আর কত বয়স হলে বয়স্ক ভাতা পাবেন হতদরিদ্র আব্দুস সাত্তার!

১২:৪০ অপরাহ্ন | সোমবার, এপ্রিল ৬, ২০২০ দেশের খবর, ময়মনসিংহ

শামছুজ্জামান বাবুল, নান্দাইল প্রতিনিধি: আট বছর ধরে প্যারালাইসিস রোগে ভুগছেন হতদরিদ্র আশির্ধ্ব বৃদ্ধ আব্দুস সাত্তার। কথা বলতে পারেন না। হাত দুটিসহ শরীরের অনেকাংশই অবশ। বেশিরভাগ সময় চেয়ারে বসে থাকা এবং শুয়ে থাকা ছাড়া উপায় নেই। বসে থাকা অবস্থায় মুখ দিয়ে লালা পড়তে পড়তে হাতে ঘা হয়ে গেছে।

ভুগছেন বার্ধক্য ছাড়াও বিভিন্ন রোগে। পয়সার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছেন না। দিন মজুর ছেলেটা যা রোজগার করেন তা দিয়ে ৮ সদস্যের পরিবারে ঠিকমত দু’মুঠো অন্নও জোটেনা।

চিকিৎসার অভাবে পঙ্গত্ব জীবন যাপন করছেন বৃদ্ধ আব্দুস সাত্তার। তার স্ত্রী বৃদ্ধা আনোয়ারা বেগম তিনিও ঠিকমত চোখে দেখেন না। আনোয়ারা মানুষের বাড়িতে কাজ কর্ম করতেন। এখন তিনি তাও পারেন না। ছেলে খুররমের কাজ কামের মজুরির পয়সাই সংসার চলার একমাত্র ভরসা।

বৃদ্ধ আব্দুস সালাম এক সময় মানুষের বাড়িতে কাজ করে সংসারের হাল ধরতেন। হঠাৎ আট বছর আগে এমন অবস্থা হয়। অর্থের অভাবে ডাক্তারি কোন চিকিৎসা করাতে না পেরে কবিরাজি চিকিৎসা করিয়েছেন। অভাব অনটনের সংসারে খুররমের চার ছেলে মেয়ের লেখাপড়া অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে। প্রতিবন্ধী বৃদ্ধের ভাতাকার্ডসহ এখন পর্যন্ত সরকারি কোন ধরণের সহযোগীতা পাননি এই পরিবারটি।

হতদরিদ্রের সন্ধানে উপজেলা সমাজসেবা অফিসার ইনসান আলী সাংবাদিক শামছুজ্জামান বাবুলকে সাথে নিয়ে বেড়োনার পর এমনি এক পরিবারের সন্ধান পান ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার নান্দাইল ইউনিয়নের ভাটিসাভার (বিলপাড়) গ্রামে।

সরজমিনে সময়ের কন্ঠস্বরের এই প্রতিনিধি এবং উপজেলা সমাজসেবা অফিসারকে দেখে যেন আর্তনাদের এক প্রতিচ্ছবি ফুটে উটেছে পরিবারটিতে। অভাব অনটনের না বলা কতইনা কথা যেন বুকে চাপা। বর্তমানে করোনা ভাইরাসের এই আতঙ্কের মধ্যেও কাজে সন্ধানে বেরিয়েছে খুররম।

খুররমের স্ত্রী পারভিন আক্তার জানান, তাদের চলার অবস্থা বর্তমানে খুবই সূচনীয়। কারো কোন সাহায্য সহযোগিতা পাচ্ছেন না। এক সময় অনেকের কাছেই গিয়েছেন শ্বশুরের জন্য একটি বয়স্ক ভাতা কার্ড কিংবা পরিবারটিতে একটু সহযোগিতা করার জন্য। কিন্তু পাননি। অর্থের অভাবে তার তিন ছেলে এক মেয়ের লেখাপড়া অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে প্রায়। বড় ছেলে ৮ম শ্রেনিতে পড়ে নানার বাড়িতে থেকে। এক ছেলে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে, আর মেয়ে তৃতীয় শ্রেণিতে। ছোট ছেলে কোলে চার বছর বয়স। দু’টিনের ছাপড়া ঘর। একটিতে স্বামী ছেলে মেয়ে নিয়ে থাকে অন্যটিতে শ্বশুর-শাশুড়ি থাকেন। নেই কোন সেনিটেশন ব্যবস্থা। খোলা জায়গায় পায়খানা করেন।

শ্বশুরের চিকিৎসার বিষয়ে জানতে চাইলে ঘর থেকে একটি পেভিটিন মলম বের করে দেখান এটিই নাকি উনার বড় চিকিৎসা। এসব কথা শুনে বৃদ্ধ আব্দুস সাত্তারের চিকিৎসার ভার নেন সমাজসেবা অফিসার।

নান্দাইল উপজেলা সমাজসেবা অফিসার ইনসান আলী বলেন, আর কত বয়স হলে ভাতা পাবে এমন ব্যক্তিরা। আমি না দেখলে বুঝতেই পারতাম না এখনও মানুষ এত গরীব আছে। তাদের জন্য যতটুকু সহযোগীতা করা যায় আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো।

তিনি আরো বলেন, বৃদ্ধ আব্দুস ছাত্তারের জন্য একটি প্রতিবন্ধী ভাতা কার্ড এবং রোগী কল্যাণ সমিতির মাধ্যমে তার চিকিৎসার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এমন অসহায় নিঃস্ব কোন পরিবার পাওয়া গেলে উপজেলা সমাজসেবা অফিসের মাধ্যমে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।