দিনাজপুরে লকডাউনের নামে তামাশা!

lock
❏ বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ৯, ২০২০ রংপুর

শাহ্ আলম শাহী,স্টাফ রিপোর্টার, দিনাজপুর থেকেঃ দিনাজপুরে বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় লকডাউনের নামে রাস্তা অবরুদ্ধের প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি’র জন্য এক শ্রেণির মানুষের উস্কানি ও নেতৃত্বে এলাকার ইঁচড়েপাকা তরুণ এবং যুবকেরা নেমেছে এই অমানবিক তামাশায়।

পাড়া-মহল্লার এমমাত্র প্রবেশদ্বারে বাঁশের খুঁটির ব্যারিকেট,ঝাড়-জঙ্গল ফেলে,চৌকি,টেবিল,অকেজো গাড়ি রেখে অবরুদ্ধ করে ফেলেছে কিছু কিছু এলাকা। এতে চরম দূর্ভোগে পড়েছেন,সাধারণ জনগন। জরুরী প্রয়োজনে কেউ বের হওয়াতো দূরের কথা এম্বুল্যান্স, ফায়ার সার্ভিস, প্রশাসনের লোকজন এবং ত্রাণ নিয়েও কেউ প্রবেশ করতে পারছেন না তথাকথিত ওই সব লকডাউন করা এলাকায়। অথচ, ওইসব এলাকায় জমশে চলছে,চা,পান-বিড়ি.মুদির দোকান।ওইসব দোকানের আশপাশে বসছে,যেনো মিনি পার্লামেন্ট। কোথায় কী হলো,কতজন মরলো,কতজন আক্রান্ত হলো,কোথায় কে ক্রাণ দিচ্ছে,কিভাবে ত্রাণ পাওয়া যাবে,কার কাছে ত্রাণ বিতরণের টাকা নেয়া যাবে,কোথায় কার কাছে নেশা আছে,কোথায় পান করা হবে,সব আলোচনা এবং বৃুদ্ধি পরামর্শ হচ্ছে,ওইসব মিনি পার্লামেন্টে।

যারা গ্রাম-পাড়া-মহল্লার রাস্তা-ঘাট লকডাউন করছে,যারা ওইসব মিনি পার্লামেন্টের নেতৃত্ব দিচ্ছেন,তাদের নেই কোন সামাজিক দূরত্ব বা নিজের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য ব্যবহারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ।

ব্যক্তি বিশেষের উদ্যোগে গ্রাম-পাড়া-মহল্লার রাস্তা-ঘাট লকডাউন করা এসব এলাকা সরজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ এলাকাতেই তরুণ-যুবক এবং কিছু উৎসাহী ব্যক্তিরা দলবেঁধে আড্ডা দিচ্ছেন মুঠোফোন এ জুয়া খেলছে, কেউ নেশা বিক্রি করছেন আবার কেউ পান করছেন নেশা। যেনো অন্য এক জগতে তাদের বসবাস। বলার আর দেখার কেউ নেই। তারাই যেনো শাসক আর শোষক। করোনাভাইরাসকে পুঁজি করে চলছে, এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি।

কিন্তু, স্থানীয় প্রশাসন ভাবছে, এলাকাবাসীর উদ্যোগে লকডাউন করে দেয়া ওইসব এলাকার মানুষ ভালো রয়েছেন। সুরক্ষায় রয়েছেন মানুষ। কিন্তু বাস্তবের চিত্র ভিন্ন। বলা বা দেখার কেউ নেই এসব এলাকায়।

এলাকার ভুক্তভোগিদের অভিযোগ, প্রয়োজনে সরকারের নীতি নির্ধারকরা বা স্থানীয় প্রশাসন লকডাউন করবে। ওরা কারা লকডাউন করার? লকডাউন মানেইতো বুঝেনা ওরা! তারাই তো সরকারের আইন মেনে চলেন না!সামাজিক দূরত্ব রজায় রাখেন না। নিজের শরীরের সুরক্ষা করেন না। ঘরে থাকেন না। দলবেঁধে আড্ডা আর নেশার জগতে তাদের বসবাস।

কয়েকদিন আগে তারাই ত্রাণ বিতরণের নামে মানুষর কাছে চাঁদা তুলেছেন। ৯০ ভাগ নিজে হজম করে ১০ ভাগ টাকায় নিজের লোকজনদের ত্রাণ দিয়েছেন। তথাকথিত ত্রাণ সহায়তায় নামে কিছু সুবিধাবাদি নেতা আর মানুষের সাথে অনেকে ফটোসেশানে অংশ নিয়েছেন। সহায়তার নামে নীরিহ সন্মানিত মানুষের ছবি তুলে ফেসবুকে প্রকাশ করেছেন। সেই মানুষের সন্মানের বারোটা বাজিয়েছেন।

এখন নতুন ফন্দি পাকিয়েছেন, লকডাউন। পাড়া-মহল্লার এমমাত্র প্রবেশদ্বারে বাঁশের খুঁটির ব্যারিকেট,ঝাড়-জঙ্গল ফেলে, চৌকি, টেবিল, অকেজো গাড়ি রেখে অবরুদ্ধ করে ফেলেছে কিছু কিছু এলাকা। এতে চরম দূর্ভোগে পড়েছেন,সাধারণ জনগন। এরাতো কারো সুখ-দুঃখ বুঝেনা। পাশের বাড়ির মানুষেরা কেমন আছেন? তারা কি খাচ্ছেন, না খাচ্ছেন খোঁজ নেননা! তারা এসব কি শুরু করেছেন! এমনি অসংখ্য অভিযোগ আর অনুযোগ ভুক্তভোগি সাধারণ মানুষের।