাশ দাফন করার নির্দেশ দেন। আর মাদারীপুর জেলা হাসপাতাল থেকে সরঞ্জাম এনে মরদেহ থেকে নমুনা সংগ্রহ করে আইইডিসিআরে পাঠানো হয়েছে।

নড়িয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইফুল ইসলাম বলেন, ওই যুবকের বাড়ি ও আশপাশের চারটি বাড়ির বাসিন্দারা হোম কোয়ারেন্টিনে থাকবেন। তাদের দেখভাল করতে বলা হয়েছে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যকে। কোয়ারেন্টিনে থাকা পরিবারগুলোর কাছে খাবারসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র প্রশাসন সরবরাহ করবে।

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন