• আজ শুক্রবার। গ্রীষ্মকাল, ১০ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ। ২৩শে এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ। দুপুর ২:২৭মিঃ

কেউ শুনছে না উপদেশ, শিমুলিয়া ঘাটে ঢাকামুখী মানুষের ঢল

⏱ | শনিবার, এপ্রিল ৪, ২০২০ 📁 ফিচার

মোঃ রুবেল ইসলাম তাহমিদ, মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি- দেশে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব হতে মুক্ত থাকতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার আহ্বান জানালেও মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার শিমুলিয়া ঘাটে তা মানাতে পারছে প্রশাসন।

গার্মেন্টস খুলে দেয়া এবং দীর্ঘদিন হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা লোকজন ঢাকামুখী হচ্ছে। ফলে মাওয়া ঘাটে এখন ঢাকামুখী যাত্রীদের চাপে হিমশিম হয়ে পড়েছে প্রশাসন। যাত্রীদের কোনভাবেই শোনানো যাচ্ছে না করোনা ভাইরাসের উপদেশ।

শনিবার (০৪ এপ্রিল) সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত এভাবে যাত্রীদের চাপে হিমশিম খাচ্ছে প্রশাসন। প্রশাসনের সকল সতর্ক বার্তা উপেক্ষা করেই দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের এমন যাওয়ার দৃশ্য সত্যিই দু:খ জনক বলে মনে করছে স্থানীয় প্রশাসন।

বিকালে শিমুলিয়া ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, ফেরিতে করে হাজার লোক পদ্মা পাড়ি দিচ্ছে। তবে দক্ষিণবঙ্গের চেয়ে ঢাকামুখী যাত্রীর চাপই ছিল বেশি। এসব যাত্রী একে অপরের সাথে গায়ে গা লাগিয়ে ফেরি পার হয়ে শিমুলিয়া ঘাটে আসছে। তারপর বাস না থাকায় বিভিন্ন প্রকার যানবাহনে করে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হচ্ছে। এর মধ্যে নসিমন মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেলসহ নানা প্রকার ছোট ছোট যানবাহনে যাত্রীরা ঢাকার উদ্দেশ্যে ছুটছে যে যার মতো ।

মূলত যাত্রীর চাপেই] ফেরী চলাচল বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না। এখনো এ ঘাট দিয়ে হাজার যাত্রী পারাপার হচ্ছে। আর লঞ্চ সিবোট বন্ধ থাকায় যাত্রীরা ফেরিতে পারাপার হওয়ায় একে অপরের সঙ্গে গায়ে গা ঘেঁষে থাকায় করোনা সংক্রমিত হবার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

অপরদিকে জীবনের ঝুকি নিয়ে ছোট ছোট ট্রলার যোগেও প্রচুর যাত্রী কাঠালবাড়ী, কাওরাকান্দি, শিবচর, পাচ্চর, ভাংগা, টেকের হাট, সহ প্রায় ২৩ জেলার মানুষ শিমুলিয়ার মাওয়া ঘাটে পৌছে ঢাকায় যাচ্ছেন।

ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের লৌহজংয়ের মেদিনী মন্ডলে ডলফিন ট্রেনিং সেন্টারের পাশে সেনাবাহিনীর একটি চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। এ চেকপোস্টে কোনো গাড়ি আসলে সেনাবাহিনীর সদস্যরা তা উল্টোদিকে ফিরিয়ে দিচ্ছে। তাই মহাসড়কে ঢাকায় যেতে না পেরে যানবহনগুলো লৌহজং-টঙ্গবাড়ী-মুন্সীগঞ্জ-নারায়ণগঞ্জ হয়ে ঢাকায় যাচ্ছে।

তবে ভেতরের এ সড়কগুলোতে পুলিশ বা ট্রাফিকের কোনো প্রকার বাধা ছাড়াই যানবাহনে ঠাসাঠাসি করে যাত্রীরা ঢাকায় যাচ্ছে। আর এতে করোনাভাইরাস সংক্রামিত হবার আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে। সরকার সচেতনতার কথা বললেও এদের কারণেই হয়তো সরকারের প্রচেষ্টা ভেস্তে গিয়ে করোনা মহামারি আকার ধারণ করে লোকজনের যানমালের ক্ষতি করতে পারে বলে সচেতন মহল মনে করছে।

শিমুলিয়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সিরাজুল কবির ও মাওয়া ট্রাফিক পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক হেলাল উদ্দিন জানান, সকাল থেকেই মাওয়া ঘাটে ঢাকামুখি যাত্রীদের ভীড়। ফেরীতে কোন যানবাহন না থাকলেও যাত্রীদের কোন কমতি নেই। গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকায় তারা বিভিন্ন উপায় ঢাকায় যাচ্ছেন যাত্রীরা। ছোট ছোট ট্রলার যোগেও যাত্রীদের আসতে দেখা গেছে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে পদ্মানদীতে স্রোতের গতি বৃদ্ধি, করোনাভাইরাসের প্রদুর্ভাব কারণে শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌরুটে ফেরী চলাচল থাকলে বন্ধ হয়ে গেছে লঞ্চ স্পীটবোট প্রায় দুই সপ্তাহ। তবে প্রতিদিন রাত সাড়ে ৩ টা থেকে ফেরী চলাচল থাকছে বেশির ভাগই যাত্রী নিয়ে বলেন বিআইডব্লিউটিসি কতৃপক্ষ।

আজ শনিবার সকালে মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়া ঘাটে ৩২টি ছোট ছোট ট্রলার দিয়ে অর্ধ শতাধিক যাত্রী নিয়ে আসতে দেখা গেছে অসাধু ট্রলার মালিকদের। বেলা বাড়ার সাথে সাথে যাত্রী চাপ বৃদ্ধি পেতে থাকে। যাত্রীদের দুর্ভোগে পরতে হয়েছে ঘাট এলাকায় ।