সংবাদ শিরোনাম
  • আজ ২৪শে আষাঢ়, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

করোনায় মৃত্যুহারে ইতালির পরেই বাংলাদেশ!

৬:৫৪ অপরাহ্ণ | শনিবার, এপ্রিল ৪, ২০২০ আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক- বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টিকারী নোভেল করোনাভাইরাস সবচেয়ে বেশি তাণ্ডব চালিয়েছে ইতালিতে। দেশটিতে এরই মধ্যে প্রায় ১৫ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। করোনা ছোবল বসিয়েছে বাংলাদেশেও। এখন পর্যন্ত ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। সংখ্যায় কম হলেও আশঙ্কার কথা হচ্ছে মৃত্যুর হারে ইতালির পরেই বাংলাদেশের অবস্থান।

বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাসের খুটিনাটি নিয়ে নিয়মিত হালনাগাদ করে যাচ্ছে ‘ওয়ার্ল্ড ওর্মিটার’ নামের একটি ওয়েবসাইট। এটি সর্বশেষ যে পরিসংখ্যান দিয়েছে তাতে অন্যান্য অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশে করোনায় আক্রান্তের স্বল্প সংখ্যা নিয়ে এখনও অনেক দায়িত্বশীল লোক (৭০ জন) স্বস্তি প্রকাশ করলেও মৃত্যুর হার কিন্তু চরম মাত্রায় ভয়াবহ (১১.৪৩%)।

ভয়াবহের মাত্রা কেমন তা বুঝা যায়, যখন দেখে যায় বাংলাদেশের করোনায় মৃত্যুর হার এখনও বিশ্বের মধ্যে একেবারে প্রথম সারিতে! মাঝখানে খানিক বিরতি দিয়ে বাংলাদেশ এবার দ্বিতীয় স্থান লাভ করেছে, সেই সাথে মৃত্যুর শতকরা হার আরও বেড়েছে!

আজ শনিবার করোনা নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত অনলাইন প্রেস ব্রিফিংয় থেকে জানা গেছে, বাংলাদেশে করোনায় এ পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করেছেন ৮ জন। আক্রান্ত হয়েছেন ৭০ জন। এর মানে দেশে প্রতি ১০০ জন করোনা আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে প্রায় সাড়ে ১১ জন মারা যাচ্ছেন! যা ভাইরাসটির উৎপত্তি স্থল চীনের চেয়েও অনেক বেশি।

ওয়ার্ল্ড ওর্মিটার বলছে চীনে করোনায় মৃত্যুর হার ৪.০৪%। বাংলাদেশের সামনে আছে কেবল মৃত্যুপুরী বনে যাওয়া ইতালি (১২.২৫%), যদিও পার্থক্য খুবই সামান্য। আরেক মৃত্যুপুরী স্পেনের হারও বাংলাদেশের চেয়ে অনেক কম (৯.৩৯%)। করোনার নতুন আবাস আমেরিকায় অনেকে আক্রান্ত হলেও মৃত্যুহার খুবই কম (২.৬৭%)।

এশিয়ার দুই দেশ দক্ষিণ কোরিয়া এবং মালয়েশিয়াতেও মৃত্যুহার যৎসামান্য, যথাক্রমে ১.৭৪ % ও ১.৫৯%। প্রতিবেশী ভারতে (২.৭৯%) তাদের থেকে কিছুটা বেশি হলেও পাকিস্তানে (১.৪৮%) তুলনামূলকভাবে অনেক কম। অন্যদিকে দক্ষিণ এশিয়ার আরেক দেশ শ্রীলঙ্কায় মৃত্যুহার ৩.১৪%। সুতরাং বলা যায় বাংলাদেশে করোনায় আক্রান্তদের মিছিল দিন দিন যেমন বাড়ছে, তেমনি মৃত্যুহারও পাল্লা দিয়ে বেড়ে চলেছে।

উল্লেখ্য, বিশ্বব্যাপী মহামারি আকার নেওয়া করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে ২০৫টি দেশ ও অঞ্চলে। একই সঙ্গে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে ডায়মন্ড প্রিন্সেস ও এমএস জ্যান্দাম নামে দুটি প্রমোদতরীর যাত্রীরা। প্রাণঘাতী এই ভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছে ১১ লাখ ১৭ হাজার ৮৬০ জন আর মৃত্যুবরণ করেছে ৫৯ হাজার ২০৩ জন। এই হিসাবে বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাসে মৃত্যুর হার ৫.২৯ শতাংশ।

মহামারি করোনাভাইরাসের এখনও কোনো প্রতিষেধক আবিষ্কৃত না হওয়ায় বিশেষজ্ঞদের দেওয়া পরামর্শই এই প্রাণঘাতী ভাইরাস থেকে রক্ষা পাওয়ার একমাত্র উপায়। এক্ষেত্রে নাগরিকদের সচেতনতা একান্ত জরুরি। একইসঙ্গে সামাজিক দূরত্ব, লকডাউন ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া নির্দেশাবলী মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়াও কোয়ারেন্টিন ও আইসোলেশনের ওপর সরকারের উচিত আরও গুরুত্বারোপ করা।