সংবাদ শিরোনাম

ওয়াজে কোরআন-হাদিসের রেফারেন্স বাধ্যতামূলক চেয়ে লিগ্যাল নোটিশ ত্রিশালে সাব্বিরকে সহয়তার হাত বাড়াল রকিব ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনআড়াইহাজারে ১২ হাজার কেজি নিষিদ্ধ পলিথিন উদ্ধার,  চালক ও হেলপার আটকভূঞাপুরে খানাখন্দে ভরা ৮০০ মিটার সড়ক, দুর্ভোগে কয়েক গ্রামের লাখো মানুষকোটালীপাড়ায় ফের অগ্নিকান্ড, ৬টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পুড়ে ছাইজামালপুরে পৃথক দুর্ঘটনায় দুইজন নিহত টাঙ্গাইলে বাসের ধাক্কায় মাইক্রোবাসের ৮ যাত্রী আহতইশরাকের খালাসের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করল দুদকভারত কিছু ভ্যাকসিন বাংলাদেশকে উপহার দেবে : স্বাস্থ্যমন্ত্রীওয়ালটন ল্যাপটপ কিনে ১০০% ক্যাশব্যাক পেলেন ফ্রিল্যান্সার নাজমুল

  • আজ ৪ঠা মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

ঘরে চাল নেই, দু’দিন ধরে চুলা জ্বলেনি অসহায় বেলী বেগমের!

◷ ৩:৩৬ অপরাহ্ন ৷ শুক্রবার, এপ্রিল ৩, ২০২০ দেশের খবর, রংপুর
Ime888

মো: আব্দুল আজিজ, হিলি প্রতিনিধি- করোনা ভাইরাসের সতর্কতা জারির পর ঘরবন্দি সবাই। এমন অবস্থায় গত দুইদিন ধরে চুলায় ভাতের হাড়ি চড়েনি দিনাজপুরের হিলির দক্ষিণ বাসুদেবপুরের (মহিলা কলেজপাড়া) হতদরিদ্র দিনমজুর ভ্যানচালক রাব্বানীর স্ত্রী বেলী বেগমের।

সরেজমিনে বেলী বেগমের বাসায় গিয়ে দেখা গেছে, সামান্য একটু জমিতে পুরনো টিনের তৈরি একটি কুঁড়ে ঘর থেকে বের হচ্ছে একজন মধ্যবয়সী নারী বেলী বেগম। চোখে মুখে ক্ষুধার ছাপ। নড়বড়ে কুঁড়ে ঘরটি নড়ছে হালকা বাতাসে। একটু ঝড় এলে মনে হয় ভেঙে পড়বে। ঘরে থাকে মেয়েরা আর বারান্দায় ঘুমায় অসহায় বেলী আর তার স্বামী রাব্বানী। ঘরের সাথেই রান্নার স্থান, চুলো আছে, হাড়িও আছে। কিন্তু হাড়িতে ভাত রান্নার চাল নেই।

অসহায় বেলী বেলী বেগম বলেন, আজ ক’দিন ধরে বাড়িতে অবস্থান করছি এখনও কেউ এসে কোন সাহায্য বা খাদ্যসামগ্রী আমার ঘরে পৌছে দেয়নি, ক্ষুধার জ্বালা আর সহ্য করতে পারছি না।

তিনি বলেন, আমার তিন মেয়ে, স্বামী ভ্যান চালায়। এক মেয়ে লেখাপড়া করে। সামান্য একটু জায়গায় পুরনো টিন দিয়ে কোন রকম ঘর করে বসবাস করছি। করোনা নামের নাকি রোগ দেশে আসছে। সরকার আর মেম্বার চেয়ারম্যানরা বার বার মাইকে বলছে ঘর থেকে বাহির হওয়া নিষেধ। খাবার বাড়ি বাড়ি পৌছে দিবে। কয়েকদিন যাবত ঘর বন্দি আছি কেউ তো এখনও কোন খাদ্যসামগ্রী এনে দিলো না।

তিনি আরও জানান, শুধু হাকিমপুর ফাউন্ডেশন নামের একটি সংগঠন থেকে কয়েকদিন আগে দুই কেজি চাল আর কিছু আলু, ডাল দিয়েছিলো। যেটুকু গরীব মানুষ হিসেবে জমা ছিলো ক’দিন ধরে খেয়েছি। গত দু’দিন ধরে ঘরে কোন খাবার নাই। রান্না করতে পারছি না সন্তান স্বামী নিয়ে অনাহারে আছি।

বেলীর স্বামী হতদরিদ্র ভ্যান চালক রাব্বানী বলেন, ভ্যান নিয়ে বাহির হতে পারছিনা। দুইদিন ধরে ঘরে কোন খাবার নাই। স্ত্রী সন্তানদের মুখের দিকে আর তাকাতে পারছি না। নিরুপায় হয়ে গতকাল ভ্যান নিয়ে রাস্তায় বের হয়েছিলাম। কিন্তু ইউএনও, পুলিশ আর সেনাবাহিনীর নিষেধের কারণে বাড়িতে খালি হতে ফিরে আসি। এক কেজি চালের টাকাও কামায় করতে পারিনি।

এলাকাবাসী আঙ্গুর জানান, আমাদের গ্রামে এই পরিবারটি সবচেয়ে অসহায়। তিন মেয়েকে নিয়ে তারা বড় কষ্টের মধ্যে দিনাতিপাত করছেন। ভ্যান চালক রাব্বানীর কোন কাজকাম নেই এবং এখন পর্যন্ত কোন অনুদান পাইনি তারা।

এ বিষয়ে হাকিমপুর পৌর মেয়রের নিকট জানতে চাইলে তিনি জানান, আমি আমার পৌর এলাকা সকল অসহায় হতদরিদ্র মানুষের পাশে আছি। আমি নিজে গিয়ে ঘরে ঘরে খাদ্যসামগ্রী পৌছে দিচ্ছি। যারা এখনও পায়নি তাদেরও খাদ্যসামগ্রী পৌছে দেবার প্রস্তুতি চলছে। আমি ফেসবুকে আমার নাম্বার দিয়েছি। যারা এখনও কোন সাহায্য পাইনি তারা আমার নাম্বারে নাম ঠিকানা দিলে সঙ্গে সঙ্গে তার বাড়িতে খাদ্যসামগ্রী পৌছে দিবো।