• আজ ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

খাটিয়া দেয়নি কেউ তাই কাঁধে করে লাশ গোরস্থানে নিয়ে গেলেন বাবা

১২:১৪ পূর্বাহ্ণ | শুক্রবার, এপ্রিল ১০, ২০২০ সিলেট
lash

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ সুনামগঞ্জে দোয়ারাবাজার উপজেলার বখতারপুর গ্রামের এক যুবক শ্রমিক মারা গেছেন জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে। তাই তার লাশ খাটিয়া ছাড়াই বাবা ও ভাইয়ের কাঁধে করে গোরস্থানে নিয়ে যান। এই ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেইসবুকে ভাইরাল হয়েছে।

এই সংকটে লাশ বহনে মসজিদের খাঠিয়া না পাওয়ায় মানুষের অনুভূতি লোপ পাওয়ায় বিষ্ময় প্রকাশ করেছেন মানবিক মানুষেরা। এমনি হৃদয় বিদারক ঘটনাটি ঘটেছে সুনামগঞ্জে দোয়ারাবাজার উপজেলার বখতারপুর গ্রামে।

জানা যায়, লাশ বহনের জন্য গ্রামের মসজিদের খাটিয়া চাইলে মসজিদের ইমাম মোয়াজ্জিনসহ গ্রামের ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের অনুমতি চাইলেও অনুমতি মিলেনি। পরে কোন উপায় না পেয়ে নিহতের বাবা ও দুই ভাই নিজেরাই লাশ খাটিয়া ছাড়াই শাদা কাফনে মোড়ানো হতভাগা যুবকের মরদেহ কাধে তুলে গোপনে কবরস্থ করেছে। তবে দাফনের সময় থানা পুলিশ ও প্রশাসনের লোকজন উপস্থিত ছিলেন। তারা গ্রামের মানুষের ক্ষোভের মুখে অসহায় ছিলেন বলে জানা গেছে।

স্থানীয় এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, বখতারপুর গ্রামে ২২বছর বয়সী ঐ যুবক মারা যায় গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টায় করোনা ভাইরাস এর লক্ষন্য কাশি,জ্বর ও শ্বাস কষ্ট নিয়ে। ঐ যুবক নরসিংদীতে একটি ইটভাটার শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। মৃত্যুর পর পর ওই যুবকের পরিবারসহ তার পাড়া এবং তার লাশ দেখতে আসা দোয়ারাবাজার সদরের মাঝের গাঁওয়ের দুই স্বজন পরিবারকে লকডাউনে রেখেছে প্রশাসন।

নিহতের পরদিন বুধবার সকালে তার নমুনা সংগ্রহ করে স্বাস্থ্য বিভাগ। এর পর বৃহস্পতিবার সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে তার নমুনা সংগ্রহের ফলাফলে করোনা উপসর্গ ছিলনা। তবে এখনো স্থানীয়ভাবে ফলাফল এসে পৌছেনি।

দোয়ারাবাজার থানার ওসি আবুল হাশেম বলেন, আমরা দাফনের সময় উপস্থিত ছিলাম। তবে গ্রামের লোকজন মসজিদের খাটিয়া লাশ বহনে ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়ায় ভাই ও বাবা কাধে নিয়ে লাশ দাফন করেছেন।

সুনামগঞ্জ সিভিল সার্জন ডাঃ শামসুদ্দিনে বলেন, আমরা গতকাল নমুনা পাঠিয়েছি। তবে এখনো আমাদের হাতে এসে ফলাফল পৌছেনি।