রংপুরে করোনা আতংঙ্কে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে মিলছে না চিকিৎসক

১২:০৯ অপরাহ্ণ | সোমবার, এপ্রিল ৬, ২০২০ দেশের খবর, রংপুর

সাইফুল ইসলাম মুকুল, রংপুর প্রতিনিধি- করোনা আতংঙ্কে রংপুর জেলায় ইউনিয়ন পর্যায়ে উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্রে আসছেন না চিকিৎসকরা। হাতের নাগালে চিকিৎসা সেবা না পেয়ে ক্ষোভ বিরাজ করছে গ্রামের হতদরিদ্র মানুষের মাঝে।

জানা যায়, রংপুর জেলার ৮টি উপজেলায় ৮৫টি ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র রয়েছে। এছাড়া নিরাপদ মাতৃত্ব সেবাসহ স্বাস্থ্য সেবা প্রদানের লক্ষ্যে ইউনিয়নগুলোতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্র স্থাপন করেছে পরিবার-পরিকল্পনা বিভাগ।

এসব স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলো থেকে গর্ভবতী সেবা, সাধারণ প্রসব সেবা, গর্ভত্তোর সেবা, এমআর সেবা, ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো, সাধারণ রোগী ও শিশুদের সেবা, প্রজননতন্ত্রের সেবা, ইপিআই সেবা, পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ক পরামর্শ প্রদান, খাবার বড়ি, জন্ম নিরোধক ইনজেশন প্রদানসহ নানা ধরনের চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়। বৈশ্বিক মহামারী করোনার কারণে রংপুরের এসব স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে দেখা মিলছে না চিকিৎসকদের। আর এতে করে চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে গ্রামের হতদরিদ্র মানুষরা।

রবিবার পীরগাছার পারুল ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্রে গিয়ে সরেজমিনে দেখা যায়, জনমানব শূণ্য স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি। স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি খোলা থাকলেও প্রতিটি কক্ষের দরজা তালাবদ্ধ। ফার্মাসিস্ট কক্ষে তালা খোলা থাকলেও ভেতর দিক থেকে বন্ধ করা।

দরজায় শব্দ করতে ভেতর থেকে বেরিয়ে আসেন ডেলিভারী কাজে নিয়োজিত মনোয়ারা বেগম তিনি বলেন, করোনা ভাইরাস আতংঙ্কে গত ২৫ মার্চ থেকে এ স্বাস্থ্য কেন্দ্রের চিকিৎসক আসেন না। কারণ সরকারের পক্ষ থেকে তাদের নিরাপত্তা সামগ্রী দেয়া হয়নি। চিকিৎসকরা উপস্থিত না থাকায় রোগীরা সেবা না পেয়ে ঘুরে চলে যান। এতে করে এখন চিকিৎসক ও রোগী কেউ আসেন না। তাই অনেকটা ভূতুরে পরিবেশ তৈরী হয়েছে। মানুষজন নাই তাই ভয় লাগে, এজন্য দরজা বন্ধ করে কক্ষের ভেতরে থাকি।

এলাকার শিক্ষক আবু মোর্তুজা রহমান বলেন, এই স্বাস্থ্য কেন্দ্রের মত সব ইউনিয়নে একই অবস্থা। করোনার ভয়ে কোন চিকিৎসক চিকিৎসা দিতে আসছেন না। গ্রামের মানুষেরা হাঁচি, কাশি, আমাশয়সহ নানা রোগের চিকিৎসা পেতাম এখান থেকে। এখন আমরা এসব স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হিচ্ছ। তাই সরকারসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের তদারকি এখন অতীব জরুরী।

গঙ্গাচড়া উপজেলার লহ্মীটারী ইউনিয়নের বাসিন্দা আসিফুর রহমান বলেন, মহিপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্র নিয়মিত চিকিৎসক আসেন না। শুধুমাত্র গর্ভবতী মায়ের প্রসব কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এছাড়া বাকী চিকিৎসা এখান থেকে দেয়া হয় না।

রংপুর সিভিল সার্জন ডাঃ হিরম্ব কুমার রায় বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমি জানি না। সংশ্লিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানাবো। ইউনিয়নে স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে চিকিৎসককের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হবে।