• আজ ১৪ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাজ্যে পিপিই’র জন্য সতর্ক করে বাংলাদেশি ডাক্তার নিজেই মারা গেলেন

১১:২৫ পূর্বাহ্ণ | শুক্রবার, এপ্রিল ১০, ২০২০ প্রবাসের কথা

প্রবাসের কথা ডেস্ক- প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে চিকিৎসকদের জন্য ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের কাছে ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম (পিপিই) চেয়ে আলোচনায় এসেছিলেন ব্রিটিশ-বাংলাদেশি চিকিৎসক আব্দুল মাবুদ চৌধুরী (৫৩) ওরফে ফয়সাল। শেষ পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন তিনিও। ১৫ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন এই চিকিৎসক।

গার্ডিয়ান ও স্কাই নিউজের খবরে বলা হয়, পূর্ব-লন্ডনের রমফোর্ড এলাকার হোমারটন হাসপাতালে কনসালট্যান্ট ইউরোলজিস্ট ছিলেন আব্দুল মাবুদ চৌধুরী। করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হওয়ার পর তাকে রমফোর্ডের কুইনস হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। সেখানেই মৃত্যু হয় তার। আব্দুল মাবুদের জন্ম বাংলাদেশে। কোনো জটিল রোগে আক্রান্ত ছিলেন না তিনি।

এর আগে গত ১৮ মার্চ করোনা প্রতিরোধে কর্মরত চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য সরকারের কাছে পিপিই চেয়ে আলোচনায় আসেন আব্দুল মাবুদ। সরাসরি প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বরাবর লেখা এক ফেসবুক পোস্টে তিনি চিকিৎসকদের পিপিই সরবরাহের আহ্বান জানান।

পোস্টে আব্দুল মাবুদ লিখেছিলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন, দয়া করে জাতীয় স্বাস্থ্যসেবার অধীন স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রত্যেকের জন্য জরুরিভিত্তিতে পিপিই নিশ্চিত করুন। আমাদের স্বাস্থ্যকর্মীদের সরাসরি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের সংস্পর্শে আসতে হচ্ছে। ফলে তাদের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে। কিন্তু তাদেরও বাকি সব মানুষের মতো পরিবার-পরিজন নিয়ে রোগমুক্তভাবে বাঁচার অধিকার রয়েছে।

চিকিৎসকদের সুরক্ষা নিয়ে আব্দুল মাবুদের উৎকণ্ঠা যে অমূলক ছিল না, তার প্রমাণ এরই মধ্যে পেয়েছে ব্রিটেন। দেশটির অনেক চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন, মারা গেছেন বেশ কয়েকজন। আব্দুল মাবুদও সেই তালিকাতে সংযুক্ত হলেন।

মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, ১১ বছরের কন‍্যা ওয়ারিশা, ১৮ বছরের পুত্র ইনতিসার নামে দুই সন্তান রেখে গেছেন। ডা. আব্দুল মাবুদ চৌধুরী ফয়সালের স্ত্রীও একজন ডাক্তার।

আব্দুল মাবুদ চৌধুরীর আদি বাড়ি হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ থানার কামারগাঁওয়ে। তিনি সিলেট ক্যাডেট কলেজের ছাত্র ছিলেন। এমবিবিএস পাস করেছেন চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ থেকে।