মানছে না সর্তকতা, মির্জাপুরে বেড়েছে মানুষের পদচারণা

◷ ৪:০৬ অপরাহ্ন ৷ বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ২, ২০২০ ঢাকা, দেশের খবর
I97666e 1

মো. সানোয়ার হোসেন, মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি- করোনা সংক্রমণ রোধে সারাদেশে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী নিত্যপণ্যের দোকান ব্যতীত সকল কর্মক্ষেত্র বন্ধ। দেশের সকল কর্মক্ষেত্র যেখানে বন্ধ; সেখানে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে প্রশাসনের নাকের ডগায় নিয়মিত চায়ের দোকানে চলছে রমরমা আড্ডা।

মির্জাপুর পৌরসভাসহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বেশকিছু দোকানিদের বিরুদ্ধে উঠেছে এমন অভিযোগ। বুধবার (০১ এপ্রিল) উপজেলার বেশ কয়েকটি এলাকায় ঘুরে সরেজমিনে এমন চিত্র লক্ষ করা গেছে।

সরেজমিনে মির্জাপুর উপজেলার বাইমাইল গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, কিশোর থেকে শুরু করে বৃদ্ধ পর্যন্ত এলাকার ৩-৪টি চায়ের দোকানে বসে চা পান করছেন এবং আড্ডায় মেতে আছেন। সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে ৩টি দোকান বন্ধ করতে পারলেও একটি দোকান খোলা অবস্থায় রেখে মালিক পালিয়ে যায়। এছাড়াও সরেজমিনে উপজেলার সাহাপাড়া, পাহাড়পুর, কুতুববাজার, হাটুভাঙ্গা বাজার, ভাতগ্রামবাজার, ছলিমনগর, উয়ার্শী পাইকপাড়া, দুপুরিয়া, আজগানা, তেলিনা, মির্জাপুর সদর এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে চায়ের দোকান খোলা রাখতে দেখা গেছে।

এদিকে অবসর সময় পার করতে বাইমাইল ও কুইচতারা মাঠে খেলাধুলা করতে দেখা গেছে শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সের মানুষদের। বাইমাইল স্কুল মাঠের দক্ষিণ পাশেও একসাথে বসে গল্পগুজব করতে দেখা গেছে অনেককেই। আবার অনেক রিক্সা চালককেই ঘন্টার পর ঘন্টা যাত্রীর জন্য অপেক্ষা করতে লক্ষ করা গেছে।

অন্যদিকে মির্জাপুর পৌরসভার সাহাপাড়া এলাকার শ্মসান মাঠে তাস খেলতে দেখা গেছে স্থানীয়দের। পৌর এলাকার কুমারজানি পশ্চিমপাড়া এলাকায় গিয়েও মাঠে ফুটবল খেলতে দেখা গেছে। সময় পার করতে কেউ কেউ আবার বেছে নিয়েছে এন্ড্রোয়েড ফোনে লুডু খেলার মতন আরো অনেক গেমস। মির্জাপুর বাজারের বেশ কয়েকটি স্থানে দেখা গেছে এমন গেমস খেলতে। কেউ খেলছেন গোপনে আবার কেউ খেলছেন প্রকাশ্যে।

সচেতন এলাকাবাসীর অভিযোগ, সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে এবং স্থানীয় প্রশাসনের কড়া নজরদারি থাকা স্বত্বেও নানা কৌশলে চায়ের দোকান খোলা রাখছেন দোকানিরা। এতে করে ছুটিতে থাকা চাকুরিজীবী ও এলাকাবাসীর সম্মিলিত আলোচনা যেনো ঈদের আড্ডায় পরিণত হচ্ছে।

এদিকে স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা মন্তব্য করেছেন, চায়ের দোকানে এমন জনসমাগম হওয়ায় করোনার ঝুঁকি ব্যাপক আকার ধারণ করতে পারে। আর এতে করে সারাদেশে এই করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পরার আশঙ্কা রয়েছে।

সচেতন মহলের বেশ কয়েকজন নাগরিকের সাথে কথা হলে তারা এই প্রতিবেদককে জানায়, আসলে যাদের আয়ের উৎস্য শুধুমাত্র চায়ের দোকান, তারা যদি সরকারি প্রণোদনা না পায় সেক্ষেত্রে কোনো উপায় না পেয়ে তাদের পরিবারের কথা চিন্তা করে দোকান খুলতে হয়। তবে যদি সরকারি প্রণোদনা পাওয়ার পরও দোকান ইচ্ছাকৃতভাবে খোলা রাখে তাহলে সেটি অবশ্যই অপরাধ বলে গণ্য হবে।

কুতুববাজারের দোকানদার কবির বলেন, আমি যদি দোকান না করি তাইলে খামু কী? আমার পরিবার-পরিজন নিয়ে চলুম ক্যামনে।

তিনি বলেন, দোকানের উপরেই আমার বাড়ির আষ্টোজন লোক চলে। প্রতিদিন আমার বাজার সদায় করতে ৩-৪শ’ ট্যাকা লাগে। আমি যদি এহন দোকান না করি ত্যাইলে এই বাজার সদায়ের ট্যাকা আমারে ক্যারা দিব।

জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাকসুদা খানম বলেন, সরকারি নির্দেশনা অমান্য করার কোনো সুযোগ নেই। সরকার ও স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে সবাইকে ঘরের ভিতরে থাকতে বলা হয়েছে। সামাজিক দূরত্ব রক্ষার কথা উল্লেখ করে তিনি সবাইকে ঘরে থাকার আহ্বান জানান। খুব বেশি প্রয়োজন না হলে ঘরের বাইরে বের হতে জনগণকে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। যদি জনসমাগম হয় তাহলে এ রোগে সংক্রমণের ঝুঁকি অনেকটাই বেড়ে যাবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আবদুল মালেক বলেন, আমরা প্রতিনিয়তই অভিযান চালাচ্ছি এবং জনগণকে সচেতন করছি। এর পাশাপাশি আমরা সবসময় তাদের বলে আসছি যে আপনারা কেউ জনসমাগম করবেন না। এখন তারা যদি নিজেদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা না করে সরকারের নিয়ম মেনে না চলে তাহলে আমরা আরো কঠিন পদক্ষেপ গ্রহণ করবো।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধি করতে সেনা সদস্যদের সংখ্যা আরো বাড়ানো হবে।